রংপুর ব্যুরো
প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১২:২৫ পিএম
আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০২২ ১৩:১০ পিএম
ফাইল ফটো
রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) নিবার্চন আসন্ন। সোমবার (৭ নভেম্বর) তফসিল ঘোষণা করার কথা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের। তাই এই মেয়াদে বিদায় ঘণ্টা বাজছে রসিকের দ্বিতীয় মেয়র মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার। তবে আগামী নির্বাচনেও মেয়র পদে ক্ষমতায় আসতে লড়াইয়ে নামছেন তিনি। যে কারণে রংপুর জাতীয় পার্টির (জাপা) নজর এখন মেয়রের চেয়ারে।
তবে প্রায় ১৪ মাস আগে তিনি পেয়েছেন দলীয় মনোনয়ন। দল থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী তৈরি নিয়ে বিভেদ সৃষ্টির আগেই দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। তাই অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন মেয়র মোস্তফা।
এর মধ্যে জাতীয় পার্টি থেকে মসিউর রহমান রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেওয়া হলে রওশন এরশাদপন্থি দলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও রংপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র একেএম আব্দুর রউফ মানিকের নামে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে প্রচার চালাতে দেখা যায়। এ নিয়ে জটিলতা সৃষ্টির আগেই আব্দুর রউফ মানিককেও দল থেকে বহিষ্কার করেন জিএম কাদের এবং একাধিক সভায় মোস্তফাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
রসিক নির্বাচনের জয়কে অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছে জাতীয় পার্টি। তাই যে কোনো মূল্যে আবারও মেয়রের চেয়ার নিজেদের দখলে রাখতে চাইছে দলটি।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে নিজেদের শক্তি জানান দিতে গত ২৫ অক্টোবর বিকালে পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে মহানগর জাতীয় পার্টি ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। জাতীয় পার্টির প্রতীক লাঙ্গল ও মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার ব্যানার ফেস্টুন নিয়ে নগরী মিছিল করে ওই সম্মেলনে যোগ দেন নেতাকর্মীরা। এতে নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ড থেকে মহানগর জাতীয় পার্টি ও অঙ্গসংগঠনের প্রায় ১৫ হাজার নেতাকর্মী ওই সম্মেলনে যোগ দেন।
পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হওয়ায় ওই সম্মেলনে জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতারা এসে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও জাতীয় নির্বাচনের জন্য নেতাকর্মীদের প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশ দেন। জাতীয় পার্টি নিয়ে ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় রাজপথে রক্ত ঝরানোর মত আন্দোলন করার ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সম্মেলনে রংপুরকে জাতীয় পার্টির দূর্গ উল্লেখ করে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের মেয়র প্রার্থীকে জয়ী করতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন এবং এটি জাতীয় পার্টির অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে ঘোষণা দেন।
ওই সম্মেলনে ফের মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি হিসেবে মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এসএম ইয়াসিরের নাম ঘোষণা করা হয়। মাঠে উপস্থিত নেতাকর্মীরা ওই নেতৃত্বকে স্বাগত জানান।
এদিকে সম্মেলনের পর সিটি করপোরেশনের মেয়রের পদে মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে নিয়ে আসায় একমাত্র লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করেছে মহানগর জাতীয় পার্টি। এ লক্ষ্যে ৩৩টি ওয়ার্ডের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক ও ওয়ার্ডের নেতাদের মেয়র মোস্তফার পক্ষে এখন থেকে প্রচারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নগরীর ৩৩টি ওয়ার্ডে ব্যানার ফেস্টুন লাগিয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফার ৫ বছর মেয়াদে উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। ওয়ার্ড পর্যায়ে যে কোন সামাজিক ও দলীয় রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে মেয়রকে ফের নির্বাচিত করতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এদিকে সম্মেলনের পর দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে মহানগর জাতীয় পার্টি। দলের সৎ, ত্যাগী ও গ্রহণযোগ ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করতে আলোচনা করছেন সংগঠনের শীর্ষ নেতারা। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের পর পুরো সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডগুলোকে কয়েকটি ভাগে বিভক্ত করে নির্বাচনি আগাম প্রচার জোরদার করাসহ নির্বাচনকালীন কাজ করার পরিকল্পনা নিয়েছে মহানগর জাতীয় পার্টি।
জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান ও মহানগর জাতীয় পার্টির নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসির আহমেদ বলেন, মহানগর জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। এখানে ত্যাগ, স্বচ্ছ, পরিশ্রমী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনা হবে। তাদের মাধ্যমে সিটি নির্বাচনের বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে। এতে করে আমরা প্রতিটি ওয়ার্ডে সমানতালে প্রচার চালিয়ে যাবে। এ ছাড়া মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা নগরবাসীর কাছে একজন জনপ্রিয় নেতা। নগরীর একটি ভিক্ষুক থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষ তার দপ্তরে গিয়ে সেবা নিতে পাবে। তিনি বিগত ৫ বছরে রসিকের উন্নয়নে দিন-রাত পরিশ্রম করেছেন। নিজে দাঁড়িয়ে প্রতিটি কাজের গুণগত মান যাচাই করেছেন। শুক্রবারের দিন করপোরেশনের গাড়ি রেখে মোটরসাইকেলে করে নিজে একাই বিভিন্ন উন্নয়নের কাজ পরিদর্শনে বেরিয়ে পড়তেন। সৎ, পরিশ্রমী ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে নগরবাসী মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে নির্বাচিত করে নগরীর উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যহত রাখবেন। নির্বাচনের সময় অন্য দলের লোকজনও আমাদের নির্বাচনে কাজ করবে।
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, আমরা নেতৃত্বে আসার পর মহানগর জাতীয় পার্টিকে ঢেলে সাজিয়েছি। রংপুর নগরীতে মহানগর জাতীয় পার্টির রাজনীতি সব সময় সক্রিয় ছিল। সম্মেলনের পর নেতাকর্মীরা আরও উজ্জীবিত হয়েছে। আমাদের শক্তিশালী ওয়ার্ড কমিটি রয়েছে। সিটি নির্বাচনের পর আমরা নগরীর ৬টি থানায় সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি দেব। এছাড়া বর্তমানে নির্বাচন পরিচালনার জন্য ৩৩টি ওয়ার্ডে ১৯২টি সক্রিয় সেন্টার কমিটি রয়েছে।