× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

অবরোধে বিরতি বিএনপির, সরকারের আচরণ দেখে পরবর্তী কর্মসূচি

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ২১:৩৩ পিএম

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২৩ ২১:৫৪ পিএম

অবরোধে বিরতি বিএনপির, সরকারের আচরণ দেখে পরবর্তী কর্মসূচি

এক মাসের বেশি সময় ধরে ধারাবাহিক হরতাল বা অবরোধ কর্মসূচি দেওয়ার পর বিরতি দিয়েছে বিএনপি। গত নভেম্বরে আট দফায় ১৭ দিন এবং চলতি ডিসেম্বরে দুই দফায় আরও চার দিন অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে দলটি। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল বাতিল ও সরকারের পদত্যাগ দাবিতে বিএনপি এবং তার মিত্র দলগুলোর দশম দফার অবরোধ কর্মসূচি শেষ হচ্ছে শুক্রবার ভোর ৬টায়। এর বাইরে তিন দফায় তিন দিন হরতাল কর্মসূচিও দিয়েছে দলটি।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারবিরোধী পক্ষটি বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) নতুন কোনো কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আগামী রবিবার ঢাকাসহ জেলা পর্যায়ে মানববন্ধন কর্মসূচি রয়েছে। সেখান থেকেই নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির নেতারা। গত সোমবার দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মানবাধিকার দিবসের ওই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এ ব্যাপারে তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসের কর্মসূচি তো রয়ে গেছে। সেদিন নতুন কর্মসূচি আসতে পারে। আলাপ-আলোচনা করে দলের নীতিনির্ধারকরা নতুন কর্মসূচি প্রণয়ন করবেন।’ 

বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, আগামী ১০ ডিসেম্বরের কর্মসূচিকে একটি টেস্ট কেস হিসেবে নিয়েছেন তারা। এতদিন বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা-গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপনে ছিলেন। তা ছাড়া নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন- এমন নেতাকর্মীরাও দলের সিদ্ধান্তেই প্রশাসনের নজরের বাইরে ছিলেন। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় এখন সেই আবশ্যকতাও আর নেই। বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে আসতে চান। এজন্য হরতাল-অবরোধ কর্মসূচির ফাঁকে ফাঁকে বিকল্প কর্মসূচি দিচ্ছে বিএনপি। ১০ ডিসেম্বরের মানবাধিকার দিবসে মানববন্ধন কর্মসূচি এর একটি। এই কর্মসূচি ঘিরে সরকার ও প্রশাসন কী ধরনের আচরণ করে, তা দেখে পরবর্তী কর্মসূচি নেবেন দলের নীতিনির্ধারকরা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আগামী ১০ ডিসেম্বর সরকার কী ধরনের ভূমিকা নেয় তা আমরা দেখব। এর ওপর নির্ভর করবে পরবর্তী কর্মসূচি আমরা দেব।’

এদিকে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের অন্যতম শরিক গণতন্ত্র মঞ্চও আগামী ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ঢাকাসহ জেলা স্তরে মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এদিন তারা ঢাকায় বেলা সাড়ে ১১টায় কারওয়ান বাজারে মানবাধিকার কমিশনের সামনে এই কর্মসূচি পালন করবে বলে জানান মঞ্চের অন্যতম নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘সেদিনের কর্মসূচিকে সরকার কীভাবে পালন করতে দেয় তার ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী কর্মসূচির ধরন কী হবে। সেক্ষেত্রে ১১, ১২ ও ১৩ ডিসেম্বর কর্মসূচি থাকতে পারে।’ তবে তিন দিন কী ধরনের কর্মসূচি থাকতে পারে, সে সম্পর্কে কিছু বলেননি তিনি। গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ১০ ডিসেম্বরের কর্মসূচি যদি সরকার পালন করতে দেয়, তাহলে পরদিন বিকল্প কর্মসূচি আসতে পারে। না হলে হরতাল-অবরোধই থাকতে পারে। 

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১০ ডিসেম্বর মানববন্ধন কর্মসূচি সফল করতে শীর্ষ নেতৃত্ব জেলা ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করেছেন। ঢাকা মহানগর বিএনপির একজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, মানববন্ধনের জন্য অনুমতি চাওয়া হয়েছে। অনুমতি না পেলে গুম হওয়া পরিবারের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ কর্মসূচি পালন করবে, তাতে বিএনপি নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে অনুমতি না পেলে সেখানে বিএনপি সমর্থক পেশাজীবী ও নারী সংগঠনগুলোকে কর্মসূচি পালন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মানববন্ধনের অনুমতির সিদ্ধান্ত এখনও নেয়নি ডিএমপি। গতকাল বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) ড. খ. মহিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, গত ১৫ নভেম্বর তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচন কমিশনকে সহায়তার জন্য সব সংস্থা কাজ করছে। নির্বাহী বিভাগের কোনো সিদ্ধান্তে নির্বাচনে কোনো প্রভাব পড়বে কি না তা বিবেচনায় নিতে হয়। নির্বাচন কমিশনও সার্বিক বিষয় পর্যবেক্ষণ করছে। এ অবস্থায় কোথাও কিছু করতে গেলে নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণকে ডিএমপি স্বাগত জানাবে। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণ ডিএমপি অনুসরণ করবে।

বিএনপি নেতারা বলছেন, মানবাধিকার দিবসের কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া না হলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও বিদেশিদের তা নজরে আসবে। তা ছাড়া ২৮ অক্টোবর ঢাকার মহাসমাবেশে সংঘর্ষের পর নেতাকর্মীরা কোথাও জড়ো হতে পারছেন না। বিএনপির নীতিনির্ধারকরা আশা করছেন, এই মানবাধিকার দিবসের কর্মসূচিতে উপস্থিতির মধ্য দিয়ে সারা দেশে নেতাকর্মীর বড় একটি অংশ প্রকাশ্যে বের হওয়ার সুযোগ পাবেন।

বিএনপি এ ছাড়াও ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস এবং ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস পালন করবে। এই দুই দিন হরতাল বা অবরোধ থাকবে না। জাতীয় দিবস পালনের কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের কীভাবে সম্পৃক্ত করা যায়, সে বিষয়েও নীতিনির্ধারকদের পরামর্শ নিচ্ছেন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। অপরদিকে মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আগামী রবিবার ঢাকার শিল্পকলা একাডেমিতে আলোচনাসভা করার কর্মসূচি দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা