প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর ২০২৩ ২১:৫২ পিএম
আপডেট : ৩১ অক্টোবর ২০২৩ ১৪:১১ পিএম
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ছবি : সংগৃহীত
দেশে কঠোর কর্তৃত্ববাদের প্রভুর শাসন চলছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ‘দেশ এখন ক্রমান্বয়ের প্রভু ও দাসের রেখা দ্বারা বিচ্ছিন্ন। এখানে ব্যক্তির স্বয়ংসম্পূর্ণতা হওয়া সম্ভব নয়। কঠোর কর্তৃত্ববাদের প্রভু শেখ হাসিনা গোটা দেশকে পরাধীন করেছে। এই পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে জনগন এখন দৃঢ় সংকল্প বদ্ধ।’
সোমবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন তিনি। ভার্চুয়াল এই সংবাদ সম্মেলনে দলের স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আদর্শ ও ন্যায়ের সংগ্রাম কখনো পরাজিত হয় না। চক্রান্তকারী নিষ্ঠুর আওয়ামী সরকারের পতন অত্যাসন্ন। গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো, নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে চলমান আন্দোলন মামলা-হামলা-গ্রেপ্তার করে কখনোই থামানো যাবে না।’
এই অবস্থায় বিএনপিসহ সমমনা রাজনৈতিক দলের ঘোষিত দেশব্যাপী সড়ক-রেল-নৌ পথ অবরোধ কর্মসূচি সফল করার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
পরিকল্পিত সন্ত্রাস করছে আওয়ামী লীগ অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘গত ২৮ অক্টোবর থেকে আওয়ামী পরিকল্পিত সন্ত্রাসের অনেক দৃশ্যের ভিডিও এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হচ্ছে, এর বিভিন্ন ফুটেজ নানাভাবে দেখা যাচ্ছে। সায়েদাবাদ থেকে লাঠিসোঠা নিয়ে পুলিশ প্রটেকশন প্রধান বিচারপতি বাসভবনের গেইটে আক্রমণ ও ভাঙচুর করতে দেখা গেছে। যারা হাতে লাঠি নিয়ে প্রধান বিচারপতি বাসভবনের গেইটে ভাংচুর করছে, এদের সাথেই কিন্তু পুলিশরা রয়েছে।’
টার্গেট কিলিং করছে আওয়ামী লীগ দাবি করে তিনি বলেন, ‘আবার সেই পুরনো টার্গেট কিলিং করা হচ্ছে। রাজশাহীতে দুই ডাক্তার একজন এমবিবিএস ডাক্তার, আরেকজন পল্লী চিকিৎসক; দুইজন এক রাত্রিতেই নিহত হয়েছেন। তারা একটি রাজনৈতিক সংগঠনের এলাকার নেতা। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের কুমিল্লা জেলার মোকাম ইউনিয়নের নেতা জাকির হোসেনকে পুলিশ ধাওয়া করে; এ সময় সে মারা যায়। কেন্দ্রীয়ভাবে পরিকল্পনা করে এসব কাজগুলো করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘নিপীড়ন-নির্যাতনের ধারাবাহিকতায় একদিকে মিথ্যা মামলার হিড়িক, আরেকদিকে গণহারে গ্রেপ্তার। আর অন্যদিকে চলছে সাজা দেওয়ার হিড়িক। গত জাতীয় নির্বাচনের ঢাকা-১০ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শেখ রবিউল আলম রবিসহ ১০ জনকে একধারায় দুই বছরের কারাদণ্ড ও আরেক ধারায় ৬ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।’
তিনি এসব মামলার তীব্র নিন্দা ও সাজা প্রত্যাহারের দাবি জানান।