প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৫:৪৮ পিএম
আপডেট : ১৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬:১৭ পিএম
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ছবি
‘দেশে সহিংসতা বন্ধে পরিকল্পিতভাবেই বিএনপি নেতাকর্মীদের জেলে আটক রাখা হয়েছে’ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের এমন বক্তব্যকে ‘এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা হরষে’ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ’তার এই বক্তব্যই প্রমাণ করে বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে মামলা-গ্রেপ্তার পূর্বপরিকল্পিত।’
সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ’গতকাল একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন—নির্বাচনকে নির্বিঘ্ন কণ্টকমুক্ত করার জন্যই বিএনপির ২০ হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে জেলে রাখা হয়েছে। বিএনপিকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তারা নির্বাচনে এলে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়া হবে। এমনকি একরাতে সব নেতাকে জেল থেকে মুক্তির প্রস্তাবও তাদের দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিএনপি রাজি হয়নি।’
তিনি বলেন, ’আমরা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মেঘনাদবধ কাব্য থেকে একটি কবিতা পড়তাম। আমাদের পাঠ্য কবিতার প্রথম লাইনটি ছিল—এতক্ষণে অরিন্দম কহিলা বিষাদে। কিন্তু এখানে আমরা একটু পরিবর্তন করে বলতে চাই—এতক্ষণে ড. আব্দুর রাজ্জাক কহিলেন হরষে, অত্যন্ত আনন্দের সাথে। এই হরষের স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশ পণ্ড করে পুলিশ তাণ্ডব-হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে চলমান যত সহিংসতা-মিথ্যা মামলা-গ্রেপ্তার-হুলিয়া-হত্যা-বিএনপিসহ বিরোধী দলের বাড়িঘরে হামলা-তল্লাশি-ভাঙচুর-গৃহছাড়া-আটক-বাণিজ্য সবকিছু শেখ হাসিনার পূর্বপরিকল্পিত।’
রিজভী বলেন, ’শেষ পর্যন্ত এই প্রভাবশালী মন্ত্রী হাটে হাঁড়ি ভেঙে স্বীকার করলেন যে—দেশের আইন-আদালত, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী-প্রশাসন, কোর্ট-কাচারি, বিচার-আচার সবকিছুই আওয়ামী মাফিয়া সরকারের হাতে বন্দি। বিচারব্যবস্থা আর আওয়ামী লীগ একাকার হয়ে গেছে। পৃথক কোনো সত্তা নেই, দেশে কোনো আইন নেই। সবকিছু শেখ হাসিনার ইশারায় চলছে।’
ভারতের এমজে আকবরের বক্তব্য নিন্দনীয়
রিজভী বলেন, ’ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, প্রতিথযশা সাংবাদিক ও লেখক এমজে আকবর বাংলাদেশে এসে মঙ্গলবার (১২ ডিসেম্বর) এক সেমিনার শেষে সংবাদ সম্মেলনে নিশিরাতের ভোট ডাকাত, ১৫ বছর বন্দুকের নলের মুখে জনগণের ঘাড়ে দৈত্যের মতো চেপে বসা গণবিচ্ছিন্ন স্বৈরশাসক শেখ হাসিনাকে স্তুতি আর প্রশংসার বন্যায় ভাসিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন—প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মুক্তি সংগ্রামের নেতা। অত্যন্ত আনন্দের সঙ্গে দেখছি, তার নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ভালোভাবেই এগিয়ে চলেছে এবং গণতন্ত্র শক্তিশালী হচ্ছে। শেখ হাসিনা জাতিকে শুধু উন্নয়নের দিকে নয়, চারটি মাত্রাবিশিষ্ট আধুনিকতার দিকে নিয়ে গেছেন।’
রিজভী বলেন, ’তার বক্তৃতা শুনে তার সম্পর্কে যারা অবগত তারা রীতিমতো বিস্মিত-হতবাক হয়েছে। এমজে আকবরের মতো একজন প্রাজ্ঞ সাংবাদিক এবং তিনি একজন লেখকও বটে… তাদের চোখ যদি এ রকম অন্ধ হয়ে যায় শুধু নিজেদের স্বার্থ রক্ষার্থে একটা জনসমর্থনহীন স্বৈরাচার কত কাণ্ডজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড করছেন। তাহলে এত গুম কে করছে? পৃথিবীর সমস্ত হিউম্যান রাইটস অর্গানাইজেশন একের পর এক মানবাধিকার লঙ্ঘনের রিপোর্ট পেশ করেছে এগুলো কোনো কিছুই কি এমজে আকবর সাহেবের গোচরে আসেনি। উনি যেটাকে শেখ হাসিনার মুক্তি সংগ্রাম বলেছেন সেটা আওয়ামী লীগের মুক্তির সংগ্রাম। তারা কী করে কানাডায় বাড়ি করবে, বেগমপাড়া বানাবে, তারা কী করে সিডনিতে তাদের সেকেন্ড হোম বানাবে... নেতাদের অর্থনৈতিক মুক্তি হচ্ছে শেখ হাসিনার মুক্তির সংগ্রাম। আর এমজে আকবর সাহেব চোখ বন্ধ করে স্তুতি গাইলেন স্বৈরাচারের পক্ষে।’
সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল পালন করুন
রিজভী বলেন, ’এই হরতাল এক দফা দাবি আদায়ের হরতাল। এই দাবি হচ্ছে শেখ হাসিনার পদত্যাগ, এই দাবি হচ্ছে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার প্রতিষ্ঠা করে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন, এই দাবি হচ্ছে অবৈধ তফসিল বাতিল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণ, বিএনপি মহাসচিবসহ হাজার হাজার নেতাকর্মীর মুক্তি। এসব দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত হরতাল হবে।’
তিনি বলেন, ’হরতাল সফল করার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি, দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আমাদের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা এই হরতালে সাহসের সঙ্গে রাজপথে বেরিয়ে এসে শান্তিপূর্ণ হরতাল পালন করবেন। সকলের প্রতি আহ্বান আগামীকাল সর্বাত্মকভাবে হরতাল পালন করুন।’