× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেলে দেশের নাগরিকের মৃত্যুর জন্য সরকার দায়ী : রিজভী

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৫:২১ পিএম

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৫:৪৮ পিএম

সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের অন্য নেতারা। প্রবা ফটো

সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের অন্য নেতারা। প্রবা ফটো

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী বলেছেন, মিয়ানমারের ছোড়া মর্টার শেলে সীমান্তে বাংলাদেশের নাগরিকের মৃত্যুর জন্য সরকারই দায়ী। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট যে দেশের মানুষের নিরাপত্তা, দেশের নিরাপত্তা, দেশের সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী থাকবে এই ধরনের একটি প্রচেষ্টা, এই ধরনের কার্যক্রম আমরা দেখতে চাই। কেন আমাদের দেশের একজন নারী মারা যাবে অন্য দেশের মর্টার শেলের আঘাতে। উপযুক্ত জবাব কোথায়?’

তিনি আরও বলেন, ‘একটা রিটেইন প্রতিবাদ পর্যন্ত সরকার দিতে পারে না। কারণ হচ্ছে দুর্বল সরকার, জনসমর্থনহীন সরকার। দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতি যাদের কোনো অঙ্গীকার নেই। শুধুমাত্র যারা ক্ষমতাকে আঁকড়ে রাখার জন্য রাষ্ট্রশক্তির ওপর নির্ভর করে ক্ষমতা ধরে রেখেছেন তারা এটাই করবে। তারা সকল প্রভুদেরকে ভয় করবে আর দেশের জনগণের ওপরে বন্দুক দেখাবে, ভয় দেখাবে।’

রিজভী বলেন, ‘সরকার তার নিজের ক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য যা কিছু করবে তার কাছে দেশের সার্বভৌমত্ব কিছু না, দেশের মানুষ কিছু না। যে কথাটা গতকাল আমাদের দলের স্থায়ী কমিটির সংবাদ ব্রিফিং থেকে বলেছে তা অবশ্যই সঠিক। রহস্যজনক ভূমিকা না থাকলে যদি সত্যিকার অর্থে জনসমর্থিত সরকার থাকতো তাহলে তার কূটনৈতিক তৎপরতা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সকল প্রস্তুতি আমরা দেখতে পারতাম। আমরা দেখতে পারতাম সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী কী ধরনের ভূমিকা রাখছে। এগুলো খুব স্পষ্ট করে দেখা যেত।’

যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এখানে দুইটা বিষয়, একটা হচ্ছে কূটনৈতিক যুদ্ধ, আরেকটা হচ্ছে সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য সেখানে প্র্যাকটিকাল নিরাপত্তা বাহিনী সেখানে অবস্থানের মধ্য দিয়ে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।  শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে রোহিঙ্গারা এসেছিলে। আসার পর অত্যন্ত ক্ষীপ্ত কূটনৈতিক পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া যখন প্রথমবার ক্ষমতায় আসেন তখনও রোহিঙ্গাদের দ্রুত তৎপরতার মাধ্যমে তার সমাধান করেছেন। নতজানু সরকার যেটা পারে না।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘বিএসএফের গুলিতে বিজিবি মারা গেলেও আওয়ামী লীগ সরকার প্রতিবাদ করার সাহস দেখায় না। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। সেখানে বাংলাদেশের নাগরিকরা চরম নিরাপত্তাহীনতায়। সীমান্তে বাংলাদেশি এলাকায় নারী-পুরুষ কেউ নিরাপদ নয়। জীবন যাচ্ছে মর্টারের শেলে। বাংলাদেশের চারদিকে সীমান্ত এলাকায় এখন রক্তক্ষয়ী খেলা চলছে প্রতিবেশী দেশগুলোর ছোড়া অস্ত্রের আঘাতে। বাংলাদেশের মানুষের জীবন এবং ভূমি এখন অরক্ষিত।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে দলে দলে লোক এবং অস্ত্র বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ হচ্ছে। আর বাংলাদেশ সরকারের অভিসন্ধিপ্রসূত নীরবতা মূলত দেশের মানুষকে নতজানু করার এক গভীর চক্রান্ত। প্রধানমন্ত্রীর শান্তির বাণী এখন দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলেছে। আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রতিদিনই পিছু হটছে আর তাতে বাংলাদেশের মানুষ বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে।’

‘৭ জানুয়ারির নির্বাচন শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ তামাশা’

রিজভী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ৭৫ সালের পর এবারের নির্বাচন সবচেয়ে অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। ইতোমধ্যে ডামি সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও অপতথ্য রোধ জরুরি বলে একটি বক্তব্য দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য যে ডাহা অপতথ্য সেটি রোধ করার ক্ষমতা কি প্রতিমন্ত্রীর আছে? কারণ তথ্য প্রতিমন্ত্রী তো ডামি নির্বাচনে আওয়ামী ডাহা অপতথ্যের প্রোডাক্ট। কারণ অপতথ্য বিতরণ করেই আওয়ামী দখলদার সরকার ক্ষমতা আঁকড়ে আছে। গণতান্ত্রিক বিশ্ব কর্তৃক ধিকৃত, নিন্দিত ও দেশের জনগণ কর্তৃক ভর্ৎসিত ও প্রত্যাখ্যাত নির্বাচনকে শুধুমাত্র ডামি সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও তার মোসাহেবরা ৭ জানুয়ারির নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠু বলেছেন। আর শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ তামাশা হচ্ছে ৭ জানুয়ারির ডামি নির্বাচন।’

‘ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য যাত্রাপালার সংলাপ’

যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী বলেন, রাজনীতি নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য যাত্রাপালার সংলাপের ঢংয়ে সস্তা বিনোদনে ভরপুর। এই ভদ্রলোককে দেখলাম, বর্তমান বিনাভোটের সরকার প্রধানের কাছে লেখা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেনের একটি চিঠি নিয়ে প্রায় হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছেন। কাদের সাহেব বিএনপির প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, এখন আপনাদের সাহসের উৎস কোথায়? কে সাহায্য করবে?

তিনি আরও বলেন, ‘কী খুশি, কী উচ্ছলতা ওবায়দুল কাদের সাহেবের। এখানে জনগণ ফ্যাক্টর না, ফ্যাক্টর হচ্ছে উনার কাছে বিদেশে ধন্যবাদ দিলেন, অভিনন্দন দিলেন বিনাভোটের প্রধানমন্ত্রীকে। ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনার এই উল্লাসেই প্রমাণিত হয়, আওয়ামী সরকারের গণভিত্তি ধসে গিয়ে নেতারা আত্মমর্যাদা হারিয়ে ফেলেছেন। বিএনপির সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস্য দেশের জনগণ।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, কেন্দ্রীয় নেতা শামীমুর রহমান শামীম, আবদুল খালেক, বেলাল আহমেদ, আমিনুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম তেনজিং প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা