বাছির জামাল
প্রকাশ : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ ০৯:৪৬ এএম
আপডেট : ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ ১২:৪৩ পিএম
বিএনপির মহাসমাবেশ। ফাইল ফটো
সংসদ নির্বাচনের পথে দেশ আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল। তফসিল অনুযায়ী গতকাল বৃহ্স্পতিবার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। আর এর মধ্য দিয়ে কার্যত বিএনপিসহ বেশ কয়েকটি দলের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়ে গেল। এই পরিস্থিতিতে আন্দোলনের ভিন্নতর কৌশল নির্ধারণের চিন্তাভাবনা করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।
গতকাল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের মিত্র দলগুলো সারা দেশে সকাল-সন্ধ্যার হরতাল পালন করে। বিকালে এক যৌথ সভায় তারা নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে এর তফসিল বাতিলের দাবি জানায়।
প্রসঙ্গত, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সর্বশেষ দিন আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারিত আন্দোলনের প্রথম পর্বে বিএনপির নেতৃত্বাধীন দলগুলোর দফায় দফায় হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে। এরপর শুরু হবে আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব, যা ৭ জানুয়ারি ভোটের দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের শেষ দিনের পর বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল দ্বিতীয় পর্বে কী কর্মসূচি দেবে, তা নিয়ে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে কৌতূহল দেখা দিয়েছে।
আলোচনায় দ্বিতীয় পর্বের সম্ভাব্য কর্মসূচি
বিএনপি ও যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দ্বিতীয় পর্বে কী ধরনের কর্মসূচি আনতে চায় তা নিয়ে এখনও বিএনপি ও তার শরিক দলগুলো আলোচনা করছে। এক্ষেত্রে হরতাল-অবরোধের বাইরে বিক্ষোভ, সমাবেশ, ঘেরাও, পদযাত্রা ইত্যাদি কর্মসূচি আলোচনায় আছে। আগামী তিন সপ্তাহ এমন কর্মসূচি চলতে পারে। এই সময়ের মধ্যে রাজধানীতে নারী সমাবেশ, যুব সমাবেশ, শ্রমিক সমাবেশ ও ছাত্র সমাবেশ করার কথাও ভাবছেন আন্দোলনকারীরা। জনগণ যাতে নির্বাচনমুখী না হয়, সেজন্য প্রচার কার্যক্রমও অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। এ ছাড়া কারাবন্দি, গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীর স্বজনদের নিয়ে সারা দেশের জেলা শহরেও পর্যায়ক্রমে মানববন্ধন আয়োজনের চিন্তাও রয়েছে বিএনপি ও তার মিত্রদলগুলোর। এসব মানববন্ধন থেকে জেলা ও দায়রা জজ বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হবে। তবে বর্তমানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ছাড়া কেন্দ্রসহ তৃণমূলের অনেক নেতাই প্রকাশ্যে আসতে পারছে না। এমন প্রেক্ষাপটে বিকল্প কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিকল্প পথও খুঁজছেন তারা।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে গণতন্ত্র মঞ্চ
এ ব্যাপারে গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘রবিবার থেকে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ আছে। এর মধ্যেই আমরা নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করব, নতুন করে আর কী কী কর্মসূচি নেওয়া যায়। পুরো পরিস্থিত আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলগুলোসহ বৈঠক করেছি। একতরফা নির্বাচনের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। আমাদের সঙ্গে ঐক্যে নেই, আবার নির্বাচনে যায়নি এমন দলগুলোকেও যুগপৎ আন্দোলনে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হবে।’
এ ব্যাপারে গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, ‘হরতাল-অবরোধের বাইরে কর্মসূচিতে ‘ভেরিয়েশন’ আনার চিন্তা চলছে। আমরা বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার কর্মকৌশল নির্ধারণ করছি। নতুন কর্মসূচি অচিরেই ঘোষণা করা হবে।’
নির্বাচন প্রত্যাখ্যান, তফসিল বাতিলের দাবি
সংসদ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে এর তফসিল বাতিলের দাবি জানিয়েছে বিএনপিসহ এক দফার ভিত্তিতে যুগপৎ আন্দোলনের শরিক রাজনৈতিক দলসমূহ। গতকাল বিকালে রাজধানীর তোপখানা রোডের শিশুকল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে এক যৌথসভায় এ দাবি জানানো হয়। জাতীয় পার্টির সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে এ বৈঠক হয়।
এ প্রসঙ্গে নাগরিক ঐক্যের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিব আনোয়ারের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘নির্বাচনের তফসিলকে আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা অনতিবিলম্বে ৭ জানুয়ারি ঘোষিত নির্বাচনী তফসিল বাতিলের দাবি জানাচ্ছি। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকরী রাজনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
