প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৮:১৬ পিএম
সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ।
সভা-সমাবেশের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা অসাংবিধানিক আখ্যায়িত করে তা জনগণ মানবে না বলে মন্তব্য করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা।
রবিবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক সমাবেশে এ কথা বলেন তারা। ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদে’ সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘এ নিষেধাজ্ঞা জনগণ মানবে না। এই নিষেধাজ্ঞা দিয়ে কোনোভাবেই বৈতরণী পার হওয়া যাবে না। সব বাধা অতিক্রম করে, এই সরকারের পতন ঘটিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধমে গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।’
নেতারা সেই লক্ষ্যে আন্দোলন জোরদার করার জন্য তারা জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
সমাবেশে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ও নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে মে চিঠি দিয়েছে তা অসাংবিধানিক ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার বহির্ভূত। মূলত সরকার নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে এই চিঠির ব্যবস্থা করেছে এবং আমরা দেখলাম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চিঠি আসা মাত্রই তা কার্যকর করার জন্য উঠে পরে লেগেছে। ফলে এটা স্পষ্টই প্রমাণিত যে নির্বাচন কমিশন বাস্তবত কেবল সরকারের হুকুমবরদারে পরিণত হয়েছে।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যেই মানুষের কণ্ঠরোধ করে একটি তথাকথিত নির্বাচন করতে চাইছে। হাজার হাজার নেতা কর্মীকে কারাগারে পাঠিয়ে, বাড়ি বাড়ি যেয়ে মানুষকে ভয় দেখিয়ে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে এই তামাশা মঞ্চস্থ করতে চাইছে। একদিকে এই সর্বাত্মক দমন পীড়ন এবং এখন সভা সমাবেশকেও বন্ধ করার উদ্যোগ, এর মাধ্যমে সরকার নিজেরা সরাসরি ঘোষণা না করলেও কার্যত জরুরি অবস্থা জারি করেছে।’
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি)-র সাধারণ সম্পাদক শহদি উদ্দীন মাহমুদ স্বপনের সভাপতিত্বে ও সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন মজুমদার সাজুর সঞ্চালনায় সমাবেশে ব্ক্তব্য দেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, নাগরিক ঐক্যের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল্লাহ কায়সার।
এতে আরও বক্তব্য দেন জেএসডির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট কে এম জাবির, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বাচ্চু ভূঁইয়া, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন এবং নাগরিক ঐক্যের দপ্তর সম্পাদক মুহিদুজ্জামান মুহিদ।