বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৯:৩৭ পিএম
আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:৫৫ পিএম
কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৪৮ ঘণ্টার গণ-অনশন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি করে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। ছবি : সংগৃহীত
সাম্প্রদায়িক সহিংসতা চিরতরে বন্ধসহ সরকারি দলের ২০১৮ সালের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থবান্ধব প্রতিশ্রুতিসমূহ বাস্তবায়নের দাবিতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ৪৮ ঘণ্টার গণ-অনশন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি করছে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
শুক্রবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টা থেকে শুরু হওয়া এই গণ-অনশন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচি চলবে রবিবার ( ২৪ সেপ্টেম্বর ) ভোর ৬টা পর্যন্ত। কর্মসূচি চলাকালীন শুক্রবার দুপুরে প্রেস ব্রিফিং করেন পরিষদের নেতাকর্মীরা। এতে বিভিন্ন অসাম্প্রদায়িক প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের নেতারা সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন।
গণ-অনশন ও গণ-অবস্থান কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সম্প্রীতি বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীল, সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী প্রমুখ।
কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, নির্মল রোজারিও, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জেএল ভৌমিক, ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাড. সুব্রত চৌধুরী, জয়ন্ত সেন দীপু, অধ্যাপক ড. জিনোবোধি ভিক্ষু, রঞ্জন কর্মকার, মিলন কান্তি দত্ত, যোসেফ সুধীন মণ্ডল, বাসুদেব ধর, মঞ্জু ধর, জয়ন্তী রায়, অ্যাড. বিকাশ রায়, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, জয়ন্ত কুমার দেব, অ্যাড. তাপস কুমার পাল, অ্যাড. শ্যামল কুমার রায়, অ্যাড. কিশোর রঞ্জন মণ্ডল, ব্যারিস্টার প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া, রবীন্দ্রনাথ বসু, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক রমেন মণ্ডল, বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হেমন্ত আই কোরাইয়া, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের (প্রভাষ-পলাশ) সভাপতি প্রভাষ বিশ্বাস, নির্বাহী মহাসচিব পলাশ কান্তি দে, হিন্দু মহাজোটের (এমকে) সভাপতি এমকে রায়, বৃহত্তর ময়মনসিংহের আদিবাসী সংগঠনসমূহের ঐক্য পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, অরণ্য চিরান প্রমুখ।
কর্মসূচিতে চার বছরের বেশি সময়েও নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্ত।
তিনি বলেন, ’সরকারের সদিচ্ছা থাকলে দ্রুততম সময়েই প্রতিশ্রুতি পূরণ সম্ভব। আরেকটি সংসদ নির্বাচন দোরগোড়ায় এসে গেলেও বিগত নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণ না করা দুর্ভাগ্যজনক। সদিচ্ছা থাকলে আগামী মাসে সংসদের শেষ অধিবেশনে এবং কিছু নির্বাহী আদেশে দ্রুততম সময়ে এসব অঙ্গীকার পূরণ করা সম্ভব।’
রাণা দাশগুপ্ত বলেন, ‘আমাদের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বলেই বাধ্য হয়ে আমরা ৪৮ ঘণ্টার অনশনে বসেছি। আমরা আশা করতে চাই, বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের নেতা শহীদ মিনারে এসে আমাদের অনশনের সঙ্গে সংহতি জানাবেন।’
শারদীয় দুর্গাপূজার আগে প্রতিবছরের মতো এবারও মূর্তি ভাঙা শুরু হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। বলেন, ‘২০২১ সালের শারদ সন্ত্রাসের সময় গ্রেপ্তার হওয়া সহিংসতার সূচনাকারী কুমিল্লার ইকবালকে যদি পাগল না সাজিয়ে যথাযথ বিচার ও সাজার মুখোমুখি করা হতো, তাহলে এত মূর্তি ও মন্দির ভাঙার ঘটনা আমাদের দেখতে হতো না। আমরা ইতোমধ্যেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শারদীয় দুর্গাপূজার সময় ও পূজার আগে-পরে নিরাপত্তার প্রশ্নে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছি।’
আসন্ন দুর্গাপূজার সময় কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে রাণা দাশগুপ্ত বলেন, ‘যে রাজনৈতিক দল আমাদের এই আহ্বানে সাড়া দেবে না, আমরা তাদের বন্ধু মনে করব না।’
পরবর্তী কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ’চলতি অনশন কর্মসূচির পরে সরকারের পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করে ৬ অক্টোবরের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মহাসমাবেশ থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’