সম্ভাব্য প্রার্থীর কথা
সাজ্জাদুল ইসলাম
প্রকাশ : ২৩ নভেম্বর ২০২৩ ১১:৪৮ এএম
আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৩ ১১:৫৫ এএম
আমিনুল ইসলাম আমিন। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন। ছাত্ররাজনীতি থেকে শুরু করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ে উঠে আসা এই নেতা বলছেন, তৃণমূলের নেতাকর্মীরা তার সঙ্গে আছেন। দল মনোনয়ন দিলে যেকোনো পরিস্থিতিতে বিজয়ী হয়ে আসার ব্যাপারেও তিনি আত্মবিশ্বাসী। প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে আলাপকালে সম্ভাব্য এই প্রার্থী কথা বলেছেন তার প্রত্যাশা ও পরিকল্পনা নিয়ে-
প্রবা : মনোনয়ন পাওয়ার ব্যাপারে আপনি কতটা আশাবাদী?
আমিনুল ইসলাম আমিন : আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে মনোনয়ন দেবেন, সেটাই চূড়ান্ত। এর বাইরে কোনো কথা নেই। যিনি নৌকা পাবেন আমি তার পক্ষেই কাজ করব। রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি বিশ্বাস করি, কেন্দ্রীয় নেতা বা বড় কিছু হলেই কাউকে দলীয় মনোনয়ন দিতে হবে এমন কোনো নিয়ম নেই। দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে দলের প্রতি প্রার্থীর ত্যাগ-অঙ্গীকার, নৈতিকতা ও আদর্শ এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়গুলো প্রধান বিবেচনার বিষয়। বিশেষ করে চট্টগ্রামের মতো জায়গায় দলীয় ভোটে এমপি হওয়ার সুযোগ নেই। এখানে এমপি হতে হলে সর্বস্তরের ভোটারের ভোট পেতে হবে। অর্থাৎ সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে। সেই বিবেচনায় আমি নিজেকে যোগ্য প্রার্থী বলে মনে করি।
প্রবা : কী কারণে প্রার্থী হতে চান?
আমিনুল ইসলাম আমিন : ১৯৮১ সাল থেকে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করছি। জামায়াত-শিবির অধ্যুষিত চট্টগ্রামে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করতে গিয়ে নির্যাতন সইতে হয়েছে, জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়েছে। সেসব মোকাবিলা করে রাজনীতি অব্যাহত রেখেছি। ওয়ান-ইলেভেনে নেত্রী (শেখ হাসিনা) গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার মুক্তি আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করেছি, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এবং দলের প্রতি নিজের অকুণ্ঠ সমর্থন ও আস্থার প্রমাণ দিয়েছি বারবার। সেসব বিবেচনা করে বঙ্গবন্ধুকন্যা আমাকে রাজনৈতিকভাবে মূল্যায়ন করে কেন্দ্রীয় কমিটিতে জায়গা দিয়েছেন। তার প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা। এবার দলের সমর্থন ও ভোটারদের ভোট পেয়ে জনগণের জন্য আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চাই।
প্রবা : রাজনৈতিক ভূমিকার কথা বললেন, কিন্তু নির্বাচনী এলাকার জনগণের জন্য এমন কী করেছেন যেজন্য তারা আপনাকে নিজেদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন?
আমিনুল ইসলাম আমিন : আমার নির্বাচনী এলাকা চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলাকে ২০০৩ সালে জামায়াত-শিবির মৃত্যু উপত্যকা বানিয়েছিল। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষÑ কেউই তাদের হাত থেকে রেহাই পায়নি। সেসময় দলের নেতাকর্মীদের সাহস জুগিয়েছি, জামায়াত-শিবির মোকাবিলা করেছি এবং জনগণের জন্য কাজ করেছি। ২০১৪ সালে জামায়াতের তাণ্ডবে তখন এই জনপদ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল, তখনও আমি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে মাঠে ছিলাম। এর বাইরে বিপদে-আপদে সব সময় আমি এলাকার মানুষের পাশে ছিলাম। বন্যা, জলোচ্ছ্বাসসহ সব দুর্যোগে আমি জনগণের পাশে ছিলাম, আছি।
প্রবা : মনোনয়ন পেলে জয়ী হওয়ার ব্যাপারে কতটা আত্মবিশ্বাসী আপনি?
আমিনুল ইসলাম আমিন : মনোনয়ন পেলে যেকোনো পরিস্থিতিতে অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে এই আসনটি জননেত্রী শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে পারব। আমি নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষ বঞ্চিত হবে না।
প্রবা : এমপি হওয়ার সুযোগ হলে এলাকা ও স্থানীয়দের উন্নয়নে কী কী করবেন?
আমিনুল ইসলাম আমিন : প্রথমে এলাকার মানুষকে সুন্দর-স্বচ্ছন্দ একটি জীবন উপহার দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করব। আওয়ামী লীগের ২০৪১ সাল পর্যন্ত যে রূপকল্প তা বাস্তবায়ন করতে পারলেই সবার জীবনমান উন্নত হবে। স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সমাজ ও স্মার্ট ইকোনমি তৈরি হবে। এ কাজে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে চাই। সেখানে এলাকার শিক্ষিত বেকার তরুণদের কাজে লাগিয়ে অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার মতো ইতিবাচক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।