প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৪ ০৯:২৩ এএম
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৪ ১০:৩৮ এএম
দ্বাদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দল কে হবে তা নিয়ে সংশয় ও অনিশ্চয়তা এখনও দূর হয়নি। তবে এরই মধ্যে বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে জাতীয় পার্টি। এ লক্ষ্যে দলটি আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সভা ডেকেছে। জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় উপনেতার কার্যালয়ে এ সভা হবে বলে জানা গেছে। সভায় জাপার নবনির্বাচিত ১১ জন সংসদ সদস্য অংশ নেবেন।
জাপার এ সভায় সংসদে বিরোধীদলীয় পদ-পদবির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের বিরোধীদলীয় নেতা, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বিরোধীদলীয় উপনেতা এবং মুজিবুল হক চুন্নু বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ হিসেবে মনোনয়ন পেতে পারেন। সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়ন নিয়েও আলোচনা হতে পারে এ বৈঠকে।
জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু জানান, সভায় সংসদীয় দলের নেতা, উপনেতা, হুইপ কারা হবেন তা আলোচনা করে ঠিক করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় সংসদে আমাদের ভূমিকা কী হবে তাও স্থির করা হবে। তিনি বলেন, ‘সংসদীয় সভার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হলে তা স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে জানানো হবে। জাতীয় পার্টি সংসদে বিরোধীদলীয় ভূমিকা রাখবে। কারণ আমরা দ্বাদশ জাতীয় সংসদে দল হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছি। তবে তা নিশ্চিত করার এখতিয়ার স্পিকারের।’
দল হিসাবে জাপা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন (১১টি) পেলেও এবারের সংসদে ৬২ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন। তবে জাপা নেতারা মনে করছেন, বিএনপিবিহীন এই নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এখন স্বতন্ত্রদের দিয়ে বিরোধী দল করা হলে তা আরও বেশি প্রশ্নবিদ্ধ হবে। কেননা স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচিত হয়ে আসা সংসদ সদস্যরা আওয়ামী লীগেরই বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী বা সমর্থক।
জানা গেছে, সরকার গঠনে অন্তত ১৫১ আসনে জয়ী হওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও বিরোধী দলের জন্য আসনের সংখ্যা সংবিধান ও সংসদ কার্যপ্রণালি বিধিতে উল্লেখ নেই। তবে কার্যপ্রণালি বিধিতে বিরোধী দলের স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি স্পিকারের একক এখতিয়ারের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ২ (১) (ট) বিধিতে বলা হয়েছে, ‘বিরোধী দলের নেতা অর্থ স্পিকারের বিবেচনা মতে যে সংসদ সদস্য সংসদে সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চসংখ্যক সদস্য লইয়া গঠিত ক্ষেত্রমত দল বা অধিসংঘের নেতা।’ সে হিসেবে বিরোধী দলের স্বীকৃতি প্রদানের বিষয়টি স্পিকারের একক এখতিয়ারের বিষয়।
‘নির্বাচন সার্বিকভাবে সুষ্ঠু হয়েছে, বলার সুযোগ নেই’
নির্বাচন সার্বিকভাবে ফেয়ার (সুষ্ঠু) হয়েছে এ কথা বলার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। সুনামগঞ্জ ও ময়মনসিংহে ক্ষমতাসীনদের পক্ষে সিল মারার অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে অনেক জায়গায় অনিয়ম হয়েছে। আমার এলাকায় হয়তো ফেয়ার হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় ফেয়ার হয়েছে, আবার কিছু কিছু জায়গায় হয়নি। বিভিন্ন মহল যারা আমাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন যে নির্বাচন ফেয়ার হবে, তারা কথা রাখেননি।’
গতকাল বুধবার বিকালে রাজধানীর বনানীতে জাপা চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। চুন্নু বলেন, আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না পেলেও জনগণের পক্ষে সংসদে উচ্চস্বরেই কথা বলব। সরকারকে জবাবদিহি করার জন্য সংসদে যা যা করা দরকার আমরা তাই করব।’