উপজেলা নির্বাচন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৪ ২০:০০ পিএম
আপডেট : ২১ মে ২০২৪ ২৩:১৭ পিএম
ওবায়দুল কাদের। ছবি : সংগৃহীত
দ্বিতীয় ধাপেও উপজেলা নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘ভোটার উপস্থিতি মোটামুটি সন্তোষজনক। রক্তপাত ছাড়া বিএনপি আমলে কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়নি।’
মঙ্গলবার (২১ মে) বিকালে ধানমন্ডিতে দলীয় সভাপতির কার্যালয়ে উপজেলা নির্বাচন-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মানুষের আগ্রহ নষ্ট করতেই নির্বাচন নিয়ে বিএনপি, টিআইবিসহ কিছু দেশবিরোধী বুদ্ধিজীবী অপপ্রচার আর মিথ্যাচার করছে।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপি ও তাদের সমমনাদের অবিরাম মিথ্যাচার, এক ধরনের বুদ্ধিজীবীদের অপপ্রচার আছে। টিআইবির অপপ্রচার আছে। আরও কিছু নামিদামি বুদ্ধিজীবী আছে তারা নির্বাচন সম্পর্কে অপপ্রচার-মিথ্যাচার করেছেন মানুষের আগ্রহ নষ্ট করতে।’
ভোটার উপস্থিতি নিয়ে সমালোচনার জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এবং আমাদের বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়, এটা বলা যাবে না। এখানে কিছু সংঘাত, প্রাণহানি ঘটে। যদিও আমাদের ৭ জানুয়ারি নির্বাচনে ক্যাজুয়ালটি নেই।’
তিনি বলেন, ‘ভোটাররা কেন্দ্রে আসেননি এটা যদি বলেন, এটা তো স্থানীয় নির্বাচন, ৭ জানুয়ারি জাতীয় নির্বাচনে ছিল ৪২ শতাংশ। বিএনপি নেতাদের বলব, ১৫ ফেব্রুয়ারির যে নির্বাচন তাতে বিবিসি বলেছিল ৫ শতাংশ ভোট পড়েছে। নির্বাচন কমিশন ২১ শতাংশ। আপনাদের জাতীয় নির্বাচনে ২১ শতাংশও যদি ধরি তাহলে ৩০ শতাংশ এটা কম কিসের? যা ভোট পড়েছে সেটাকে খুব বেশি ভালো বলা যাবে না। বলব মোটামুটি ভালো হয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে টার্ন আউট নিয়ে আমার মনে হয় বেশি কথার বলার প্রয়োজন নেই।’
সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের ওপর ভিসানীতি নয় বরং যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন অ্যাক্ট প্রয়োগ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেটা বলেছে, বাংলাদেশের মিশনকে জেনারেল আজিজের বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে। জেনারেল আজিজের বিষয়ে যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেটা ভিসানীতির প্রয়োগ নয়, এটি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ্রোপ্রিয়েশন অ্যাক্টের প্রয়োগ। এটা নিয়ে আমি আর কিছু বলব না। এটা নিয়ে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রীও কথা বলেছেন। আমরা এটুকুই জানি, এটুকুই বললাম।’
বাকশাল নিয়ে বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাকশাল একক কর্তৃত্ববাদী কোনো দল নয়। এটা জাতির প্রয়োজনে তখনকার বাস্তব অবস্থায় একটি জাতীয় দল। এটা একদলীয় কোনো শাসন নয়। জাতীয় এই দলে নির্বাচনের ব্যবস্থা ছিল। মির্জা ফখরুল সাহেবরা যতই মিথ্যাচার করুক তথ্যপ্রমাণ আছে। জিয়াউর রহমান বিশেষভাবে বঙ্গবন্ধুর কাছে আবেদন করে বাকশালের সদস্যপদ লাভ করেছেন। বাকশালের কমিটিতে ৭১ নম্বরে তার নাম ছিল। মিথ্যাচার করে লাভ নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, মির্জা আজম, সুজিত রায় নন্দীসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।