দীপক দেব
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৪ ১০:০৪ এএম
আপডেট : ২৪ মে ২০২৪ ১০:০৬ এএম
প্রতীকী ছবি
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের আসন বণ্টন ও জোটের প্রার্থীদের সহযোগিতা না করা নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন ১৪ দলের শরিক দলগুলোর নেতারা।
ক্ষোভ প্রকাশ করে নেতারা বলেছেন, জোট রাখতে না চাইলে বলে দিবেন আমরা সম্মান নিয়ে চলে যাব। কিন্তু ডেকে (জোট গঠন) নিয়ে এসে এভাবে হেয়প্রতিপন্ন করবেন না। ছোট দল হলেও আমরা যথাযথ সম্মানটা প্রত্যাশা করি।
এদিকে শরিক দলগুলোকে উদ্দেশ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও জোটনেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন- জানি আপনাদের অনেক ক্ষোভ আছে, অসন্তোষ আছে। তারপরেও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ১৪ দলীয় জোটের দরকার আছে। এখনও আমাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে, এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থেকেই এসব মোকাবিলা করতে হবে। এ সময় ১৪ দলের শরিক দলগুলোকে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকে দৃষ্টি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটায় গণভবনে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকে সূচনা বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপর শরিক দলের নেতাদের নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুরু হলে ১৪ দলের শীর্ষ নেতারা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন। প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলে এই বৈঠক। ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংবাদ নির্বাচনের পর ১৪ দলের নেতাদের নিয়ে প্রথম বৈঠক করলেন শেখ হাসিনা। শরিক দলগুলোর পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই এই বৈঠকের দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছিল।
বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, শুরুতে কথা বলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জোটের সিট বণ্টন ও জোটের প্রার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অসহযোগিতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, রাজশাহীতে (রাজশাহী-২ আসন) এক শীর্ষ নেতার নির্দেশে আওয়ামী লীগের নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্য প্রকাশ্যে কাজ করেছেন। গত তিন নির্বাচনে এই আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন ফজলে হোসেন বাদশা। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে তিনি নৌকা পেয়েও স্বতন্ত্র প্রার্থী ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা শফিকুল ইসলাম বাদশার কাছে পরাজিত হয়েছেন।
এরপর জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু তার বক্তব্যে আসন বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নির্বাচন প্রশ্নে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জোটকে যথাযথ সম্মান দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে তরিকত ফেডারেশন যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তার সুফল ভোগ করছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু ২০২৪ সালের নির্বাচনে তরিকত ফেডারেশনের সঙ্গে যে আচরণ করা হয়েছে সেটা আমরা প্রত্যাশা করি না। আমরা ছোট দল হতে পারি কিন্তু যথযথ সম্মান প্রত্যাশা করি। আমাদের দরকার না থাকলে বলে দিবেন আমরা জোট ছেড়ে চলে যাব। কিন্তু ডেকে নিয়ে এসে এভাবে হেয়প্রতিপন্ন করবেন না। জোটকে আরও সক্রিয় করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আগে জোটের সমন্বয়ক মো. নাসিম জোটের নেতাদের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখতেন। সে তুলনায় বর্তমান সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখেন না।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমির হোসেন আমু ও ওবায়দুল কাদেরকে শরিকদের সঙ্গে সর্বক্ষণ যোগাযোগ রাখতে বলেন।
ফজলে হোসেন বাদশা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটের নেতারা নৌকা পেয়েও পরাজিত হওয়ার পিছনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অসহযোগিতা করেছেন এই বিষয়গুলো মেনন (রাশেদ খান মেনন) ভাই ও ইনু (হাসানুল হক ইনু) ভাই প্রধানমন্ত্রী কে বলেছেন। আজকের বৈঠক ১৪ দল সামনে কীভাবে এগোবে সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা পাওয়া গেছে। চৌদ্দ দল থাকলে সামনে কীভাবে কাজ করবে এসব বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।
এদিকে বৈঠক শেষে গণভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জোটের স্ব স্ব দলকে আরও সংগঠিত এবং জনগণের কাছে জনপ্রিয় করে তুলতে ১৪ দলের নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা দিয়েছেন জোটনেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আজকের বৈঠকে সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে আলোকপাত করা হয়েছে। এ ছাড়া, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে ১৪ দলকে আরও সংগঠিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।অসাম্প্রদায়িক মানবতা বোধকে এগিয়ে নিতে ১৪ দলকে আরও সংগঠিত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।তিনি বলেন, এ বৈঠকের পর ১৪ দলের মধ্যে যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে সেটা থাকবে না।
গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর শরিক দলগুলোকে প্রথমবারের মতো বৈঠকে বসলেন জোটনেত্রী শেখ হাসিনা। নির্বাচনের পর থেকেই জোটের শরিক দলগুলোর পক্ষ থেকে বৈঠকের দাবি জানিয়ে আসা হচ্ছিল। ২০০৮ সালের পর গত চার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আসন সমন্বয় করে শরিক দলের নেতারা নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটে অংশ নিয়েছেন। গত তিন নির্বাচনে জোটের শীর্ষ নেতারা নৌকা নিয়ে নিরাপদে বিজয়ী হয়ে এলেও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে শরিকদের ছেড়ে দেওয়া ৬টি আসনের মধ্যে চারটিতে শরিকরা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন।