শাবুল আহমেদ, প্যারিস (ফ্রান্স)
প্রকাশ : ০৫ নভেম্বর ২০২৪ ২৩:৪৩ পিএম
ফ্রান্সে ই-পাসপোর্ট জটিলতায় চরম বিপাকে পড়েছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা। তথ্য প্রযুক্তির বিশ্বায়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি ই-পাসপোর্টের যুগে প্রবেশ করে বাংলাদেশ। কিন্তু আধুনিক এই সেবাই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে ফ্রান্স বসবাসকারী বাংলাদেশিদের জন্য।
বিশ্বের ৮০টি দূতাবাসের মধ্যে ৪৫টি দেশের বাংলাদেশি দূতাবাসে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম সেবা চালু থাকলেও ইাউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ ফ্রান্সে এখনো কাঙ্খিত এ সেবা চালু হয়নি।
প্রবাসীদের ভোগান্তির গুরুত্বপূর্ণ এ বিষয়কে আলোকপাত করে প্যারিসে ‘ই-পাসপোর্ট জটিলতা সংকটে ফ্রান্সপ্রবাসী বাংলাদেশিরা : সমস্যা-উত্তরণ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক ইউবিএন গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ইউনিভার্সেল বাংলা নিউজের উদ্যোগে প্যারিসের উপকণ্ঠ লাকর্নভে আইছা মিলনায়তনে এ গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ইউবিএনর নির্বাহী সম্পাদক আবু তাহের রাজুর সঞ্চালনায় আয়োজিত বৈঠকে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্যারিসের যুব কাউন্সিলর বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ফরাসি নাগরিক নয়ন এনকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জুনেদ আহমদ, সামাজিক এসোসিয়েশন আইছার সভাপতি উবায়দুল্লাহ কয়েছ, বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্সের সভাপতি এমডি নূর, ফ্রান্স-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি ফেরদৌস করিম আখঞ্জী, নারী উদ্যোক্তা সুলতানা জেসমিন ও ফ্রান্সে বাংলাদেশি পাসপোর্টে তথ্যগত ভুল সংশোধন আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সাহাব উদ্দিন।
বক্তারা ফ্রান্সে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসকে দায়ি করে বলেন, মূলত দূতাবাসের গাফেলতির কারণে আজকে ই-পাসপোর্ট জটিলতায় ভোগান্তির শিকার হাজার হাজার রেমিট্যান্স যোদ্ধা। যাদের শ্রম এবং ঘামে দেশের অর্থনৈতিক চাকা সচল থাকে তাদের প্রতি এমন অবহেলার তীব্র নিন্দা জানায় এবং অনতিবিলম্বে ই-পাসপোর্ট সেবা চালুর জোর দাবি জানাই। অন্যতায় ফ্রান্সে বসবাসরত সকল বাংলাদেশি কমিউনিটিদের নিয়ে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।
বৈঠকে আলোচকরা আরও বলেন, আমরা প্রবাসীরা ভিআইপি, সিআইপি মর্যাদা চাই না; আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার চাই। দেশের নাগরিক হিসেবে জাতীয় পরিচয়পত্র, ই-পাসপোর্ট পাওয়ার পাশাপাশি ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ চাই। একইসঙ্গে হয়রানিমুক্ত বিমানবন্দর এবং প্রবাসীবান্ধব দূতাবাস চাই।