নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৩ আগস্ট ২০২২ ১৫:০৬ পিএম
আপডেট : ০৩ আগস্ট ২০২২ ১৫:৫১ পিএম
ফাইল ছবি
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তুলতে ঐকমত্যে পৌঁছেছে গণঅধিকার পরিষদ ও বিএনপি। একই সঙ্গে দল দুটি একটি অন্তর্বর্তী সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা, নির্বাচন কমিশন (ইসি) পুনর্গঠন এবং ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বাতিল করে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোটগ্রহণসহ মোট ১০ বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।
ড. রেজা কিবরিয়া ও নুরুল হক নূরের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে বুধবার সকালে প্রায় দুই ঘণ্টা সংলাপ শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ কথা জানান।
গণঅধিকার পরিষদ আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া একই অভিমত ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা একই পথে, একই চিন্তায় আছি। বেশির ভাগ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।’
রাজধানীর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুই দলের মধ্যে এই সংলাপ হয়। বেলা ১১টায় বিএনপি মহাসচিব তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে আসেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। এই সরকারকে আর ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া যায় না।
তিনি বলেন, এই সরকার অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে আমাদের সব অর্জন ধ্বংস করে দিয়েছে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের মাধ্যমে একটি দলনিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ জন্য যুগপৎ আন্দোলনের ব্যাপারে আমরা একমত পোষণ করেছি।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রাষ্ট্রকে মেরামত করতে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে একটি জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে।’
গণঅধিকার পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, ‘বর্তমান সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই। আওয়ামী লীগের অধীনে নিবাচন সুষ্ঠু হয়, তা আমরা মনে করি না। এজন্য বর্তমান সরকারকে হটাতে আমরা যুগপৎ আন্দোলনসহ প্রায় ১০টি বিষয়ে একমত হয়েছি।’
বিএনপির প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও মিডিয়া সেলের সদস্য জহির উদ্দিন স্বপন।
গণঅধিকার পরিষদের প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যদের মধ্যে আরও ছিলেন যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদ খান, ফারুক হাসান, কর্নেল (অব.) মিয়া মশিউজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাবিবুর রহমান ও ব্যারিস্টার জিসান মহসিন।
উল্লেখ্য, সরকারবিরোধী আন্দোলনে বৃহত্তর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে বিএনপি গত ২৪ মে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করে। এ পর্যন্ত ১৮টি দলের সঙ্গে সংলাপ শেষ করেছে দলটি। এগুলো হচ্ছে : আ স ম আবদুর রবের জেএসডি, মাহমুদুর রহমান মান্নার নাগরিক ঐক্য, মোস্তফা মোহসীন মন্টুর গণফোরাম, সাইফুল হকের বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি ও জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলন।
২০ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে বিএনপি যাদের সঙ্গে এ পর্যন্ত সংলাপ করেছে, সেগুলো হলো : জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি), ইসলামী ঐক্যজোট, লেবার পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা), জাতীয় দল, মুসলিম লীগ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, সাম্যবাদী দল, ডেমোক্রেটিক দল (ডিএল), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি), ইসলামিক পার্টি, পিপলস লীগ ও ন্যাপ-ভাসানী।
প্রবা/রাই/ম.জ