প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৮:৫৯ পিএম
আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ২০:১৬ পিএম
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ২৯৮ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল আওয়ামী লীগ। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগে আলোচনায় আসে শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি। একসময়ের মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টিকে (জাপা) নিয়ে দ্বিধা থাকলেও ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে সাতটি আসনে সমঝোতা হবে– এমন আভাস বৃহস্পতিবার (১৪ ডিসেম্বর) পাওয়া যায়। যদিও জোট থেকে পাল্টা দাবি করা হয়, আরও কিছু আসন বাড়ানোর জন্য।
রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন নির্বাচন কমিশনে (ইসি) জমা দেওয়া আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, দলটি ২৬৩ আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে। সমঝোতা হয়েছে ৩২ আসনে। উন্মুক্ত রেখেছে পাঁচ আসন।
সমঝোতার বড় অংশ ২৬ আসনে ছাড় পেয়েছে জাপা, ছয় আসনে ১৪ দলীয় জোটের তিন দল। এর মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) তিনটি, ওয়ার্কার্স পার্টি দুটি ও জাতীয় পার্টি-জেপিকে (মঞ্জু) একটি আসনে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ। প্রস্তাবিত আসনের চেয়ে বেশি দাবি করেও কম পাওয়ার বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি ১৪ দলীয় জোট। এ ব্যাপারে তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বৃহস্পতিবার ১৪ দলের কাছে আওয়ামী লীগের মৌখিক প্রস্তাব আসে– সাতটি আসনে ছাড় দিতে রাজি তারা। এর মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টি ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) তিনটি করে, আর জাতীয় পার্টি-জেপির জন্য একটি আসন।
একই দিন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘১৪ দলীয় জোটের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু ভাই প্রাথমিকভাবে সাতটি আসনের নাম প্রস্তাব করেছেন। আমরা ওনাকে বিনয়ের সঙ্গে আসন আরও বৃদ্ধির জন্য বলেছি এবং এটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে আমরা বিনয়ের সঙ্গে ফেরত পাঠিয়েছি।’
যে সাত আসন শরিকদের ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল তার মধ্যে রাজশাহী-২-এ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন মোহাম্মদ আলী। এ ছাড়া বগুড়া-৪-এ হেলাল উদ্দিন কবিরাজ, লক্ষ্মীপুর-৪-এ ফরিদুন্নাহার লাইলি, পিরোজপুর-২-এ কানাই লাল বিশ্বাস, সাতক্ষীরা-১-এ ফিরোজ আহমেদ স্বপন এবং বরিশাল-৩-এ সরদার মো. খালেদ হোসেন মনোনয়ন পেয়েছিলেন।
প্রস্তাবিত সাত আসনের মধ্যে শেষ পর্যন্ত সাতক্ষীরা-১ আসনে সমঝোতা হয়নি। এই আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির মুস্তফা লুৎফুল্লাহ। এ ছাড়া কুষ্টিয়া-২ (হাসানুল হক ইনু-জাসদ), লক্ষ্মীপুর-৪ (মোশারাফ হোসেন-জাসদ) বগুড়া-৪ (রেজাউল করিম তানসেন-জাসদ), বরিশাল-৩ (রাশেদ খান মেনন-ওয়ার্কার্স পাটি), রাজশাহী-২ (ফজলে হোসেন বাদশা-ওয়ার্কার্স পাটি) এবং পিরোজপুর-২ (আনোয়ার হোসেন মঞ্জু) আসনে সমঝোতা হয়েছে।
১৪ দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মুস্তফা লুৎফুল্লাহর ব্যাপারে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। তবে তাদের কাছ থেকে সম্মতি পাওয়া যায়নি।
ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘মুস্তফা লুৎফুল্লাহর ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও শেষ মুহূর্তের এই সিদ্ধান্ত ন্যায়সঙ্গত হয়নি।’