সংসদ নির্বাচন
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:১২ এএম
আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১০:৩৭ এএম
স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জাতির সামনে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসে টানা চতুর্থবারের মতো সরকার গঠন করতে পারলে মানুষের জীবন-মান উন্নত করার লক্ষ্যে কী কী করা হবে তার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করা হয়েছে ইশতেহারে। ৭ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ক্ষমতাসীন দলটি তাদের এবারের ইশতেহারে রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে ঘুষ-দুর্নীতি উচ্ছেদ, অনুপার্জিত আয় রোধ, ঋণ-কর-বিল খেলাপি ও দুর্নীতিবাজদের বিচারের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়াসহ অবৈধ অর্থ ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ক্ষেত্রে কঠোর হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। একই সঙ্গে দ্রব্যমূল্য সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া; কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও করা হয়।
বুধবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ : উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’ শিরোনামে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার-২০২৪ ঘোষণা করেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ সময় তিনি আসন্ন নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়ে দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, ‘এই মুহূর্তে বাংলাদেশ এক ক্রান্তিকালে দাঁড়িয়ে। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হতে যাচ্ছে দেশ। এই উত্তরণ যেমন একদিকে সম্মানের, অন্যদিকে বিশাল চ্যালেঞ্জেরও। ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার সক্ষমতা থাকতে হবে। একমাত্র আওয়ামী লীগই পারবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে।’
জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে ইশতেহার ঘোষণার মূল অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য দেন ইশতেহার প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক ও দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। বক্তব্য দেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এরপর ভিডিও ডকুমেন্টারি ‘জার্নি টু বাংলাদেশ’ প্রদর্শনের মাধ্যমে টানা ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয় অনুষ্ঠানে। সভাপতির বক্তব্য ও ইশতেহার উপস্থাপন করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপনী টানেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ২০৪১ সালের মধ্যে সুখী সমৃদ্ধ উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণের ক্ষেত্রে এবারের ইশতেহারে ১১টি বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে।
যে ১১ বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে
আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের ১১ অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছেÑ দ্রব্যমূল্য সবার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া; কর্মোপযোগী শিক্ষা ও যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা; আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তোলা; লাভজনক কৃষির লক্ষ্যে সমন্বিত কৃষি ব্যবস্থা, যান্ত্রিকীকরণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ বৃদ্ধি; দৃশ্যমান অবকাঠামোর সুবিধা নিয়ে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি করে শিল্পের প্রসার ঘটানো; ব্যাংকসহ আর্থিক খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা; নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা সুলভ করা; সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় সবাইকে যুক্ত করা; আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকারিতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা; সাম্প্রদায়িকতা এবং সব ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ রোধ করা এবং সর্বস্তরে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা সুরক্ষা ও চর্চার প্রসার ঘটানো।
এ ছাড়া ইশতেহারে ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণ অংশে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার তুলে ধরে আওয়ামী লীগ। এই রূপান্তরের ক্ষেত্রে চারটি স্তম্ভের কথাও উল্লেখ্য করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছেÑ স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট অর্থনীতি, স্মার্ট সরকার ও স্মার্ট সমাজ।
পুস্তিকা আকারে প্রকাশিত নির্বাচনী ইশতেহারের চুম্বক অংশ অনুষ্ঠানে সবার সামনে তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সভাপতি। ইশতেহারে ডিজিটাল থেকে স্মার্ট বাংলাদেশে উত্তরণ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে আমরা প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করছি। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত স্মার্ট সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তুলব।’
দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি
এবারের ইশতেহারে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে। এ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজ থেকে দুর্নীতির মূলোৎপাটন করতে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী মনোভাব গড়ে তোলার জন্য পাঠ্যক্রমে দুর্নীতির কুফল ও দুর্নীতি রোধে করণীয়বিষয়ক অধ্যায় সংযোজন করা হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় সংবিধানের প্রাধান্য, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন সুনিশ্চিত করা হবে।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর অঙ্গীকার
নির্বাচিত হলে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়ানোর অঙ্গীকার করে শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘মানুষের মৌলিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতে আমরা সদা তৎপর। গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে একটি কার্যকর সংসদই পারে কেবল জনগণের স্বার্থরক্ষা করতে। আমরা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করলে রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, সুশাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা আরও সুদৃঢ় করব।’ আইনের শাসন ও মানবাধিকারের পক্ষে আওয়ামী লীগ সব সময়ই সোচ্চার উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সামাজিক বৈষম্য নিরসন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের কাঙ্ক্ষিত শোষণমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করাই আমাদের লক্ষ্য। যেখানে আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা এবং সুবিচার নিশ্চিত হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংরক্ষণ ও মর্যাদা সমুন্নত রাখা হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা এবং কার্যকারিতা সুনিশ্চিত করার ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’
ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হবে
বিদ্যুৎ খাতে ১৫ বছরে যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। ইশতেহারে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের উন্নয়নে যেসব অঙ্গীকার করা হয়েছে সেগুলো হলোÑ নিরবচ্ছিন্ন ও মানসম্মত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা; বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। পর্যায়ক্রমে ভাড়াভিত্তিক ও অদক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রসমূহ বন্ধ (রিটায়ারমেন্ট) করা; পরিচ্ছন্ন জ্বালানি থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। নবায়নযোগ্য ও পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য গ্রিড যুগোপযোগী করা। দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গ্যাস ও এলপিজির সরবরাহ ব্যাপকভাবে বাড়ানো হবে।
প্রত্যেক নাগরিকের ইউনিক হেলথ আইডি
ইশতেহারে বলা হয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ অব্যাহত থাকবে। ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য দেশের প্রত্যেক মানুষের কাছে একটি ইউনিক হেলথ আইডি প্রদান এবং হাসপাতালে অটোমেশন ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ রেখে সর্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চালু করা হবে। স্বাস্থ্য ইনস্যুরেন্স চালু, হেলথি এজিং স্কিমের আওতায় প্রবীণদের অসংক্রামক রোগব্যাধি নিরাময় এবং পুনর্বাসন কেন্দ্র তৈরি করা হবে। দেশে এপিআই অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্ট শিল্প উৎসাহিত করা হবে। অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হবে। সব স্তরে মানসিক স্বাস্থ্য ও অটিজম স্বাস্থ্যসেবা প্রদান অধিকতর কার্যকর করা হবে।
শ্রমিক ও নারীদের অধিকার নিশ্চিতে নানা অঙ্গীকার
ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে আইএলও কনভেনশন এবং আইনে প্রদত্ত শ্রমিক অধিকার ও কল্যাণমূলক শর্তাবলি পালন অব্যাহত থাকবে। নারীর শ্রমে অংশগ্রহণের বাধা দূর করা এবং নারী শ্রমিক সংগঠন সুসংহত করা হবে। পরিবেশবান্ধব গ্রিন শিল্পকারখানা গড়ে তোলা হয়েছে। ট্রেড ইউনিয়ন গঠন ও পরিচালনার অধিকার, কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ, বিধিসম্মত শ্রমঘণ্টা নির্ধারণ, নিয়োগের নিরাপত্তা, কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার জন্য ক্ষতিপূরণ, স্বাস্থ্যসেবা, বাসস্থান, চিত্তবিনোদন এবং শ্রম আইনে নির্ধারিত শ্রমিক কল্যাণ ও অন্যান্য সুযোগ নিশ্চয়তা প্রদান অব্যাহত রাখা হবে।
সাংবাদিকদের জন্য দশম ওয়েজ বোর্ড
গত ১৫ বছরে গণমাধ্যমের ব্যাপক বিকাশ ঘটেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সাংবাদিকরা যাতে নির্যাতন, ভয়ভীতি-হুমকি, মিথ্যা মামলার সম্মুখীন না হন তার ব্যবস্থা করা হবে। ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩’ অনুযায়ী ব্যক্তির গোপনীয়তা ও তথ্য সংরক্ষণ করা হবে এবং অপব্যবহার রোধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে। সাংবাদিকদের জন্য দশম ওয়েজ বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া চলমান বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠনের অঙ্গীকার
সংখ্যালঘুদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন এবং সংখ্যালঘু বিশেষ সুরক্ষা আইন প্রণয়ন করা হবে বলে ইশতেহারে বলা হয়েছে। ধর্মীয় সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ও অনগ্রসর সম্প্রদায়ের জীবন ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আবশ্যক পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখা হবে। কুষ্ঠরোগী, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হবে।
সব ধর্মের শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রতি সম্মান প্রদর্শন
বাঙালি সংস্কৃতির আবহমান ঐতিহ্য ধারণ ও বিশ্ব সংস্কৃতির সঙ্গে মেলবন্ধন রচনার লক্ষ্যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, সংগীত, শিল্পকলা, নাটক, চলচ্চিত্র এবং সৃজনশীল সুকুমার শিল্পের উৎকর্ষ সাধনে পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত রাখবে আওয়ামী লীগ। সব ধর্মের শিক্ষা ও মূল্যবোধের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং সামাজিক সচেতনতা, বিজ্ঞানমনস্কতা, সংস্কৃতিচর্চা ও উদার মানবিক চেতনা সৃষ্টির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হবে। লোকসংস্কৃতি ও লোকঐতিহ্য এবং নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনধারার বৈশিষ্ট্যসমূহ সুরক্ষা করা হবে।
ক্ষমতায় এলে আরও যা করার অঙ্গীকার
ইশতেহারে আরও বলা হয়েছে ক্ষমতায় এলে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত স্মার্ট সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দারিদ্র্যের হার ১১ শতাংশে, চরম দারিদ্র্যের অবসান এবং ২০৪১ সাল নাগাদ দারিদ্র্যের হার ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। ২০৩০ সাল নাগাদ অতিরিক্ত ১ কোটি ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বেকার যুবকদের সর্বশেষ হার ১০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনা হবে। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের বাইরে থাকা ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ যুবকের অনুপাত আগামী পাঁচ বছরে ৭ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা হবে। আগামী পাঁচ বছরে ২ লাখ যুবকের মাঝে ৭৫০ কোটি টাকা যুব ঋণ বিতরণ করা এবং ২ লাখ ৫০ হাজার যুবককে আত্মকর্মী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দেশের রূপান্তর ও উন্নয়নে তরুণ ও যুবসমাজকে সম্পৃক্ত রাখা হবে। শিক্ষিত, দক্ষ, চৌকস ও দুর্নীতিমুক্ত মানুষদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহী করে তোলা হবে। বাজারমূল্য ও আয়ের মধ্যে সঙ্গতি প্রতিষ্ঠা করা হবে। আমদানি ও রপ্তানি বাণিজ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রা সরবরাহে অনিশ্চয়তা লাঘব করবে।
দুর্নীতি, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং সব ধরনের হয়রানির অবসান ঘটানোর কাজ চলমান থাকবে বলে ইশতেহারে বলা হয়েছে। এ ছাড়া শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো এবং তার কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় নারী শিক্ষকের অনুপাত ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি করা হবে। দরিদ্র ও দুর্বলতর জনগোষ্ঠীর সন্তানদের উচ্চ শিক্ষা লাভের সুযোগ আরও প্রসারিত করা হবে। সবার জন্য সমান সুযোগ রেখে সর্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চালু করা হবে। ২০৪১ সাল নাগাদ ১২টি এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ করা হবে। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জন্য নগদ সাহায্য ও বাসস্থান প্রদান কর্মসূচি সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় অসঙ্গতি দূর এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে। কিশোরী ক্ষমতায়নে স্কুলগামী ছাত্রীদের বাইসাইকেল প্রদান অব্যাহত থাকবে।
আরেকবার সুযোগ চেয়ে উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি শেখ হাসিনার
পুস্তক থেকে ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের সরকারের বিগত দিনের উন্নয়ন ও আগামী দিনের প্রত্যাশার কথাও বক্তৃতাতে তুলে ধরেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আন্তরিকতা ও নিষ্ঠা থাকা সত্ত্বেও সরকার পরিচালনা করতে গিয়ে সব সময়ই যে আমরা শতভাগ সফল হয়েছি, এমন দাবি করব না। তবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কথামালার রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়। আমরা যা বলি তা বাস্তবায়ন করি। ২০০৮, ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন তার প্রমাণ।
লিখিত বক্তৃতায় শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশে বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরের সরকার পরিচালনার পথ-পরিক্রমায় যা কিছু ভুলত্রুটি তার দায়ভার আমাদের। সাফল্যের কৃতিত্ব আপনাদের। আমাদের ভুলত্রুটিগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমরা কথা দিচ্ছি, অতীতের ভুলভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে আপনাদের প্রত্যাশা অনুযায়ী ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করব।’
আন্দোলনরত বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস করে ‘নির্বাচন বানচাল করার স্বপ্নসাধ’ কোনোদিনই পূরণ হবে না। জনগণের ম্যান্ডেট পাবে নাÑ এটা বুঝতে পেরে আগে থেকে এবার তারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছে।