প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:২৭ পিএম
আপডেট : ১১ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৮:৪০ এএম
সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক। ফাইল ফটো
বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান পদ থেকে মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীককে বহিষ্কার করার কথা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামছুদ্দিন পারভেজ। নিজেকে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহাসচিব মুহাম্মদ আবু হানিফকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ঘোষণা দিয়েছেন।
রবিবার (১০ ডিসেম্বর) শামছুদ্দিন পারভেজ সই করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দলের নির্বাহী কমিটির অধিকাংশের মতামতকে তোয়াক্কা না করে অফিস নোটিস ছাড়া যুক্তফ্রন্ট নামে জোটে যোগদান করায় দলের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মো. ইবরাহিম বীরপ্রতীককে বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হলো।
প্রশ্ন উঠেছে, সৈয়দ ইবরাহিমকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য দলের নীতিনির্ধারনী পর্যায়ের কোনো সভা হয়েছিল কি না? কতজন এই সিদ্ধান্তের পক্ষে মত দিয়েছেন? দলের গঠনতন্ত্রের কোন ধারা অনুসরণ করে তাকে বহিষ্কার করা হলো? এসবের কিছুই শামছুদ্দিনের পাঠানো বিবৃতিতে নেই।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দলের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সমন্বয়ে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। পুনর্গঠিত নির্বাহী কমিটির সদস্যদের সিদ্ধান্তে পার্টির মহাসচিব আব্দুল আউয়াল মামুন এবং অতিরিক্ত মহাসচিব আব্দুল্লাহ আল হাসান সাকিবকেও স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়েছে।৪১ সদস্য বিশিষ্ট কল্যাণ পার্টির নতুন কমিটিতে ৫ জন ভাইস চেয়ারম্যান, একজন অতিরিক্ত মহাসচিব, ৮ জন যুগ্ম মহাসচিব, ৬ জন সহকারী মহাসচিব ও ১৯ জন সদস্য করা হয়েছে। নতুন কল্যাণ পার্টি যুগপৎ আন্দোলনে থাকা ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে রাজপথে থাকবে।
সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে শামছুদ্দিন পারভেজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘দলীয় বিধিমালা অনুসরণ করে সৈয়দ ইবরাহিমকে বহিষ্কার করেছি।’ তবে দলের কোন বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট করেননি তিনি।
প্রতিক্রিয়ায় সৈয়দ ইবরাহিম বলেন, ‘গঠনতন্ত্র অনুসরণ করে পদক্ষেপ নিলে ভালো। তবে কল্যাণ পার্টি নামটি ব্যবহারের আগে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক জারিকৃত বিধিমালা সম্পর্কে যেন তারা সবাই অবগত থাকেন।’
বিরোধী জোটের যুগপৎ আন্দোলনে ছিল মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীকের নেতৃত্বাধীন কল্যাণ পার্টি। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে কল্যাণ পার্টির নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা আসে গত ২২ নভেম্বর। দলটির নেতৃত্বাধীন জোট ‘যুক্তফ্রন্ট’ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক। যুক্তফ্রন্টের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ১৫-১৬টির মতো দল। এর মধ্যে রয়েছে মুসলিম লীগ, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর), ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টি, জাতীয় পার্টি (মতিন) প্রভৃতি।
সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সৈয়দ ইবরাহিম বলেছিলেন, নির্বাচনমুখী দল হিসেবে আমরা চিন্তা করছিলাম, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে গেলে সর্বোত্তম হতো। কিন্তু সেটার অনুপস্থিতিতে বিদ্যমান অবস্থায় নির্বাচনে যাওয়া যায় কি না এবং ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্ট সরকারের আস্থার ওপর ভরসা করে আন্দোলনের অংশ হিসেবে যেভাবে নির্বাচনে গিয়েছিল, আমরা সেভাবে যেতে পারি কি না? দলীয় ফোরামে বিষয়টি মূল্যায়ন করলাম। দলীয় সিদ্ধান্ত হলো, নির্বাচনে যাওয়া উচিত।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ১৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে কল্যাণ পার্টি। এর মধ্যে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) এবং আব্দুল আউয়াল মামুন কক্সবাজার-৩ (সদর, রামু ও ঈদগাঁও) আসনে প্রার্থী হয়েছেন।