× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

নিহত পুলিশ সদস্যের শিশুকন্যার প্রশ্ন, আমার বাবা কই

প্রবা প্রতিবেদক (ঢাকা ও টাঙ্গাইল)

প্রকাশ : ২৮ অক্টোবর ২০২৩ ২৩:০৭ পিএম

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০২৩ ২৩:৪৭ পিএম

নিহত পুলিশ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম মোল্লা ওরফে পারভেজের শিশুকন্যা তানহা। প্রবা ফটো

নিহত পুলিশ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম মোল্লা ওরফে পারভেজের শিশুকন্যা তানহা। প্রবা ফটো

আমার বাবা কই, আমার বাবা কই…চোখেমুখে আতঙ্ক নিয়ে কাঁদছিল নিহত পুলিশ সদস্য মো. আমিরুল ইসলাম মোল্লা ওরফে পারভেজের শিশুকন্যা তানহা।  শনিবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসে আট বছর বয়সী তানহা বলছিল, ‘কী হয়েছে আমার বাবার?’ এ প্রশ্নের উত্তরে সবাই নির্বাক।

গতকাল রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির সামবেশে দায়িত্ব পালনের সময় পারভেজকে নৃশংসভাবে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। স্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে মেয়েকে হাসপাতালে আসেন স্ত্রী রুমা আক্তার। কিন্তু মরদেহ মর্গে থাকায় তখনো স্বামীকে দেখতে পারেননি তিনি। এ সময় আর্তনাদ করে রুমা আক্তার বারবার বলছিলেন, আমার স্বামী কই আছে? একবার দেখতে দিন। পাশে থাকা তানহাও কেঁদে কেঁদে বলছিল, ‘আমার বাবা কই?’ মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিল শিশু তানহা।

'আমিও আমার স্বামীর সঙ্গে যেতে চাই। কী দোষ ছিল ওর? কিসের জন্য মরল?' ডিউটিতে যাওয়ার সময় মেয়ে ঘুমিয়ে থাকায় তাকে আদরও করে যেতে পারেননি পারভেজ। আর কোনো দিন বাবার আদর পাবে না একমাত্র মেয়ে। চোখের পানি ছেড়ে কথাগুলো বলছিলেন রুমা আক্তার। বার বার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন তিনি। একদিকে স্বমীর মৃত্যুশোকে কাতর অন্যদিকে বাকি জীবন। তিনি বারবার বলছিলেন, ‘ছোট মেয়েটাকে নিয়ে এখন কোথায় যাব?'

পারভেজ তার স্ত্রী রুমা আক্তার ও আট বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে রাজধানীর শাহজানপুরে বসবাস করতেন। তানহা মতিঝিল কলোনি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিলেন আমিরুল ইসলাম। এখন বাবার মৃত্যুতে মুখ থুবড়ে পড়েছে তানহার ভবিষ্যৎ। পারভেজের শ্যালক সবুজ মিয়া জানান, পারভেজের বাবা মুক্তিযোদ্ধা সেকান্দার আলী মোল্লা। তার বাবা-মা রয়েছেন। যাদের দেখাশুনা করতেন পারভেজ।

পারভেজের বাড়ি টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়নের ফয়েজপুর গ্রামে। চাকরির সুবাদে স্ত্রী-সন্তানসহ রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় থাকতেন। পারভেজ ২০০৯ সালে পুলিশে যোগ দেন। তারা দুই ভাই। তার বাবা-মা ও ভাই থাকেন গ্রামে। ছেলের মৃত্যুতে বাবা-মা নির্বাক হয়ে পড়েছেন। তবে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন পারভেজের একমাত্র বোন শেফালী আক্তার। 

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার দপ্তিয়র ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এম ফিরোজ সিদ্দিকী প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানান, পারভেজের বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর উপজেলার ছিল। নদীভাঙনে তাদের বসতভিটা হারিয়ে গেলে তারা পাশের দপ্তিয়র ইউনিয়নের ফয়েজপুর গ্রামে বসবাস শুরু করেন। ফয়েজপুরে বসবাস করলেও এখনও তারা দৌলতপুরের ভোটার।

টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়সার প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ওই পুলিশ সদস্যের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে ঢাকায় জানাজা হবে। এরপর মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে আনা হবে। নিহতের পরিবার যেভাবে চাইবে সেভাবে হবে। পুলিশ তার পরিবারের পাশে দাঁড়ানোসহ সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মরহুমের শোক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছি।’

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা