× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

দলবদল ডিগবাজি নয়, সাংবিধানিক অধিকার : শাহজাহান ওমর

প্রবা প্রতিবেদক

প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ১৬:২০ পিএম

আপডেট : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৩ ২২:৪০ পিএম

মিন্টু রোডে ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর।

মিন্টু রোডে ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর।

বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হয়েছেন। দীর্ঘ দিন ধরে রাজনীতি করা দল ছেড়ে হঠাৎ অন্য দলে যোগ দেওয়াকে ডিগবাজি বলতে নারাজ তিনি। এটিকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে মন্তব্য করেছেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।

বুধবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টু রোডে ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান ওমর বলেন, ‘এটাকে ডিগবাজি বলে না কি? এটা সাংবিধানিক অধিকার, আদর্শগত ব্যাপার। সব সময় সবখানে অ্যাডজাস্টমেন্ট করা সম্ভব না-ও হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘এই বৃদ্ধ বয়সে এসে মনে হলো জনগণের জন্য কাজ করি। আমার চাওয়া-পাওয়ার আর কিছু নেই। আমার রাজনীতি করে রুটি-হালুয়া লাগে না, মন্ত্রী হওয়ার দরকার নেই। আমি সব হয়েছি, এই মাটি আমাকে সব দিয়েছে।’

শাহজাহান ওমর বলেন, ‘একটা দল করা আমার সাংবিধানিক অধিকার। দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে বড় বড় রাজনীতিবিদরাও দল পরিবর্তন করে। আমি পাকিস্তান আর্মিতে ছিলাম, শপথ পাঠ করেই অফিসার হয়েছি। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের সময় আগস্ট মাস থেকে দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আমি বরিশাল বিভাগের কমান্ডার ছিলাম। দেশের স্বার্থে পাকিস্তান আর্মি ত্যাগ করেছি। কিন্তু আমি তো পাকিস্তান আর্মির শপথ নিয়েছিলাম, পরে তাহলে পাকিস্তানের সাথে বেইমানি করেছি কিন্তু জনগণের সাথে বেইমানি করতে পারিনি। মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য শেখ মুজিব সরকার আমাকে বীরউত্তম খেতাব দিয়েছে।’

তিনি বলেন, ঈমান একমাত্র আল্লাহর কাছে, বেইমানি তো ধর্মের বিষয়। রাজনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা বেইমানি নয়।

আবারও বিএনপিতে যোগদানের সম্ভবনা আছে কি না– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তওবা, আস্তাগফিরুল্লাহ।’

সরকারের সঙ্গে আপস করে জামিন পেয়েছেন কি না– প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান ওমর বলেন, ‘কাশিমপুরে আপস করে কেমন করে। ২৯ নভেম্বর নরমাল প্রসেসে আমার জামিন হয়েছে। ৩০ নভেম্বর (আওয়ামী লীগে) জয়েন করেছি। জামিন আমার এমনিতেও হতো। ৪ নভেম্বর গ্রেপ্তার হয়েছি, ৬ নভেম্বর সুপ্রিম কোর্টে জামিনের জন্য আমার আইনজীবী দরখাস্ত জমা দিয়েছিল। কিন্তু জামিনটি হলো না। পরের তারিখে গেলাম, তখন আমার আইনজীবী আদালতকে বললেন সাথের তিনজনকে জামিন দেওয়া হয়েছে আমাকে কেন দেওয়া হবে না? এ ছাড়া, আমি চারবারের এমপি, বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। এজন্য আদালত আমাকে জামিন দিয়েছে।’

তার নাশকতার মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান ওমর বলেন, ‘মামলা হতেই পারে, আমি তো ২৮ অক্টোবর ঘটনার দিন মঞ্চে ছিলাম। এটা তো অস্বীকার করতে পারি না। তাই নাশকতামূলক যেকোনো মামলা হতেই পারে। তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পেলে পুলিশ আমার বিরুদ্ধে চার্জশিট দিবে, বিচারের কাঠগড়ায় পাঠিয়ে দিবে।’

ঝালকাঠিতে নিজের নির্বাচনী আসনে সমাবেশে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা মিস আন্ডারস্ট্যান্ডিং ছিল। আমার লাইসেন্স করা পিস্তল আছে, সেটা সেদিন অনিচ্ছাকৃতভাবে সাথে ছিল। আমার সাথে যারা ছিল তারাও সাথে গেল। এ ছাড়া, এটা ফরমাল মিটিংও ছিল না। সেদিন আমি শুধু সবাইকে বলেছি, দল পরিবর্তন করা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা। আমি আওয়ামী লীগে যোগদান করেছি, আমার সঙ্গের সবাই এখন আওয়ামী লীগে। সামনে একসঙ্গে আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করব।’

ইসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এটা ভুল তথ্য। আমার কাছে আচরণবিধি ছিল না, সেটা ইসি থেকে নিয়ে আসছি। সাংবাদিকরা চাইলেই আমার ছবি তুলতে পারেন, কিন্তু অন্তত ন্যূনতম একটু বলা উচিত। তাদের বলেছি লুকিয়ে এদিক-সেদিক থেকে কেন ছবি তুলবেন? তারা একটু কথা বলে যদি ন্যূনতম সৌজন্যবোধ দেখান তাহলেই হতো। এর মধ্যে ওরা জিজ্ঞাসা করছেন আপনি কেন আসছেন? কোনো কথা না বলেই জিজ্ঞাসা করে কেন আসছেন? তারা ১০০ বার বলতে পারেন, কিন্তু ন্যূনতম সৌজন্যতাবোধটা যদি দেখান তাহলে সমস্যা হয় না। কিন্তু কারও সাথে কোনো দুর্ব্যবহার করিনি। সেখানে অনেক সাংবাদিক ছিল, কেমন করে বেরিয়ে যাব সেই চিন্তায় ছিলাম।’

আজ ডিবি কার্যালয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোর্ট থেকে এখানে এসেছি একটা ব্যক্তিগত কারণে। আমি আগে বিএনপি করতাম, এখন আওয়ামী লীগে জয়েন করেছি। এরপর থেকে আমি সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছি। আমার ছেলে-মেয়ে, স্ত্রী এমনকি আমার জুনিয়র আইনজীবীর ফোনে ফোন করে নানান কথা বলা হচ্ছে। সেই বিষয়টিই হারুন সাহেবকে জানাতে আসলাম।’

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর ও কাঁঠালিয়া উপজেলা) আসনে বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ছিলেন ব্যারিস্টার এম শাহজাহান ওমর বীরউত্তম। তিনি সেখান থেকে ধানের শীষ প্রতীকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশের দিনে প্রধান বিচারপতির বাসভবন ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলায় শাহজাহান ওমরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৫ দিন পর কারাগার থেকে ২৯ নভেম্বর সন্ধ্যায় জামিনে মুক্তি পান তিনি। ৩০ নভেম্বর সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছেন, ঝালকাঠি-১ আসন থেকে আওয়ামী লীগ তাকে মনোনয়ন দিয়েছে। দল ছেড়ে নৌকা প্রতীকে নির্বাচনে যাওয়ায় তার এই সিদ্ধান্তে রাজনীতিতে নতুন আলোচনার সৃষ্টি হয়। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা