নিসচার মহাসমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৪ ১৮:৫৫ পিএম
আপডেট : ১১ মে ২০২৪ ১৯:১৩ পিএম
রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে নিরাপদ সড়ক চাইয়ের মহাসমাবেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।
সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার সরকার কমাতে চায় জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেছেন, এ লক্ষ্যে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এজন্য নেওয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশ কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।
শনিবার (১১ মে) রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমিতে নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) দশম মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়। এ মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
দুর্ঘটনার জন্য সচেতনতা ও চালকদের প্রশিক্ষণের অভাবসহ কয়েকটি কারণকে দায়ী করে আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যতটা দেখছি, সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ সচেতনতার অভাব। দক্ষ চালকের হাতে যাতে স্টিয়ারিং থাকে, আমরা সেই ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিষয়ে খেয়াল রাখছি। চালকদের প্রশিক্ষণের অভাবও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। গাড়ি চালানো অবস্থায় চালকের মোবাইল ব্যবহার, অপরিকল্পিত ভঙ্গুর সড়ক, ওভার ক্রসিং, অতিরিক্ত গতি, ওভার ব্রিজের স্বল্পতা, ট্রাফিক আইন অমান্য করা, ট্রাফিক পুলিশের গাফিলতিও আমরা মাঝেমধ্যে দেখি।’
নিসচার সঙ্গে যুক্ত সদস্যদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা সেমিনারের মাধ্যমে কোনো রিকমেন্ডেশন দিলে আমরা সেগুলো বিবেচনায় নেব। প্রধানমন্ত্রীর ছয়টি নির্দেশনার পর তিনি আরও ১৭টি নির্দেশনা দিয়েছেন। এগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে। এগুলো বাস্তবায়ন হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশ কমে যাবে বলে আশা করছি।’
নিজের সড়ক দুর্ঘটনার স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘রোড অ্যাক্সিডেন্টে আমার সব আশা স্তম্ভিত হয়েছিল। মহান আল্লাহ আমার এক রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন এবং এ রাজনীতির রাস্তা ওপেন করে দিয়েছিলেন। সেজন্য বোধহয় আমি আজকে এ জায়গায় আসতে পেরেছি।’
‘স্বজন হারানোর বেদনা ইলিয়াস ভাই যেমন বোঝেন, আমরাও তেমন বুঝি। সড়কে কেউ হারিয়ে যাক, সেটা আমরা চাই না। কারও অঙ্গহানি হোক, সেটাও আমরা চাই না। আমরা সতর্কতামূলকভাবে ব্যবস্থা নিতে চাই। আমরা একটা আধুনিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চাই। সেজন্য আমরা সহযোগিতা চাই,’ যোগ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষ আহত হচ্ছে, নিহত হচ্ছে। সড়কে খালি হচ্ছে হাজারো মায়ের কোল। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে বিভিন্ন সময় দাবি করে আসছে নিরাপদ সড়ক চাই। এ বিষয়ে সরকার ২২ অক্টোবর নিরাপদ সড়ক দিবস ঘোষণা করে; যা দেশে গুরুত্ব সহকারে পালিত হচ্ছে। আমরা চাই দুর্ঘটনা কম হোক, দুর্ঘটনায় আর যেন কেউ মৃত্যুবরণ না করে। পৃথিবীর সব দেশে দুর্ঘটনা ঘটে, মানুষের মৃত্যু হয়। বাংলাদেশে যাতে সড়ক দুর্ঘটনা কমে সেজন্যই কাজ করে যাচ্ছি। আইনে গাড়িচালক, হেলপার, মালিক এবং বিভিন্ন ট্রান্সপোর্ট এজেন্সি সবার দায়িত্ব যথাযথভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। যে যেই দায়িত্বে থাকবে তার গাফিলতি হলে কী ধরনের শাস্তি হবে তার সবকিছুই আইনে পরিষ্কার করা হয়েছে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘একটি আধুনিক শহরে ২৫ শতাংশ সড়ক থাকতে হয়। আমাদের দেশের কোনো শহরে ২৫ শতাংশ সড়ক নেই। প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন ঢাকাকে যানজটমুক্ত করার। সেজন্য তিনি এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, মেট্রোরেল, ফ্লাইওভার চালুর ঘোষণা দেন। এগুলো দৃশ্যমান হয়েছে এবং যানজট অনেকখানি হালকা হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালের জুন মাসে ৬ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন। আমরা আশা করছি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়ন হলে সড়ক দুর্ঘটনা কমে যাবে।’
মহাসমাবেশের এ আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন নিসচার চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। নিসচার কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে ধরনের কাজ করছেন, তাতে সুফল আসছে কি না, তা ভেবে দেখবেন। যদি সফলতা না আসে তাহলে আবার ভাববেন। কাজটাকে কীভাবে করলে কাজের সফলতা বেশি হবে।’
মহাসমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী।