প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ মার্চ ২০২৪ ২১:২৮ পিএম
আপডেট : ২২ মার্চ ২০২৪ ২১:৫০ পিএম
মগবাজারে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির অঙ্গসংগঠন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক দলের ইফতার মাহফিলে বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম। প্রবা ফটো
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেছেন, ‘কয়েক বছর ধরে দেশে অপরাজনীতি, জালভোট কালচার, জবাবদিহি ও একদলীয় পদ্ধতির শাসন প্রতিষ্ঠার কারণে দেশের ও জনগণের সমস্যা সমাধান বা দেখার কেউ নেই। সরকার ব্যস্ত শুধু ক্ষমতা ধরে রাখতে। ফলে দেশ ক্রমশ ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে।’
তিনি শুক্রবার (২২ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির অঙ্গসংগঠন গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক দলের ইফতার মাহফিলে এসব কথা বলেন।
কর্নেল অলি বলেন, ‘জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ১৪৩টি দেশে জরিপ করা হয়েছে। তারা সুখী দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে। এতে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৯তম। যা গত বছর ছিল ১১৮তম। এতেই বোঝা যায় বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে আমাদের কোথায় নিয়ে যাচ্ছে।’
অলি বলেন, ‘বর্তমান দেশের বাস্তব অবস্থা কী? শেয়ার মার্কেটের টাকা লুটপাট, ঋণ নিয়ে দেশের বাহিরে টাকা পাচার, সরকারি প্রকল্পের টাকা লুটপাট, যন্ত্রপাতি ক্রয়ের নামে টাকা লুটপাট, ওষুধ কেনার নামে টাকা লুটপাট, সকল প্রকার ক্রয়ের মাধ্যমে টাকা লুট। প্রত্যেকটি কাজের জন্য ঘুষ গ্রহণ, বেসরকারি মেডিকেল কলেজে ছাত্রছাত্রী ভর্তির সময় অতিরিক্ত টাকা আদায়, আমদানি রপ্তানির মাধ্যমে টাকা পাচার, গার্মেন্টসের মাধ্যমে টাকা পাচার, ভালো বদলির জন্য বড় অংকের টাকা ঘুষ দিতে হয়। এমপি পদ পাওয়ার জন্য এবং নির্বাচিত হওয়ার জন্য ঘুষ দিতে হয়। চেয়ারম্যান- মেম্বার হওয়ার জন্য দলীয় গুণ্ডাদের টাকা দিতে হয়, বিচার পাওয়ার জন্য টাকা দিতে হয়। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। অর্ধশিক্ষিত লোকেরা স্কুল-কলেজের সভাপতি, সমাজে নীতি-নৈতিকতা প্রায় ধ্বংস, অনৈতিক কাজ নিত্যদিনের ঘটনা, এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বাদ নেই।’
তিনি বলেন, ‘একজন রাজনীতিবিদকে লোভ লালসার ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। হারাম রোজগার থেকে বিরত থাকতে হবে। ন্যায়পরায়ণ হতে হবে। ন্যায়বিচারক হতে হবে। কারও প্রতি কোনো বৈষম্য করবে না, মানুষকে কষ্ট দেবে না। সকল প্রকার অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে, দেশপ্রেমিক হতে হবে। দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। মিথ্যা কথা বলা বা মিথ্যার আশ্রয় নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। সকল ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। আইন সকলের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে। বিনয়ী হতে হবে, সমাজে একে অপরের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। নিজের বিবেকের কাছে সকলকে জবাবদিহি করতে হবে। সমাজে মনুষ্যত্ব ফিরিয়ে আনতে হবে। সত্যের পথে থাকতে হবে। কঠোর হস্তে দুষ্টের দমন করতে হবে। আল্লাহ ও রাসুলের নির্দেশিত পথে নিজেকে পরিচালিত করতে হবে। এ ছাড়া দেশ কখনও সঠিক পথে আসবে না।’
অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, ‘প্রয়োজন মনুষ্যত্ব ফিরিয়ে আনা, এতে দেশ এগিয়ে যাবে, দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসবে, যুবসমাজের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। মনে রাখবেন এবং বিশ্বাস করতে হবে, আমাদের দেশ গরিব নয়। মনুষ্যত্ব ফিরিয়ে আসলে সবকিছু সঠিক পথে চলবে। বিশ্লেষণ করতে হবে কেন একে একে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আশা করি, শেখ হাসিনা এই সত্যগুলো অনুধাবন করে অনতিবিলম্বে নতুনভাবে সকলের নিকট গ্রহণযোগ্য পন্থায় জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা গ্রহণ করে জাতিকে সঠিক পথে চলার পথ সুগম করবেন।’
গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক দলের সদস্য সচিব কাশেম সিকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামূল বশির, ড. আওরঙ্গজেব বেলাল, অ্যাড. এসএম মোরশেদ, অধ্যক্ষ স্যাকলায়েন, উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান, অধ্যাপিকা কারিমা খাতুন, যুগ্ম মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি, আইন সম্পাদক অ্যাড. আবুল হাসেম, প্রচার সম্পাদক অ্যাড. মফিজুল ইসলাম নিলু, ঢাকা উত্তর এলডিপির সাধারণ সম্পাদক অবাক হোসেন রনি, দক্ষিণের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, গণতান্ত্রিক যুবদলের সভাপতি আমান সোবহান, গণতান্ত্রিক স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি খালিদ বিন জসিম, গণতান্ত্রিক কৃষক দলের সভাপতি এবিএম সেলিম, গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ, গণতান্ত্রিক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মাদ্রাজী, গণতান্ত্রিক আইনজীবী ফোরামের সভাপতি নূরে আলম, গণতান্ত্রিক ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক কাজী কামরুল হাসান প্রমুখ।