× ই-পেপার প্রচ্ছদ সর্বশেষ বাংলাদেশ রাজনীতি দেশজুড়ে বিশ্বজুড়ে বাণিজ্য খেলা বিনোদন মতামত চাকরি শিক্ষা আজকের কার্টুন ফিচার সকল বিভাগ ছবি ভিডিও লেখক আর্কাইভ কনভার্টার

তিন রাজনৈতিক কর্মসূচি

উৎকণ্ঠায় রাজধানীবাসী, কী হবে কাল

আরিফুল ইসলাম মিঠু

প্রকাশ : ২৭ অক্টোবর ২০২৩ ২২:০৬ পিএম

আপডেট : ২৭ অক্টোবর ২০২৩ ২৩:১৩ পিএম

তিন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: ফোকাস বাংলা

তিন রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ছবি: ফোকাস বাংলা

রাজধানীতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের পাল্টাপাল্টি মহাসমাবেশ আগামীকাল। কয়েকদিন ধরে চায়ের দোকান, গণপরিবহন, অফিস-আদালত থেকে সর্বত্র এই দুই মহাসমাবেশ ঘিরে আলোচনা হচ্ছে। পেশাজীবী থেকে ব্যবসায়ী, খেটে যাওয়া মানুষÑ সবার উৎকণ্ঠিত জিজ্ঞাসা, কী হবে ২৮ অক্টোবর?

রাজধানী ঢাকায় আজকের রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে মানুষের মনে নানা শঙ্কা জেগেছে। বাইরে বের হলে বিপদে পড়তে পারেনÑ এমন আশঙ্কার কথা শোনা গেছে রাজধানীবাসীর মুখে। বিশেষ করে নিম্ন মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির বেসরকারি পেশাজীবীÑ যাদের ঘর থেকে বের হতেই হয়, তাদের মধ্যে আতঙ্ক বেশি। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলে আসছেন, আসন্ন সংসদ নির্বাচন ঘিরে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার প্রত্যাশা প্রবল। সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে এসে দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরাও চাঙ্গা। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর আকাঙ্ক্ষা বিএনপির আন্দোলনে গতি বাড়িয়েছে। বিএনপির সঙ্গে একই দিনে কর্মসূচি দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ বিলুপ্ত করে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের এক দফা দাবিতে আন্দোলনের অংশ হিসেবে আজ মাঠে নামছে বড় দলগুলো। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়েছে, আজকের মহাসমাবেশকে জনসমুদ্রে পরিণত করবে তারা। বিএনপি বলছে, আজকের মহাসমাবেশ সরকার পতন আন্দোলনের শেষের শুরু। আওয়ামী লীগও বিরোধী দলকে ছাড় দেবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। সমাবেশের নামে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো যদি নৈরাজ্য চালায় তা মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়ে রাজপথে থাকবে দলটি। বড় দুই দলের সঙ্গে একই দিনে জামায়াতের কর্মসূচিতে নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা গেছে।

শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মানুষের চলাচল কম। সাধারণত শুক্রবার ছুটির দিনে বিনোদনমুখী মানুষের দেখা মেলে বেশি। তবে গতকালের চিত্র ছিল অন্যরকম। রাস্তা, বিনোদনকেন্দ্র থেকে শপিংমল ও রেস্টুরেন্টগুলোতে তেমন ভিড় চোখে পড়েনি। উপরন্তু রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মিটিং-মিছিল করেছেন। ফলে একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বিভিন্ন মানুষ ঘর থেকে বের হয়নি। 

রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে লোকজন কম থাকলেও চলাচলরত কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের ভাষ্যÑ খবরে দেখছি, শনিবারের মহাসমাবেশ ঘিরে পুলিশি অভিযান চলছে। কথা-বার্তা বা আচরণে সন্দেহ হলেই ধরপাকড় করা হচ্ছে। 

ফারুক হোসেন। একজন সিএনজি অক্টোরিকশা চালক। রাজধানীর গুলশানে তার সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, পেটের তাগিদে আমাদের রাস্তায় নামতে হয়। ফলে কিছুটা ভয় তো আছেই। রাজনেতিক মারামারির মধ্যে পড়লে গাড়ি ভাঙচুর করা হয়, তাতে ক্ষতি আমাদেরই হয়। 

বেশি আতঙ্কে আছে নয়াপল্টনের বিএনপির কার্যালয়ের আশপাশে বসকারী ও চলাচলকারীরা। বিশেষ করে নয়াপল্টন মসজিদ গলি, আনন্দ ভবন গলি, নাইট এঙ্গেল মোড়, ফকিরাপুল মোড়, দৈনিক বাংলা ও শান্তি নগরসহ আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে শঙ্কা বেশি। আর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে জামায়াতের কর্মসূচি ঘিরে ওই এলাকায় বসবাসকারী ও চলাচলকারীরা আতঙ্কে আছেন বলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে। 

রাজধানীর কাকরাইলে কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী মহসিন চৌধুরী সঙ্গে। তিনি বলেন, শনিবারে অফিস করতে হয়। তাই কিছুটা আতঙ্কিত। নয়াপল্টনে কাল (শনিবার) বিএনপি কর্মসূচি আছে। আওয়ামী লীগের কর্মসূচি আছে। এ জন্য ভয় হচ্ছে। এখন দুশ্চিন্তা একটাইÑ রামপুরা থেকে বেরিয়ে যেন নিরাপদে অফিসে গিয়ে ফিরতে পারি। কারণ, পার্টিগুলোর কর্মসূচির মধ্যে পড়ে নিরীহ মানুষই বেশি আক্রান্ত হয়। 

মতিঝিলের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেন, শনিবার অফিস শেষ করে ঠিকঠাক বাসায় ফিরতে পারলেই হয়! বিভিন্ন সংবাদ দেখছি, বিএনপি-জামায়াত সংঘাতপূর্ণ মনোভাব নিয়ে ঢাকায় নামছে।

শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন বলেন, বড় ভাই হাসপাতালে ভর্তি। কুড়িল থেকে হাসপাতালে আসতে হয়। কালও (শনিবার) আসতে হবে। রাস্তায় গাড়ি না থাকলে কীভাবে যে পৌঁছাব!

আজকের রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে আতঙ্কে আছেন ব্যবসায়ীরাও। বিশেষ করে পল্টন, শাহবাগ, মতিঝিলের ফুটপাত কেন্দ্রিক ব্যবসায়ী এবং রেস্টুরেন্ট মালিক ও মুদি দোকানিরা জানান, শনিবার মালামাল আনা, দোকান খোলা নিয়ে তারা চিন্তিত। পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নেবেন তারা। 

রাজধানীর কয়েকজন ফেরিওয়ালা বলছেন, কাল (শনিবার) রাস্তায় ঝামেলা হতে পারে। তাই পাইকারি বাজার থেকে একবারে শনিবারের জন্য মালামালও নিয়ে এসেছেন তারা।

আওয়ামী লীগ আজ শনিবার জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে এবং বিএনপি নয়াপল্টনে তাদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের সড়কে মহাসমাবেশ করবে। মতিঝিলের শাপলা চত্বর চেয়েও পায়নি জামায়াত। তবে দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা সমাবেশ করবেই। ফলে জামায়াত রাস্তায় নামলে দলটির নেতাকর্মীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সংঘাত হতে পারে বলে অনেকে আশঙ্কা করছেন।

শেয়ার করুন-

মন্তব্য করুন

Protidiner Bangladesh

সম্পাদক : মারুফ কামাল খান

প্রকাশক : কাউসার আহমেদ অপু

রংধনু কর্পোরেট, ক- ২৭১ (১০ম তলা) ব্লক-সি, প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড) ঢাকা -১২২৯

যোগাযোগ

প্রধান কার্যালয়: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৬৯৬ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (প্রিন্ট): +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮১০, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০ | ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন (অনলাইন): +৮৮০১৮৮০৭৪৪৫৮০, +৮৮০১৭৯৯৪৪৯৫৫৯ । ই-মেইল: [email protected]

সার্কুলেশন: +৮৮০৯৬১১৬৭৭৮০৭, +৮৮০১৮৮০৭৪৪৩৩২ । ই-মেইল: [email protected]

বিজ্ঞাপন মূল্য তালিকা