প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৪:১৭ পিএম
আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১৪:৩৪ পিএম
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন রুহুল কবির রিজভী। প্রবা ফটো
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলেছে দ্বাদশ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, তবে তারা সরকার টু সরকার কাজ করতে চায় বলে জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে রবিবার ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেনের কাছে সেদেশের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের একটি চিঠি হস্তান্তর করেন। তাতে তিনি বাংলাদেশের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সমর্থনের পাশাপাশি একটি অবাধ ও মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন স্বপ্ন পূরণে অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠায় ঢাকার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিজভী বলেন, ৭ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচনকে আমেরিকা স্বাগত জানায়নি বা স্বীকৃতি দেয়নি। তারা বার বার পরিস্কার করে বলছেন, ৭ জানুয়ারির নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি। তারা সরকার টু সরকার বা জনগণের সঙ্গে কাজ করতে চায়।
তিনি বলেন, রাশিয়া বা চীনের সঙ্গেও তো আমেরিকা কাজ করছে।
অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, নতজানু পররাষ্ট্র নীতির কারণে বাংলাদেশের সীমান্ত অরক্ষিত।
তিনি বলেন, দেশের সমগ্র অর্থনীতিকে ভয়াবহ এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে আওয়ামী ডামি সরকার। গণতন্ত্রহীনতা, সর্বগ্রাসী দুর্নীতি, বিদেশে অর্থ পাচার, মূল্যস্ফীতি, নিম্নমুখী বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, চলতি হিসাবের ঘাটতি, রাজস্ব ঘাটতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিপরীতে টাকার নজিরবিহীন দরপতনে জনগণ আতঙ্কিত। বর্তমানে দেশের অর্থনীতির প্রতিটি প্রধান সূচকের অবস্থান এতটাই শোচনীয়, যা দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে এক মহাবিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। দেশকে ঋণের ফাঁদে ডুবিয়ে দিয়েছে সরকার। অভ্যন্তরীণ ঋণ শোধ করতে ট্যাক্স-ভ্যাট-কর খাজনার পরিধি-আওতা বাড়িয়ে জনগণের গলায় গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করার অবস্থায় নেওয়া হয়েছে।
রিজভী বলেন, বর্তমানে দেশি-বিদেশি ঋণের পরিমাণ বাংলাদেশের দুটি অর্থ বছরের বাজেটেরও বেশি। যে শিশু ভূমিষ্ঠ হচ্ছে আজ তার মাথায়ও প্রায় লাখ টাকার বেশি ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে শেখ হাসিনা। ঋণের টাকায় কানাডার বেগম পাড়া, আমেরিকায় বিলাস বহুল বাড়ি-গাড়ি-ব্যবসা, দুবাই সিঙ্গাপুরে বিনিয়োগ, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমসহ তিন মহাদেশে সম্পদের পাহাড় গড়া হয়েছে। সুইস ব্যাংকে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ কারো কারো নতুন অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হচ্ছে সেটিও অনবগত নয় অনেকের কাছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এই ডামি সরকার নিজেদের মধ্যে ক্ষমতার ভাগ, বাটোয়ারা নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও দেশের অধিকাংশ মানুষের দিন কাটছে অর্ধাহারে অনাহারে। দেশে এই মুহূর্তে মূল্যস্ফীতি ও দ্রব্যমূল্য দুটোই ডামি সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। অপরদিকে ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ এর মতো জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বিপর্যস্ত দেশের কৃষি ও শিল্প খাত। বোরো আবাদের এই ভরা মওসুমে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কৃষকরা চরম হতাশার মধ্যে পড়েছে। নিপীড়ক শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বলে কুইক রেন্টালের নামে রাষ্ট্রের ১ লাখ কোটি টাকার বেশি লোপাট করলেও এখন দেখা যায়, সবই ফাঁকি। সবই ছিল লুটপাট আর টাকা পাচারের ফন্দি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, অধ্যাপক ডা. আবদুল কুদ্দুছ, শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, তারিকুল আলম তেনজিং, শাহ নেছারুল হক, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম প্রমুখ।