বিদেশে চিকিৎসা
বাছির জামাল
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৩:১৩ পিএম
আপডেট : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৩:৩৮ পিএম
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে দেড় মাসের বেশি সময় ধরে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে তার পরিবার। অনুমতি মিললেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশ অনুযায়ী ইউরোপের জার্মানি, যুক্তরাজ্য বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
খালেদা জিয়াকে স্থায়ী মুক্তি দিয়ে বিদেশে পাঠানোর জন্য ২৫ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ফের আবেদন করেছেন তার ছোট ভাই শামীম ইস্কান্দার।
আইনমন্ত্রী আনিসুল হক গতকাল বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার জন্য অনুমতি চেয়ে করা আবেদনটি আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আবেদনটি দ্রুতই যাচাইবাছাই করে সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
সরকার থেকে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে কি না— জানতে চাইলে শামীম ইস্কান্দার শুক্রবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘এখনও কোনো কিছু জানায়নি। আমরা অধীর আগ্রহে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছি।’
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় খালেদা জিয়া ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মেডিকেল বোর্ড অনেক দিন ধরে তার লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে আসছে। তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘লিভার সিরোসিসের কারণে খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্র ও কিডনির জটিলতা বেড়েছে। তিনি হাসপাতালে কখনও কিছুটা ভালো থাকছেন, পরক্ষণেই স্বাস্থ্যের পরিস্থিতি খারাপ হচ্ছে। ফলে তাকে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।’
খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উন্নতির লক্ষণ না থাকায় তার পরিবার ও বিএনপির পক্ষ থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর বিষয়টি এখন সামনে এসেছে জোরালোভাবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৪ সেপ্টেম্বর সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলেন তাদের দলের চেয়ারপারসনকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিতে। এ আল্টিমেটাম সময়ের মধ্যেই নতুন করে আবেদনও করেছে তার পরিবার। তবে এখনও সিদ্ধান্ত দেয়নি সরকার। আইন মন্ত্রণালয়ে যখন আবেদনটি আসে তখন সরকারি ছুটি শুরু হয়। আগামীকাল শনিবার সরকারি ছুটি শেষ হবে। রবিবার এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত জানা যেতে পারে।
বিএনপিসূত্রে জানা যায়, এরই মধ্যে খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার বিষয়টি আলোচনায়ে এসেছে। জার্মানি দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স (সিডিএ) জান রল্ফ জানোস্কির সঙ্গে কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকার অনুমতি দিলে জার্মানিতে চিকিৎসা সম্ভব বলে বিএনপি মহাসচিবকে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে গুঞ্জন রয়েছে, সরকার খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার অনুমতি দিলেও কিছু দেশের নাম উল্লেখ করে শর্ত দিতে চায়। সে ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড কিংবা এশিয়ার কোনো দেশে চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু বিএনপি চায় জার্মানি কিংবা যুক্তরাষ্ট্র বা যুক্তরাজ্য। কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, বিএনপি চেয়ারপারসন আগে এসব দেশে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। তা ছাড়া তার শরীরে যেসব রোগ রয়েছে এবং তার শরীরের বর্তমান যে পরিস্থিতি তার উপযুক্ত চিকিৎসা উল্লিখিত তিনটি দেশে সম্ভব।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের অনেকে মনে করেন, সরকার চাইলে আদালতে না গিয়ে খালেদা জিয়াকে বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দিতে পারে। সরকারের এক সূত্র বলছেন, সরকার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি এখন অনেকটা ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছে।
দুর্নীতির দুই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়া ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দি হন। দুই বছরের বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত খালেদাকে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ সরকার নির্বাহী আদেশে সাজা স্থগিত করে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দিয়েছিল। এরপর ছয় মাস পরপর তার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ বাড়াচ্ছে সরকার। শেষ গত মার্চে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ ছয় মাস বাড়ানো হয়।
সর্বশেষ ১২ সেপ্টেম্বর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে মুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।