প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১০:৩৮ এএম
আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪ ১১:০৫ এএম
সদ্যসমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অভিযোগ-বহিষ্কারে টালমাটাল হয়ে উঠেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় চার নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, বিক্ষুব্ধ অনেক নেতার ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এতে আরও বেকায়দায় পড়েছেন শীর্ষ নেতারা।
জাপার বিভিন্ন সূত্র জানাচ্ছে, যারা বিক্ষোভ করেছে, তাদের সবাইকে বহিষ্কার করলে দল দুর্বল হয়ে যাবে। এ চিন্তা থেকে যারা চেয়ারম্যান-মহাসচিবের বিরুদ্ধে ইন্ধন জুগিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এর ফলে বিক্ষুব্ধ অনেক নেতা সুর পাল্টেছেন বলে দাবি করেছেন কয়েকজন নেতা। তারা এ-ও বলছেন, দলের প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জাপা নানা হিসাব কষছে। কারণ বহিষ্কারের তালিকা বেশি দীর্ঘ হলে তারা রওশন এরশাদপন্থিদের সঙ্গে মিলে দলে আরেক দফা ভাঙন সৃষ্টি করতে পারে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এনে কয়েকদিন ধরে ক্ষোভ প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে জাপাতে। বনানীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করার পর কাকরাইলে বিশেষ সভায়ও নির্বাচনে ভরাডুবির জন্য দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবকে দায়ী করেন বিভিন্ন নেতা। মনোনয়ন-বাণিজ্য, স্বেচ্ছাচারিতা, নির্বাচনী ‘বিশেষ ফান্ডের’ টাকা প্রার্থীদের না দেওয়া এবং স্বজনপ্রীতির গুরুতর অভিযোগ আনেন তারা। তবে তা অস্বীকার করে পাল্টা চ্যালেঞ্জ দিয়েছেন জাপার শীর্ষ দুই নেতা।
এমন প্রেক্ষাপটে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তর জাপার আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম সেন্টু এবং ভাইস চেয়ারম্যান ইয়াহইয়া চৌধুরীকে বহিষ্কার করা হয় জাতীয় পার্টি থেকে। এর আগে বহিষ্কার করা হয় কো-চেয়ারম্যান ও সাবেক এমপি কাজী ফিরোজ রশিদ এবং প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়কে। এসব ঘটনার মধ্যে পদত্যাগ করেন দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা এমএন নিয়াজ উদ্দিন। তাছাড়া তৃণমূল পর্যায়েও নেতাদের পদত্যাগের খবর পাওয়া গেছে। তবে এসবের সঙ্গে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টার পদত্যাগের ঘটনার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই বলে দাবি করেছেন জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ভাঙছে, বিএনপিও ভাঙছে, এইটা চলমান প্রক্রিয়া। সব দলের মধ্যে ভাঙন আছে, আবার গড়াও আছে।’
গতকাল সোমবার (১৫ জানুয়ারি) দলের বনানী কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চুন্নু বলেন, ‘সাংগঠনিক নিয়মশৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে বহিষ্কার হতে হয়। নেতা হয়ে জনসমক্ষে এমন মন্তব্য করা অমার্জনীয় অপরাধ।’ তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের ও দলের ব্যর্থতার দায়ভার নিতে আমরা রাজি। কিন্তু তার মানে এই না যে, সবার সমানে এইভাবে কথা বলবেন। একটা অভিযোগ উঠেছে সেটা ঠিক আছেÑ নির্বাচনে আশানুরূপ ফল পাইনি। কিন্তু এর পেছনে বাইরের ইন্ধন আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আসল ব্যথা নির্বাচনের ফলাফল না; তাদের ধারণা আমরা অনেক টাকা পেয়েছি। কিন্তু সেই টাকা তাদের দেওয়া হয় নাই। কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছি, এমন কথা কেউ বলতে পারলে চ্যালেঞ্জ করছি, পদত্যাগ করব।’
টাকা নিয়ে নির্বাচনে আসার অভিযোগ অস্বীকার করে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘এগুলো হলো গসিপিং। অনেকেই মনে করছেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেহেতু আমাদের কথাবার্তা হয়েছে, ২৬টি সিট দিয়েছে। তাদের ধারণা, আমাদের অনেক টাকা দিয়েছে, শত শত কোটি টাকা দিয়েছে... অথচ প্রার্থীদের কেন আমরা টাকা দিলাম না!’ তিনি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলেন, দেশের কোনো লোক যদি বলতে পারে... আমি বা চেয়ারম্যান কারও কাছ থেকে টাকা নিয়েছি, এমনটি প্রমাণ করতে পারলে আমি পদত্যাগ করব।’
এ প্রসঙ্গে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘নির্বাচনের জন্য কাউকে তো ডেকে আনা হয়নি। তখনই বলা হয়েছিল, পার্টি কোনো আর্থিক সহযোগিতা করতে পারবে না। যাদের আগ্রহ ছিল, তারা নির্বাচন করেছেন। এখন এসব করা হচ্ছে ষড়যন্ত্র থেকে।’ তৃণমূলের অমত সত্ত্বেও নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল আমাকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছিল। সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছি। এর বাইরে নির্বাচনে যাওয়ার জন্য আরও কী কী হয়েছিল, সেটা আর বলতে চাই না।’