× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

চাপ সামলাতে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি আওয়ামী লীগের

দীপক দেব

প্রকাশ : ০৪ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:১০ পিএম

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২৩ ১৫:১২ পিএম

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিএনপির ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ কর্মসূচি কার্যত ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগ নেতারা। সেটাকেই আপাত স্বস্তির বিষয় ধরে নিলেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে নানাপক্ষের নানামুখী তৎপরতার কারণে নিজেদের পুরোপুরি নির্ভার ভাবতে পারছেন না ক্ষমতাসীন দলের দায়িত্বশীল অনেকেই। নেতাকর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে যদিও নিজেদের চাপমুক্ত অবস্থানের কথা প্রকাশ্যে বলে যাচ্ছেন, আদতে দলটির কেন্দ্রীয় নেতাদের অনেকের মতে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের কথা বলে সরকারকে চাপে ফেলতে বিএনপি ও তাদের দেশি-বিদেশি মিত্ররা যথেষ্ট মাত্রায় সক্রিয় রয়েছে। ২৮ অক্টোবরের পর তারা থেমে গেছেÑ এমনটা মনে করা যাচ্ছে না। বরং নির্বাচন বানচালের সব চেষ্টাই চালিয়ে যাবে বিরোধীপক্ষ। যার কিছু আলামতও দেখা গেছে। এজন্য তফসিল ঘোষণার আগে বা পরে সরকারকে নানাভাবে চাপে ফেলার চেষ্টা চলতেই থাকবে বলে যে আশঙ্কা রয়েছে সেটি কখনোই উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। এমন পরিস্থিতি মাথায় রেখেই নিজেদের যা কিছু করার তার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে দলের পক্ষ থেকে। আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 

নির্ভরযোগ্য দলীয় সূত্রের মতে, সরকারের ওপর নির্বাচনকেন্দ্রিক সাম্ভাব্য সব রকমের চাপ সামলাতে কূটনৈতিক অঙ্গনে দলীয় ও সরকারি তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ২৮ অক্টোবরের ঘটনাবলি নিয়ে বিএনপির দিকে ঝুঁকে থাকা পক্ষগুলোকে সমালোচনার মুখে ফেলতে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম থেকেও কথা বলা শুরু হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা জানান, দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়াও শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা ও সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের পক্ষ থেকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করার অঙ্গীকার করা হয়েছে। এমনকি নির্বাচন নিয়ে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকগুলোতে এই বিষয়টি বারবার বলা হয়েছে সরকার ও দলের পক্ষ থেকে।

আওয়ামী লীগ মনে করে, নির্বাচন ঠেকানোর সব চেষ্টাই করবে বিএনপি। এমনকি নির্বাচনকে বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ করতে ২০১৪ সালের মতো বর্জনের কৌশলও নিতে পারে তারা। আর বিএনপির এমন চিন্তাধারা এবং আন্দোলনের নামে তাদের সহিংসতার উদাহরণগুলো এরই মধ্যে বিদেশি কূটনীতিক ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের অবহিত করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

গত ৩০ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় বিদেশি কূটনৈতিক মিশন, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সামনে সহিংসতার বর্ণনা, ক্ষতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের রাষ্ট্রদূতসহ ৪৫টি কূটনীতিক মিশনের রাষ্ট্রদূত বা প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। ওই দিন সরকার ও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কূটনৈতিক তৎপরতার বিষয়গুলো জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়েছেÑ এমন তথ্য দিয়ে দলের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপিকে সুবিধা করে দিতে চাওয়া বিভিন্ন পক্ষের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে সজাগ রয়েছে সরকার ও আওয়ামী লীগ। এরই অংশ হিসেবে ৩০ অক্টোবর সরকারের পক্ষ থেকে বিদেশি কূটনৈতিক ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের কিছু বিষয় অবহিত করা হয়েছে। এ ছাড়া পরদিন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ। সেখানেও ২৮ অক্টোবর ও তার পরবর্তী সময়ে বিএনপির কর্মসূচি থেকে চালানো সহিংসতার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। দলীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, কূটনৈতিক মহলকে এসব বিষয় অবহিত করতে অনানুষ্ঠানিকভাবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এসব কাজে অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কয়েক নেতা। 

চাপে নেই আওয়ামী লীগÑ দাবি নেতাদের

এদিকে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এরই মধ্যে নতুন ভিসানীতি ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ পর্যায়ের কূটনীতিক এরই মধ্যে বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। তবে সবচেয়ে বেশি তৎপরতা দেখাচ্ছেন দেশটির রাষ্ট্রদূত পিটার হাসকে। তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশাপাশি সরকারের দায়িত্বশীল মন্ত্রী ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে চলেছেন। সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালের সঙ্গে দেখা করতে যান পিটার হাস। সাক্ষাৎ শেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশে উদ্বেগ প্রশমন এবং একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথ খুঁজতে সব পক্ষ শর্তহীন সংলাপে বসবে। পিটার হাসের সেই প্রস্তাব নিয়ে মতামত জানতে চাইলে সংলাপের বিষয়টি ওই দিনই নাকচ করে দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যেভাবে পিটিয়ে পুলিশ হত্যা করা হয়েছে, এরপর খুনিদের সঙ্গে কীসের বৈঠক? খুনিদের সঙ্গে কীসের আলোচনা?’ 

এই প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর অন্যতম সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ শুক্রবার (৩ নভেম্বর) প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমরা তো চাপ অনুভব করছি না। চাপ অনুভব করলে আমাদের নেত্রী (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলনে এই কথা বলতেন না যেÑ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেন যেদিন ট্রাম্পের সঙ্গে সংলাপে বসবেন সেদিন আমিও বসব। তার মানে কোনো চাপ নেই। চাপ থাকলে এভাবে বলতে পারে নাকি!

ক্ষমতাসীন দল হিসেবে নির্বাচন সামনে রেখে বিদেশিদের দিক থেকে কোনো চাপ অনুভব করছেন কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদ প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, আমাদের ওপর কোনো চাপ নেই। আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। 

বিএনপি নির্বাচনে না এলে কোনো চাপ তৈরি হবে কি নাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচন সংবিধান অনুযায়ী যথাসময়েই হবে। বিএনপি আসবে কি আসবে না সেটা তাদের বিষয়। এখানে আমাদের কিছু বলার নেই। আর জনগণ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। সেটাই হচ্ছে আমাদের শক্তি। চাপ অনুভব করলে ’৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন করা সম্ভব হতো না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে নির্বাচন নিয়ে দেশি-বিদেশি তৎপরতার বিষয়গুলো নিয়ে নেতাকর্মীদের সজাগ ও সতর্ক থাকার নির্দেশ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের পক্ষ থেকে দেওয়া হচ্ছে নিয়মিত। সম্প্রতি ঢাকা মহানগরের এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান দলীয় নেতাকর্মীদের বিদেশিদের কথায় কান না দিয়ে নির্বাচনের প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, আপনারা ঐক্যবদ্ধভাবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিন। বিদেশিরা কী বলে, আমেরিকা কী বলে, ভিসানীতি কী বলেÑ সেটা আমরা পরোয়া করি না। আমাদেরও ভিসানীতি রয়েছে। সুতরাং আমেরিকার ভিসানীতিকে আমরা ভয় করি না। ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের সময়ও এই আমেরিকা আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের ভয় দেখিয়েছিল সপ্তম নৌবহর পাঠাবে বলে। সেদিন সপ্তম নৌবহরের কেয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধারা করেননি। তারা বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছেন। 

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা