ডোনাল্ড লুর সফর প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৪ মে ২০২৪ ২০:৪২ পিএম
আপডেট : ১৪ মে ২০২৪ ২০:৫৯ পিএম
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি : সংগৃহীত
কারও ওপর নির্ভর করে গণতন্ত্র আসবে তা মনে করেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার (১৪ মে) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশীয় বিষয়ক সহকারী সচিব ডোনাল্ড লুর সফর সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ডোনাল্ড লু দুই দিনের সফরে মঙ্গলবার বাংলাদেশে এসেছেন। তার এ সফর নিয়ে বিএনপির মনোভাব জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ কারও ওপর নির্ভর করে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে আনবে আমরা তা মনে করি না। বাংলাদেশের জনগণ নিজের শক্তিতে, নিজের পায়ের ওপর ভর করেই ৭০ সালের আগে আন্দোলন করেছে, ৭০-এ আন্দোলন করেছে, ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ করেছে, পরে আমরা যে আন্দোলন করেছি তা জনগণের শক্তির ওপর নির্ভর করে করেছি গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য। সুতরাং এ বিষয়ে আমরা খুব বেশি একটা কথা বলতে চাই না।’
এর আগে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দল গণঅধিকার পরিষদের (নুর) সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে, নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে একটা রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্তমান অবৈধ সরকার, যারা বিনা ম্যান্ডেটে জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে। তাদের বিরুদ্ধে আমরা বিরোধী দল দীর্ঘকাল ধরে সংগ্রাম করে আসছি। আমরা যুগপৎ আন্দোলন করে আসছি। এর মধ্যে দমননীতির চরম পর্যায়ে গিয়ে ডামি নির্বাচন করে আবার ক্ষমতায় এসেছে, জবরদখল করে বসে গেছে বেআইনিভাবে।’
তিনি বলেন, ‘জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রথমে ৩১ দফা এবং পরে আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এক দফা তুলে ধরেছিলাম। এর মূল কথা ছিল- একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করা। সেই লক্ষ্যে কয়েক বছর ধরে যুগপৎ আন্দোলনের ধারায় আন্দোলন করে আসছি। আজকে তারই ধারাবাহিকতায় গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে আলোচনা ছিল।’
ফখরুল বলেন, ‘চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনের জন্য কী ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করা যায়, কীভাবে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছানো যায়, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ, সেই সঙ্গে কর্মসূচি নির্ধারণের জন্য প্রাথমিক আলোচনা আমরা করেছি। একটি বিষয়ে আমরা সবাই একমত হয়েছি। সেটা হচ্ছে, যেকোনো পরিবর্তনের জন্য সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে তরুণ ও যুবসমাজ, ছাত্রসমাজ। সেক্ষেত্রে আমাদের গণঅধিকার পরিষদে যারা আছেন তারা সবাই তরুণ। আমি খুব আশাবাদী, এ আন্দোলনে তাদের জোড়ালো ভূমিকা ছিল। আমি আশা করব, আগামীর গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাদের ভূমিকা অক্ষুণ্ন থাকবে। একই সঙ্গে জনগণকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তারা ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবেন।’
গণঅধিকার পরিষদের (নুর) সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, ‘আন্দোলনের অতীতের বিষয়বস্তু পর্যবেক্ষণ করেছি। সেখানে জনগণের সমর্থন ছিল, উপস্থিতি ছিল, তা রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে সরকার যেভাবে দমন-পীড়ন করছে, আইন-আদালতকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে বিরোধী দল নির্মূল করে একদলীয় শাসন কায়েম করার সরকারের যে অপচেষ্টা, সেটি নিয়ে আমরা সবাই সতর্ক আছি। এই স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে আগামীর রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা পর্যন্ত ৬৩ রাজনৈতিক দলের যুগপৎ আন্দোলন চলবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকারের সব ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে আগামীর আন্দোলন বেগবান করা হবে। সেই প্রস্তুতি আমরা নিচ্ছি।’
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির সদস্য বরকতউল্লাহ বুলু এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতারা।
পরে যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম জোট গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সঙ্গে বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল।
ইতোমধ্যে বিএনপি ১২ দলীয় জোট, সমমনা জোট, এলডিপি, লেবার পার্টির সঙ্গে বৈঠক শেষ করেছে। বুধবার (১৫ মে) গণতন্ত্র মঞ্চ ও গণফোরামের সঙ্গে বিএনপির লিয়াজোঁ কমিটির বৈঠক রয়েছে।