প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২০ অক্টোবর ২০২৩ ০৮:৫৭ এএম
আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০২৩ ১১:০৫ এএম
হাসপাতালে খালেদা জিয়া। ফাইল ফটো
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আরেক দফায় করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালের সিসিইউতে নেওয়া হয় বলে বিএনপি চেয়ারপারসনের মেডিকেল বোর্ডের একজন সদস্য জানান।
তিনি বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই ম্যাডামের সমস্যা জটিল হচ্ছে। অক্সিজেন কমে যাওয়াসহ একাধিক জটিলতা দেখা দিচ্ছে। তাই দ্রুত সিসিইউর সহায়তার প্রয়োজন হচ্ছে।’
এই চিকিৎসক জানান, খালেদা জিয়ার পেট থেকে পানি অপসারণ করা হচ্ছে। এখনও পানি জমছে। এতে বোর্ড উদ্বিগ্ন। জরুরি প্রয়োজনে তাকে মাঝেমধ্যেই সিসিইউতে নেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা শেষে আবার কেবিনে নিয়ে আসা হয়। এভাবে চলছে তার চিকিৎসা। শারীরিক অবস্থা কখনও উন্নতি, কখনও অবনতি অবার কখনও স্থিতিশীল থাকে।
চিকিৎসক আরও জানান, দুয়েক দিন পরপরই খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের একাধিক পরীক্ষা করা হচ্ছে। প্যারামিটারগুলো ওঠানামা করছে। বোর্ড তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে এখনও উদ্বিগ্ন। তাই নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, বিএনপি চেয়ারপারসন শারীরিক দুর্বলতা থাকায় মাঝেমধ্যে কিছু ওষুধ খেতে চান না। তাকে সব সময় স্যালাইন ও ইনজেকশনের ওপর থাকতে হচ্ছে। দুই দিন আগে রক্তের হিমোগ্লোবিন কিছুটা উন্নতি হলেও ফের কমছে। ইনসুলিন দিয়ে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আছেন। নানা অ্যান্টিবায়োটিকের মাধ্যমে লিভারের সমস্যা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। স্বাস্থ্যের বিভিন্ন রিপোর্ট দেখে বোর্ড বৈঠক করে চিকিৎসায় পরিবর্তন আনা আনে প্রতিনিয়ত। কিছু রিপোর্ট একাধিক হাসপাতালে টেস্ট করা হচ্ছে। বোর্ড সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে।
চিকিৎসকরা এরই মধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর লিভার প্রতিস্থাপন জরুরি। তবে এ চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়। এজন্য তাকে অনতিবিলম্বে দেশের বাইরে বহুমুখী সুবিধাসংবলিত হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে, যেখানে লিভার প্রতিস্থাপন করার সুযোগসুবিধা রয়েছে। তবে সরকার বলছে, তারা আইনের সীমাবদ্ধতার কারণে বেগম খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে দিতে পারছে না।
লিভারের পাশাপাশি তার কিডনি জটিলতা ও ডায়াবেটিসের মাত্রাও বাড়ছে। কিডনির ক্রিয়েটিনিন মাঝেমধ্যে বর্ডার লাইনের কাছাকাছি চলে যাচ্ছে। ফলে একটিকে কমাতে গেলে আরেকটিতে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
বেগম খালেদা জিয়া এ ছাড়া আর্থ্রাইটিস, উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। তার হৃদরোগেরও সমস্যা রয়েছে। এ কারণে তার হার্টে দুটি স্টেন্টিংও করা হয়েছে।
গত ৯ আগস্ট স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য খালেদা জিয়াকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি মেডিকেল বোর্ড তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দিচ্ছে।
দুর্নীতির দুটি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন। দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন তিনি। দেশে করোনা মহামারি শুরুর পর ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে দুই শর্তে মুক্তি দিয়েছিল। এরপর দফায় দফায় সময় বাড়ানো হয়।