প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০২৪ ১৫:৪৭ পিএম
আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৪ ১৬:৩২ পিএম
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। প্রবা ফটো
ভারতের ‘অযাচিত হস্তক্ষেপে’ বাংলাদেশের জনগণ গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার হারিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। সোমবার (২২ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।
রিজভী বলেন, ‘দুদিন আগে পত্রিকায় দেখেছি, ডামি সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ উগান্ডায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে না কি ভারতের সম্পর্ক গভীর থেকে আরও গভীর হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা আংশিক সত্য। সম্পর্ক গভীর হয়েছে, তবে সেটি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে নয় আওয়ামী লীগের সঙ্গে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক গভীর করতে গিয়ে এবং বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ও রাজনৈতিক গতিপথ নির্ধারণে ভারতের অযাচিত হস্তক্ষেপে বাংলাদেশের জনগণ হারিয়েছে গণতন্ত্র, ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং ভোটের অধিকার।’
৭ জানুয়ারির ভোট জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে বলেও দাবি করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, অনেক অনুনয়-বিনয় আর স্বৈরাচারী উগ্র প্রতিমূর্তি ধারণ করেও ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যেতে পারেনি। কারণ জনগণ আগেই টের পেয়েছিল ভোটকেন্দ্রে লোকসমাগম দেখিয়ে সন্ধ্যা বেলায় পূর্ব নির্ধারিত ব্যক্তিদের সংসদ সদস্য হিসেবে নাম ঘোষণা করা হবে। সেটি ভোটের দিন অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হয়েছে।’
রিজভী বলেন, ‘এরা নির্বাচনকে পচেগলে বিকৃত করেছে। আর এই ধোঁকাবাজির নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গত তিন-চার মাস ধরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশবিক নিপীড়ন-নির্যাতন চালানো হয়েছে। শারীরিক নির্যাতনে অনেকেই কারাগারে মারা গেছেন এবং অসংখ্য নেতাকর্মী পঙ্গু হয়েছেন।’
এবারের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়নি বিএনপি। নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করেছে আওয়ামী লীগ। এই নির্বাচনের আগ থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন করে আসছে বিএনপি। আন্দোলন থেকে সহিংসতার জেরে দলের অনেকে নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘এখন অনেকে (নেতাকর্মী) আদালত থেকে জামিন পেলেও কারামুক্তি মিলছে না। জামিনের কাগজ নিয়ে কারাফটক থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও নতুন মামলায় গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। আওয়ামী পুলিশ প্রশাসন বিএনপিসহ গণতন্ত্রকামী দলগুলোর নেতাকর্মীদের জীবন নিয়ে খেলছে। অবৈধ সরকার যেন নিজেদের টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রযন্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর।’
রিজভী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিএনপির বিরুদ্ধে প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তুলেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এখন আওয়ামী সুরক্ষাবাহিনীতে পরিণত হয়েছে। আমি জেলগেটে অনাচার এবং টাকার বিনিময়ে মুক্তির নিশ্চয়তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আজ দেড় দশক ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে ফ্রি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছ থেকে টাকা চুষে নেওয়ার জন্য।’