ডেডলাইন ২৮ অক্টোবর
শহিদুল ইসলাম রাজী
প্রকাশ : ২৬ অক্টোবর ২০২৩ ১১:৩৫ এএম
আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২৩ ১১:৪৭ এএম
ঢাকায় ২৮ অক্টোবর শনিবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ডাকা কর্মসূচিকে ঘিরে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। নগরবাসী বলছেন, অতীতের মতো এবারও সংঘাত-সহিংসতার শঙ্কায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। সম্ভাব্য ভোগান্তি ও জানমালের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে জরুরি প্রয়োজন না হলে ঘর থেকেই বের হবেন না তারা। এ জন্য অনেকে ওই দিনের পূর্বনির্ধারিত পরিকল্পনা বাতিল করেছে বা পরিবর্তন এনেছে। তবে পুলিশ বলছে, জনভোগান্তির পাশাপাশি সংঘাত-সহিংসতা এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এর অংশ হিসেবে রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তিদের তল্লাশির পাশাপাশি টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলার চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
সরকার পতনের এক দফা আন্দোলনের কর্মসূচি হিসেবে এক দিন পর ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে মহাসমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। একই দাবিতে ওই দিন মতিঝিলের শাপলা চত্বরে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। পাল্টা কর্মসূচি হিসেবে বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে সরকারের পক্ষে শান্তি সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। সরকার পক্ষে ও বিরোধী পক্ষের আরও কিছু রাজনৈতিক দল একই দিন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। ফলে দিনটিকে ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। কী হতে যাচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা চলছে বিভিন্ন মহলে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, মহাসমাবেশে ইতিহাসের সর্বোচ্চ লোক জমায়েতের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বিএনপি। সেখান থেকে আসতে পারে ঢাকা ঘেরাওসহ লাগাতার কর্মসূচি। কর্মসূচির বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘মহাসমাবেশে বিপুল জনসমাগম করার লক্ষ্য আমাদের আছে। নেতাকর্মীরা ঢাকা আসতে শুরু করেছেন। আমরা শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালন করতে চাই। আমরা কারও উস্কানিতে পা দেব না। সেভাবেই নেতাকর্মীদের বলে দেওয়া হয়েছে।’
তবে এরই মধ্যে বিএনপির কর্মসূচি ঘিরে নেতাকর্মীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছে ক্ষমতাসীন দল। ঢাকায় দলটির মহাসমাবেশ থেকে যেন উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড না ঘটে সেজন্য হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। গতকাল বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে দলীয় এক কর্মসূচি থেকে তিনি বলেন, ‘আক্রমণ করলে পাল্টা আক্রমণ হবে। এবার আর কোনো ছাড় নয়।’
বড় দুই দলের মুখোমুখি এই অবস্থান ঘিরে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ওই দিন বিএনপি মহাসমাবেশের পর অবস্থান নেবে কি না? পুলিশের ভূমিকা কী হবে এসব নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এখন নানা প্রশ্ন। তা ছাড়া নয়াপল্টন বা অন্য যেকোনো স্থানে তারা সমাবেশ থেকে পরবর্তী কী কর্মসূচি দেবে তা নিয়েও মানুষের আগ্রহের কমতি নেই। ময়মনসিংহের ত্রিশালের আফজাল হোসেন খান উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘শুক্রবার ঢাকায় ব্যাংকের চাকরির পরীক্ষা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। যদি আগে থেকেই যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তাহলে তো পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারব না। চাকরির বয়স প্রায় শেষ। নির্দিষ্ট দিনের আগেও ঢাকায় যেতে ভয় হচ্ছে, যদি জামায়াত-বিএনপি কর্মী সন্দেহে গ্রেপ্তার হই। তাহলে তো ক্যারিয়ার শেষ। এখন কী করব বুঝতে পারছি না।’
রাজধানীর মতিঝিল এলাকার বাসিন্দা ও বেসরকারি চাকরিজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, অতীতে দেখা গেছে রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের মারমুখী অবস্থান। তারা আগেই বিএনপি অফিস কর্ডন করে নয়াপল্টনে কারফিউ অবস্থা জারি করে দেয়। ব্যাপক ধরপাকড় করে। এবারও সে রকম কিছু হয় কি না, দেখার বিষয়।
নয়াপল্টনের বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, ‘বিএনপি কর্মসূচি ঘোষণা করার সঙ্গে সঙ্গেই শান্তি সমাবেশ ঘোষণা করেছে আওয়ামী লীগ। তারা যদি আবার লগি-বৈঠা নিয়ে সেই পুরোনো চেহারায় ফেরে তাহলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। কারণ ২০০৭ সালের ২৮ অক্টোবর লগি-বৈঠা দিয়ে মানুষ পিটিয়ে হত্যা করতে দেখেছি আমরা। তাই এই দিনটি নিয়ে উদ্বেগ কমছে না।’
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘এক দল আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আরেক দল যদি তা প্রতিহত করার জন্য মাঠে নামে। তাহলে সংঘাতের শঙ্কা দেখাই দেয়। আপনি যদি আগুন দিয়ে আগুনকে প্রতিহত করতে চান, তাহলে আপনাকে ছাই-ভস্ম নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে। এটাই বাস্তবতা।’
এই প্রেক্ষপটে যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই মধ্যে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন। সভা হয়েছে আইজিপির সভাপতিত্বে পুলিশ সদর দপ্তরেও। যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ ও র্যাব। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপির পাশাপাশি আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও আনসার সদস্যরাও প্রস্তুতি নিয়েছেন। ঢাকার আশপাশের জেলাগুলোতেও সতর্ক অবস্থানে থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীসহ বিভিন্ন মহানগর ও জেলাগুলোতে দাঙ্গা পুলিশ ও ব্যারাকে থাকা রিজার্ভ পুলিশসহ বিশেষ ফোর্সকে স্ট্যান্ডবাই রাখা হচ্ছে। থানার ওসি, জেলা পুলিশ সুপারসহ ইউনিটের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের নিজ এলাকায় অবস্থান করতে বলা হয়েছে। ‘একান্ত জরুরি প্রয়োজন’ ছাড়া পুলিশে কর্মরত সব সদস্যের ছুটি আগেই বাতিল করা হয়েছে।
পুলিশের বিভিন্ন সূত্র ও গোয়েন্দা তথ্যে আভাস মিলেছে, ওই দিন মহাসমাবেশ শেষে রাজপথে অবস্থান নিতে পারে সরকারবিরোধীরা। পুলিশ বলছে, সমাবেশ শেষে রাজপথে অবস্থান করলে অ্যাকশনে যাবে তারা। এ ছাড়া যে স্থানে যেসব শর্ত সাপেক্ষে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে সেখানেই ওই সব শর্ত মেনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করতে হবে।
এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘বিএনপিকে যেখানে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে সেখানেই বিএনপিকে সমাবেশ করতে হবে। আমরা আশা করি, সেই দায়িত্বশীলতার জায়গায় তারা থাকবে।’
বিএনপির সমাবেশ ঘিরে ঢাকার প্রবেশপথ বন্ধ করা হবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘আমরা ঢাকার কোনো পথ বন্ধ করব না। তারা যদি শান্তিপূর্ণভাবে নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থান করে এবং করে চলে যায় আমাদের কিছু বলার নেই। আমরা সেখানে কোনো বাধা দেব না।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সমাবেশের যে অনুরোধ করেছে, কীভাবে করেছে সেটা পুলিশ কমিশনার জানেন। ঢাকায় কোন জায়গায় সমাবেশ করলে, এত লোক আনবেন বলে তারা ঘোষণা দিয়েছেন… তারা নাকি সারা বাংলাদেশ থেকে যারাই বিএনপি করে তাদের নাকি নিয়ে আসবে। কোনো সদস্যই নাকি বাদ থাকবে না, এ রকমই আমরা শুনছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সে রকমই যদি হয়, এত লোক ঢাকায় এলে অন্য ধরনের একটা পরিস্থিতি হতে পারে। সেজন্যই আমাদের কমিশনার সাহেব তাদের কোথায় সমাবেশটা করতে দেবেন সেটা তিনি বুঝবেন, সেভাবেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। কমিশনার সাহেব এখন পর্যন্ত কাউকে সমাবেশের অনুমোদন দেননি।’
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, ২৮ অক্টোবর ঢাকায় সমাবেশ ডেকেছে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। ইতোমধ্যে দলগুলো অনুমতি চেয়ে আবেদনও করেছে। তবে জনসাধারণের জানমালের ঝুঁকি ও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করে অনুমতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘জনগণের যে নিরাপত্তা সেটি অক্ষুণ্ন রেখে আমাদের ফোর্স ম্যানেজমেন্টের ব্যবস্থা করা হয়। যাদের সমাবেশ তাদের বিষয়টিও মাথায় রেখে পুলিশ নিরাপত্তা দিয়ে থাকে। পুলিশের চেকপোস্ট কার্যক্রম নিয়মিত। কেউ যেন অস্ত্র-বিস্ফোরক সন্ত্রাসী কার্যক্রম করতে না পারে, সেজন্য আমাদের নিয়মিত চেকপোস্ট হয়।’
ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘রাজধানীবাসীর নিরাপদে চলাচলের ব্যবস্থা করা আমাদের দায়িত্ব। রাজপথকেন্দ্রিক জনসভা হলে জনগণের চলাচল বিঘ্নিত হয়। সেক্ষেত্রে জনসভার অনুমতি দেওয়ার আগে আমাদের কিছু বিচার-বিশ্লেষণ রয়েছে। ঝুঁকিনিরাপত্তা বিশ্লেষণও রয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট থানার ওসি, এসি, ডিসিরা বাস্তবতা পরীক্ষা করে আমাদের কাছে রিপোর্ট দেবে। এরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে অনুমতি দেওয়া হবে কি না। সমাবেশ রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিক অধিকার। আমরা জনগণের নিরাপত্তা সব সময় বড় করে দেখি।’
কবে নাগাদ অনুমতি দেওয়া হতে পারে জানতে চাইলে, ডিএমপির গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার ফারুক হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘২৭ অক্টোবর বিকালে সেটা জানা যাবে। এখনও এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তাদের মধ্যে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা জানান, গোলাপবাগ মাঠ অথবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে বিএনপিকে অনুরোধ করা হবে। তবে নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি দেওয়ার বিষয়েও ডিএমপির একাধিক কর্মকর্তা ইতিবাচক বলেছেন। শর্ত সাপেক্ষে নয়াপল্টনে সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে জামায়াতকে অনুমতি না দেওয়ার বিষয়ে ডিএমপির কর্মকর্তারা অনড় অবস্থানে আছেন।
নিরাপত্তা প্রস্তুতির বিষয়ে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশকে কেন্দ্র করে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে চেকপোস্ট জোরদার করা হচ্ছে। যাতে কেউ নাশকতার জন্য আগ্নেয়াস্ত্র বা বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে। একইভাবে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ স্থানেও চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হবে।
কমান্ডার মঈন বলেন, সমাবেশকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীসহ মহাসড়কগুলোতে প্যাট্রোলিং জোরদার করা হয়েছে। যাতে করে সাধারণ জনগণ নিশ্চিতে তাদের কাজগুলো করতে পারে। কারও যদি নাশকতার পরিকল্পনা থাকে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দারা কাজ করছে। সাইবার ওয়ার্ল্ডেও র্যাবের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, এরপরও যদি কোনো নাশকতা বা সহিংসতা হয় সেক্ষেত্রে র্যাবের স্ট্রাইকিং ফোর্স, স্পেশাল ফোর্স প্রস্তুত রয়েছে। যেকোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য তারা সব সময় প্রস্তুত।
মহাসমাবেশ ঘিরে গ্রেপ্তার-হয়রানির অভিযোগ
বিএনপি বলছে, মহাসমাবেশ নিয়ে ঢাকা মহানগরকে আতঙ্কের জনপদ বানানোর চেষ্টা চলছে। রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোতে র্যাবের চৌকি বসিয়ে তল্লাশির নামে নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। নেতাকর্মীদের বাড়িসহ আত্মীয়স্বজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পুলিশ ও সাদা পোশাকধারী পুলিশ তল্লাশির নামে গ্রেপ্তার ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে নাজেহাল করছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, গত ২৮ ও ২৯ জুলাই থেকে আজ পর্যন্ত (গতকাল) বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারা দেশে ৩ হাজার ৬২০ জন নেতাকমীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৪০০ মামলায় ২৬ হাজার ৭৮০ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে।
সমাবেশের বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণভাবেই সেই কর্মসূচি শেষ করতে চাই। আমাদের মহাসচিবও তাই বলেছেন যে কর্মসূচি শেষ করে সবাই ফিরে যাবে।’
যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন মামুন বলেন, ঢাকায় ইতোমধ্যে অনেক নেতাকর্মী প্রবেশ করেছে। আজকালের মধ্যে আরও ঢুকবে। পুলিশ ও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা রাস্তায় রাস্তায়, বাসে বাসে তল্লাশি চালাচ্ছে। এসব উপেক্ষা করেই নেতাকর্মীরা সমাবেশে অংশ নিয়ে সরকারের পতন ঘটাবে।
এ বিষয়ে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ‘বিএনপির কাউকে হয়রানি বা নাজেহাল করা হচ্ছে না। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।