প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ নভেম্বর ২০২৩ ২২:০৫ পিএম
রাজধানীর পুরানা পল্টনে মুক্তিভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাম জোটের নেতারা। প্রবা ফটো
একতরফা নির্বাচনের চিন্তা পরিহার করে সমঝোতা ছাড়া নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা না করার জন্য নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানিয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। এছাড়া তারা দেশের জনগণকে সংঘাত-সংঘর্ষের হাত থেকে রক্ষার জন্য অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বলেছেন এবং নির্দলীয় তদারকি সরকারের রূপরেখা আলোচনা শুরু করারও আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আগামী শুক্রবার শহীদ নূর হোসেন ও আমিনুল হুদা টিটো দিবসে ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক’ দাবিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাম জোট। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত দেশব্যাপী বাম জোটের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ বিক্ষোভ অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে মুক্তিভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বামজোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির জাহিদ। বক্তব্যে বলা হয়, নির্বাচনের গ্রহণযোগ্য পরিবেশ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হওয়ায় সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বরং নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার জনমত ও বিরোধী দলসমূহের দাবি উপেক্ষা কারে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে, যা নির্বাচনের পরিবেশকে বিঘ্নিত করে নির্বাচনকে অনিশ্চিত করে তুলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, নির্বাচন নিয়ে যে সংকট ও আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে, শান্তিপূর্ণ উপায়ে তা নিরসনের উদ্যোগ না নিয়ে সরকার গ্রেপ্তার-দমন-পীড়নের পথ বেছে নিয়ে একতরফা নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, যা দেশকে আরও গভীর সংকটে নিক্ষেপ করবে। নির্বাচন কমিশনও গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না থেকে সাংবিধানিক বাধ্য-বাধকতার কথা বলে সরকারের তল্পিবাহক হিসেবে একতরফাভাবে তফসিল ঘোষণার পাঁয়তারা করছে, যা দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতকে অগণতান্ত্রিক পথে ঠেলে দেবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলা হয়, একতরফা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে ওই দিনই বাম জোটের পক্ষ থেকে দেশব্যাপী বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হবে। একই সাথে পরদিন থেকে হরতাল-অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচি পালনের জন্য জোটের নেতা-কর্মী ও সর্বস্তরের গণতন্ত্রকামী জনগণকে প্রস্তুত থাকার জন্য বলা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মো. শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাসদের (মার্কসবাদ) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির শহীদুল ইসলাম সবুজ ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক পার্টির নির্বাহী সভাপতি আব্দুল আলী প্রমুখ।