চট্টগ্রাম অফিস
প্রকাশ : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:২০ পিএম
আপডেট : ০৮ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৯:৫১ পিএম
কারাবন্দি নেতাদের মুক্তি ও সব মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে আগামী ২৯ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।
শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) বিকালে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে এই ঘোষণা দেন দলটির মহাসচিব সাজিদুর রহমান।
তিনি বলেন, অতি অল্প সময়ের মধ্যে মামুনুল হকসহ সব আলেম-ওলামাদের মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় ২৯ ডিসেম্বর সারা দেশ থেকে জনগণ জড়ো হয়ে মহাসমাবেশ করবে।
মহাসমাবেশের তারিখ ঘোষণা করলেও ঢাকার কোন স্থানে তা হবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা।
সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রীস প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এখনো স্থানের বিষয়টি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এই বিষয়ে পরবর্তীতে আলাপ করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
সংগঠনটির নেতারা বলছেন, দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। অনেকদিন ধরে এসব দাবির বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। মহাসমাবেশের আগে দাবি বাস্তবায়ন না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হতে পারে।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক একটি ‘অরাজনৈতিক’ সংগঠন। ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম থেকে এর যাত্রা শুরু হয়। হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রয়াত মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা।
২০২১ সালের মার্চে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সফরের বিরোধিতা করে হেফাজত বিক্ষোভ ও হরতাল ডাকে। সে সময় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামে সহিংসতায় বেশ কয়েকজন নিহত হন। সংঘাতে অর্ধশত মামলার পর সংগঠনটির নেতা মাওলানা মামুনুল হকসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সকল কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে অনেক নেতা মুক্তি পেলেও মামুনুল হকসহ অনেকে এখনও কারাবন্দি। এর মধ্যে গত ৩১ আগস্ট নতুন কমিটি ঘোষণা করে হেফাজত।
২১ সেপ্টেম্বর চটগ্রামের ফটিকছড়ির বাবুনগর মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত একটি সভা শেষে হেফাজত আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবেই কাজ করছিল, সেভাবেই থাকবে। আমরা সরকারের শত্রু নই, বন্ধুও নই। সরকারের কাজ সরকার করুক, আমাদের কাজ আমরা করব। তবে নাস্তিক্যবাদী শক্তি যদি মাথাচাড়া দেয় এবং কুরআন, আল্লাহ, রাসুল (সা.), উম্মাহাতুল মুমিনিন, আসহাবে রাসুল (সা.)-এর শানে কটূক্তি ও ঘৃণা প্রচার করে এবং ইসলামবিদ্বেষ ছড়ায়, আর এ সময় সরকার যদি নিজের পক্ষ থেকে এমন কোনো পদক্ষেপ নেয় যা ইসলামি শরিয়াহ পরিপন্থি, তাহলে ঈমানের তাগিদে আমরা তার প্রতিবাদ করব এবং প্রয়োজনে সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার নিয়ে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। নিঃস্বার্থভাবে সরকারকে নসিহত করা বা সৎ পরামর্শ দেওয়া একটি মহৎ কাজ এবং ঈমানি দায়িত্ব।’
সেদিনও কারাবন্দী নেতাদের মুক্তি ও মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি।
নির্বাচনের আগ মুহূর্তে একই দাবিতে ফের মাঠে নেমেছে সংগঠনটি। তোদের শুক্রবাবের মানববন্ধ ও ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক কঠোর কর্মসূচিতে নামার ইঙ্গিত বলেও আলোচনা চলছে রাজনৈতি অঙ্গণে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মীর ইদ্রীস বলেন, ‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলেতো আর কিছু করার থাকে না। আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে।’
হেফাজত কঠোর কর্মসূচির দিকে এগুচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঈদের আগে নতুন জামা গায়ে দিয়ে ফেললে ঈদের মজা আর থাকে না। ২৯ ডিসেম্বরের পর কী কর্মসূচি আসবে সেটা তখন জানানো হবে। একটু অপেক্ষা করুন।’