প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৪ ১৩:১৮ পিএম
আপডেট : ০৮ মার্চ ২০২৪ ১৪:১৭ পিএম
মহিলা দলের নেতাকর্মীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে র্যালি বের করলে বাধা দিচ্ছে পুলিশ। প্রবা ফটো
বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের র্যালি পুলিশি বাধায় পণ্ড হয়ে গেছে। শুক্রবার (৮ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে মহিলা দলের নেতাকর্মীরা বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে র্যালি করতে জড়ো হন। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে ১১টা ৩৫ মিনিটে র্যালি বের করলে পুলিশের বাধায় তা করতে পারেনি সংগঠনটি।
এ সময় মহিলা দলের নেতাকর্মীরা বলেন, পুলিশ দিয়ে আন্দোলন বন্ধ করা যাবে না। আন্তর্জাতিক নারী দিবস সফল হোকসহ বিভিন্ন স্লোগানে নয়াপল্টন মুখরিত করে তোলেন তারা।
র্যালিপূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন মহিলা দল সভাপতি আফরোজা আব্বাস এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ।
এদিকে মহিলা দলের র্যালি ঘিরে নয়াপল্টন ও আশপাশ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের দেখা গেছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে ছিলেন তারা। এ ছাড়া প্রিজন ভ্যান, জলকামান, এপিসিও রাখা হয়।
মহিলা দল সভানেত্রী আফরোজা আব্বাস বলেন, ‘এটা দুর্ভাগ্যজনক। আজ একটা নারী দিবস। পুলিশ নারীদের একটা শান্তিপূর্ণ মিছিল করতে দিল না। দেশের নারীসমাজ কেমন আছে এটাই তার প্রমাণ। আজ আমাদের শান্তিপূর্ণ র্যালি পণ্ড করে দেওয়ার ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
পুলিশের মহিলা শাখার এডিসি ফারজানা ইয়াসমিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘অনুমতি ছিল সমাবেশের, তারা তা করতে পেরেছেন। বক্তব্য দিয়েছেন, সেখানে আমরা বাধা দিইনি। যতটুকু অনুমতি ছিল, সেটা আমরা করতে দিয়েছি।’
র্যালি কেন করতে দিলেন না—জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘উনাদের বক্তব্য দেওয়ার পারমিশন ছিল, বক্তব্য দিয়েছেন। আজ জুমার সময় গাড়ি চলাচল করছে, এ র্যালি করতে দিলে যানবাহন চলাচলের সমস্যা সৃষ্টি হবে। সেজন্য আমরা সেটা করতে দিইনি। যতটুকু পারমিশন ছিল ততটুকু করতে দিয়েছি।’
বিশ্ব নারী দিবসে দেশের নারীসমাজকে অভিনন্দন জানিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আজ দেশের নারীরা অবহেলিত, নির্যাতিত। আজ তাদের দুরবস্থার কথা বলতে হয়। বাংলাদেশ আজ একটা ধর্ষণের দেশে পরিণত হয়েছে। এমন কোনো দিন নেই, এমন কোনো মাস নেই, এমন কোনো সপ্তাহ নেই দেশের নারীর ওপর নির্যাতন ও ধর্ষণ না চলে।
তার চেয়ে বড় দুঃখের ও কষ্টের বিষয় হচ্ছে, এ ধর্ষণের ব্যাপারে কোনো বিচারের প্রয়োগ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। কারণ ধষর্ণের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের অনেকে জড়িত, তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতারা জড়িত। আরও দুঃখের বিষয়, এ বিষয়ে যারা নারীবাদী হিসেবে পরিচয় দেন, যারা নারীদের পক্ষে কাজ করেন তারা কিন্তু খুব একটা সোচ্চার হচ্ছেন না। কারণ তারাও ভয়ভীতির পরিবেশের মধ্যে আছেন। নারীদের ওপর ধষর্ণের বিষয়ে কেউ মুখ খুলে কথা বলছেন না।’