এ সভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত চৌধুরী, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের (নুর) সভাপতি নুরুল হক নুর, এনপিপি চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী হাসনাত কাইয়ূম প্রমুখ।
মনোনয়নপত্র জমার পর তফসিল পেছানোর নজির নেই
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, গতকাল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পর রাজনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা এখন মোটামুটি শূন্যের কোঠাতে। কারণ দেশে জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে এর আগে যতবার তফসিল পেছানো হয়েছে, ততবারই সেটি ঘটেছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার আগে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন পেরোনোর পর তফসিল পেছানোর নজির নেই। যদিও নির্বাচন বিশেষজ্ঞ আব্দুল আলীম মনে করেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরও নির্বাচন কমিশন চাইলে সে সময় বাড়াতে পারে। কিন্তু অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে কমিশন নির্বাচনের পথেই এগোচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এখনও বিএনপির সিনিয়র নেতাদের অনেকেই কারাগারে। তাদের মুক্তি দেওয়ারও কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গত বুধবার বিকালে জামিন পাওয়ার পর সন্ধ্যায়ই কারাগার থেকে মুক্তি পান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর-উত্তম। তিনি পরদিন বৃহস্পতিবার বিএনপি থেকে পদত্যাগ করে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নিজ এলাকা ঝাালকাঠি-১ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর পরপরই তাকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আবার ওই দিন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন (আলাল) ও খায়রুল কবীর খোকনের জামিন আবেদন নাকচ হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নির্বাচনে যাওয়ার কোনো পরিবেশ নেই বলেই মনে করছেন বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান মনে করছেন, রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মুক্তি দিয়ে সরকারের উচিত ছিল সংলাপের উদ্যোগ নেওয়া। তিনি জানিয়েছেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদ ভেঙে দিলে আগামী এপ্রিল মাস পর্যন্ত দ্বাদশ নির্বাচনের সময় পাওয়া যাবে। তবে তফসিল হয়ে যাওয়ায় আর সময় নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে সংলাপের ব্যাপারে অনীহা দেখানো হয়েছে। বিএনপি মনে করছে, সরকার বিএনপিকে ছাড়াই নির্বাচন করতে চাইছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু’র চিঠিতে উল্লিখিত সংলাপের প্রস্তাবও তারা প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে।
হরতালে যানবাহনে আগুনসহ ককটেল বিস্ফোরণ
দুই দিন বিরতি দিয়ে আগামী রবিবার থেকে আবার ৪৮ ঘণ্টার অবরোধের ডাক দিয়েছে বিএনপি। জাতীয় নির্বাচনের ইস্যুতে এটি তাদের আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় হরতাল-অবরোধের নবম দফা কর্মসূচি। গতকাল বিকালে এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, সরকারের পদত্যাগ ও নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, খালেদা জিয়া, মির্জা ফখরুল ও দলের সব নেতাকর্মীর মুক্তিসহ এক দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এবং তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর ডাকে আগামী রবিবার ভোর ৬টা থেকে মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত মোট ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি পালিত হবে।
এদিকে গতকাল সারা দেশে পালিত হয়েছে সকাল-সন্ধ্যা সর্বাত্মক হরতাল। তবে রাজধানীতে হরতালের তেমন কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। ভোর থেকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, গুলিস্তান, পল্টন, গাবতলী, মিরপুর, ধানমন্ডি, ফার্মগেট, বাংলামোটর এলাকায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে বেড়েছে যানবাহনের সংখ্যাও। তবে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা তুলনামূলক কম ছিল। রাজধানীর কোনো কোনো স্থানে যানজটও দেখা গেছে।
সরেজমিন দেখা যায়, সকাল থেকে রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে বেশ কয়েকটি কোম্পানির দূরপাল্লার বাস ছেড়ে গেছে। যাত্রী কিছুটা কম থাকায় সেগুলো সময়ের চেয়ে দেরিতে ছেড়েছে।
সরকার পতনের এক দফা দাবিতে রাজধানীতে গত ২৮ অক্টোবরের সমাবেশ থেকেই অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলো। অবরোধের সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে হরতাল। এসব কর্মসূচিতে প্রায়ই বিভিন্ন যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৯টি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। বিক্ষোভ ও ঝটিকা মিছিল করেছে বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বহিনীর গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গতকাল মানিকগঞ্জ সদর এলাকায় যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় বালিয়াখোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি খন্দকার মাসুদুর রহমান প্রিন্স এবং জয়পুরহাট সদর এলাকা থেকে বিএনপিকর্মী মোক্তাদুল হক আদনানকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গাড়ি ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২৮ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও নাশকতার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে মোট ৭০৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানান, ২৮ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর সকাল ৬টা পর্যন্ত মোট ২৩৬টি অগ্নিসংযোগের (কয়েকটি স্থাপনাসহ যানবাহনে) সংবাদ পেয়েছে ফায়ার সার্ভিস। গত ৩৬ ঘণ্টায় পাওয়া গেছে ৯টি যানবাহনে আগুন লাগানোর খবর। এর মধ্যে ঢাকা সিটিতে তিনটি, রাজশাহীতে একটি, বগুড়ায় একটি, কুমিল্লায় তিনটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় একটি কন্টেইনার, পাঁচটি বাস ও দুটি ট্রাক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফায়ার সার্ভিস আরও জানায়, গতকাল দুপুর ১টার দিকে রাজধানীর জিপিও মোড় এলাকায় শিকড় পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।
এদিকে গতকাল বেলা ৩টার দিকে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় সেগুনবাগিচায় ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ওই কার্যালয়ের কর্মী মো. জুয়েল বলেন, ‘হঠাৎ আমাদের অফিসের পকেট গেটের বাম পাশের কড়ই গাছের ওপরের দিকে বিকট শব্দ হয়। এরপরই চারপাশে ধোঁয়া দেখা যায়। এ সময় উপস্থিত সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।’ ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সাবিরুল ইসলাম জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিনে বেলা ৩টা পর্যন্ত ৫৩টি মনোনয়ন ফরম জমা পড়ে। এরই মধ্যে বিকট শব্দ শোনা যায়। পরে জানতে পেরেছি, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। রমনা থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
কুমিল্লায় তিন বাসে আগুন
গত বুধবার রাত ৩টার দিকে কুমিল্লায় দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ওসি আলমগীর হোসেন ভূঁইয়া।
বগুড়ায় ট্রাকে আগুন, ককটেল উদ্ধার
বগুড়ায় পেট্রোল ঢেলে একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার মধ্যরাতে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের বনানীতে এ ঘটনা ঘটে। শাজাহানপুর থানার ওসি শহীদুল ইসলাম বলেন, বগুড়ার শিবগঞ্জে আলুর বীজ নামিয়ে ট্রাকটি সিরাজগঞ্জ যাচ্ছিল। বনানীতে ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত গতিপথ রোধ করে ট্রাকটিতে ভাঙচুর চালায়। চালক ট্রাকটি ঘুরিয়ে পালানোর সময় সেটি পাশের গর্তে পড়ে যায়। তিনি সহকারীকে নিয়ে পালিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা পেট্রোল ঢেলে ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেয়।
বোয়ালখালীতে গাছ ফেলে পিকেটিং
গতকাল হরতালের সমর্থনে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার অলি বেকারি নামক স্থানে সড়কের ওপর গাছ ফেলে পিকেটিং করেন উপজেলা ও পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতারা। তারা সরকারবিরোধী স্লোগান দেয়। বোয়ালখালী থানার ওসি আছহাব উদ্দিন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ সরিয়ে দিলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
রামপালে বাসে আগুনের ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০
গত মঙ্গলবার রাতে মোংলা বাসস্ট্যান্ডের সামনে একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় পুলিশ বুধবার রাতে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করে। এর মধ্যে ৮ জন বিএনপির নেতাকর্মী বলে জানা গেছে। রামপাল থানার ওসি এসএম আশরাফুল আলম জানান, গাড়ির মালিক এজাহার দাখিলের পর অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল তাদেরকে বাগেরহাটের আদালতে পাঠানো হয়েছে।