বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১১:০৩ এএম
আপডেট : ০৫ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:১৯ পিএম
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সুপ্রিম কোর্টসংলগ্ন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা জানান ওবায়দুল কাদের। প্রবা ফটো
নির্বাচন কমিশনের অনুমতি না পাওয়ায় আগামী ১০ ডিসেম্বর বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের বড় সমাবেশ বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে হবে না বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬০তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সুপ্রিম কোর্টসংলগ্ন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর সমাধিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি এ কথা জানান।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস। এই মানবাধিকার দিবসে আমরা বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে একটি বড় সমাবেশ করব। আমাদের এ রকম একটা কর্মসূচি ছিল। এর প্রেক্ষিতে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন করেছিলাম। কিন্তু সে আবেদন তারা গ্রহণ করেনি। বাইরে সমাবেশের নামে শোডাউন হবে বলে আশঙ্কা করছে তারা। যে কারণে ১০ তারিখে আমাদের মানবাধিকার দিবসের আনুষ্ঠানিকতা ভেতরেই পালন করব। বাইরে যে সমাবেশ করার কথা, সেটি আর করছি না। নির্বাচনী বিধির বাইরে আমরা যেতে চাই না।’
হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কাদের বলেন, ‘আজ গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৬০তম মৃত্যুবার্ষিকী। তিনি আমাদের ইতিহাসের রাজপথের এক অকুতোভয় বীর। গণতন্ত্রই ছিল তার সারা জীবনের ব্রত, গণতন্ত্রের জন্য তিনি লড়াই, আন্দোলন, নির্যাতিত, নিগৃহীত হয়েছেন। গণতন্ত্রের কথা বলতে বলতেই তার মৃত্যু হয়েছে। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু কিন্তু স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, অস্বাভাবিকভাবে নিঃসঙ্গ অবস্থায় তার জীবনাবসান হয়। আমরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গণতান্ত্রিক আদর্শকে অনুসরণ করে বাঙালি স্বাধিকার সংগ্রাম আন্দোলন করেছি। স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামে উত্তরণ সেটি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মতো নেতাদের পথ দেখানোর কারণে হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দেশে গণতন্ত্র আছে, গণতন্ত্র থাকবে। দেশে আজ একটি নির্বাচন হচ্ছে, এই নির্বাচনও গণতন্ত্রের প্রাণ। এই গণতন্ত্রের জন্যই আজীবন সাধনা করে গেছেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আমরা তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করছি এবং তার প্রদর্শিত পথ ধরে আমাদের গণতন্ত্রের সংগ্রাম আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব। গণতন্ত্রকে ত্রুটিমুক্ত করে পারফেক্ট ডেমোক্র্যাসি প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নিরলসভাবে লড়াই চালিয়ে যাব। আজকের দিনে এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনার অবদান উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা মনে করি একটি স্বাধীন নির্বাচন ব্যবস্থা এখানে আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। এটা শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অবদান। গণতন্ত্রকে শৃঙ্খলমুক্ত করতে শেখ হাসিনার যে সংগ্রাম সেই সংগ্রাম বৃথা যায়নি। একেবারে ত্রুটিমুক্ত গণতন্ত্র বা পারফেক্ট ডেমোক্র্যাসি পৃথিবীর কোথায় আছে তা জানি না, তবে আমাদের দেশে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য অনেক বাধাবিপত্তির মধ্যেও এগিয়ে যাচ্ছি। এ পথ মসৃণ নয়, এই পথ অনেক জটিল পথ।’
বিএনপির আন্দোলনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক সাম্প্রদায়িক শক্তি কিন্তু গণতন্ত্র সমর্থন করে না। যারা আজকে গণতান্ত্রিক একটি নির্বাচনকে বয়কট করছে, প্রতিহত করার জন্য অবরোধ ডাকছে, হরতাল ডাকছে, এরা তো গণতন্ত্রের শক্তি নয়। আজকে গণতন্ত্রের যে লড়াই শুরু হয়েছে এর পরিপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লড়াই আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে শুরু হয়েছে। এই লড়াইকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যাব, ক্রমেই গণতন্ত্র পরিপূর্ণ হবে, ত্রুটিমুক্ত হবে।’