প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর ২০২২ ১৪:২১ পিএম
আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২২ ১৯:১৯ পিএম
জাতীয় প্রেস ক্লাবে রবিবার সকালে আলোচনা সভায় মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ দলীয় নেতাকর্মীরা। ছবি : প্রবা
জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের উদ্দেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, নৈতিকতা থাকলে জি এম কাদেরের উচিত পদত্যাগ করা। নয়তো দেশের আনাচেকানাচে ছড়িয়ে থাকা দলের নেতাকর্মীরা তাকে জুতা পেটা করে দেশ থেকে বের করে দেবে।
রওশন এরশাদপন্থি নেতারা রবিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘উপজেলা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।
জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ ও দলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের নাম মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে জাপার বর্তমান চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের বিরুদ্ধে।
রাঙ্গা বলেন, ‘জিএম কাদেরের জাতীয় পার্টি কখনও মূলধারা নয়। এটা এখন ব্যবসায়ী পার্টি হয়ে গেছে। আপনারা মূলধারায় ফিরে আসেন। আজকে আপনারা অনেকে সংশয়ের মধ্যে রয়েছেন। সংশয়ে থাকবেন না। জিএম কাদেরদের আমরা আঁস্তাকুড়ে নিক্ষেপ করব।’
রাঙ্গা বলেন, ‘আজকে জিএম কাদের আওয়ামী লীগ নাকি বিএনপির সঙ্গে জোট বাঁধবেন তা নিয়ে নানা শর্ত দিচ্ছেন। কাকে মনোনয়ন দেবেন, কাকে দেবেন না তা নিয়ে চলছে টাকার খেলা। দলটা এখন জাতীয়তাবাদী ব্যবসায়িক দল হয়ে গেছে।’
মসিউর রহমান রাঙ্গা অভিযোগ করেন, ‘দলে এখন প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয় না। জিএম কাদের চেয়ারম্যানের পদে আসার পর এরশাদের অনুসারীদের দল থেকে বের করে দিচ্ছেন।’
জাতীয় পার্টির বর্তমান মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু কদিন আগে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্যদের এক সভায় বলেছেন, দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক রওশন এরশাদের পদ আলংকারিক। কার্যত সাংগঠনিক কোনো ক্ষমতা তার নেই।
দলের গঠনতন্ত্রের ২০(ক) ধারায় বলা হয়েছে, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হবেন। তিনি একক ক্ষমতাবলে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
রাঙ্গা বলেন, ‘গঠনতন্ত্রের এ ধারা সংশোধন করে আমরা বলেছি রওশন এরশাদ দলের ফ্ল্যাগ বহন করবেন। দলের চেয়ারম্যান তার পরামর্শেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। রওশন এরশাদকে দলের প্রধান করে সংশোধিত গঠনতন্ত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো। তাতে মহাসচিব হিসেবে আমার স্বাক্ষর ছিল। কিন্তু সেই সংশোধিত গঠনতন্ত্র নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলো না।’
জিএম কাদের ও তার অনুসারীদের উদ্দেশে রাঙ্গা বলেন, ‘৩০ অক্টোবর বেগম রওশন এরশাদ পার্লামেন্টে বিরোধীদলীয় নেতার ভাষণ দেবেন। আপনাদের শক্তি থাকলে ঠেকান।’
জাতীয় পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের কেউ রওশন এরশাদের সঙ্গে নেই—মহাসচিব চুন্নুর এ কথার বিরোধিতা করে রাঙ্গা বলেন, ‘মাত্র তিনজন এমপি ছাড়া কেউ নেই জিএম কাদেরের সঙ্গে। কাউন্সিলেই তা প্রমাণিত হবে। ওই কাউন্সিলেই জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা জিএম কাদেরকে অর্ধেক আস্তাকুঁড়ে নিয়ে যাবেন। বাকি অর্ধেক আস্তাকুঁড়ে নিয়ে যাব আমি।’
জাতীয় পার্টির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কাউন্সিলের মাধ্যমে জিএম কাদেরকে আজীবনের জন্য বিদায় করে দেবেন জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।’
কাজী মামুনুর রশীদ বলেন, ‘বেগম রওশন এরশাদ চিকিৎসার জন্য যখন বিদেশে গেলেন, তখন তাকে মৃত ঘোষণা করে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিতে শুরু করেছিলেন জিএম কাদের অনুসারীরা। জিএম কাদের এক দিনের জন্যও অসুস্থ বেগম রওশন এরশাদের খবর নেননি। ম্যাডাম যখন খুব অসুস্থ তখন তারা দলবল নিয়ে কক্সবাজারে আনন্দ-উল্লাস করেছেন।’
তিনি জিএম কাদেরের উদ্দেশে বলেন, ‘নৈতিকতা থাকলে জিএম কাদেরের উচিত পদত্যাগ করা। নয়তো দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা দলের নেতাকর্মীরা তাকে দেশ থেকে বের করে দেবেন।’
২৬ নভেম্বর রওশন এরশাদ জাতীয় পার্টির দশম কাউন্সিল অধিবেশন আহ্বান করেছেন। ওই সম্মেলনের প্রস্তুতি কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে এ সভায় যোগ দেন জাপার সাবেক মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক কাজী মামুনুর রশীদ ও এসএমএম আলম। জাপার সাবেক সংসদ সদস্য জিয়াউল হক মৃধা, রংপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আবদুর রউফ মানিক, সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ফখরুজ্জামান জাহাঙ্গীর, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম নূরুসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রবা/রাই/জেও