প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২২:১৯ পিএম
রাজধানীর তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ঐক্য পরিষদের সভায় রাণা দাশগুপ্ত। প্রবা ফটো
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাণা দাশগুপ্ত বলেছেন, দেশের অন্তত ১০০টি আসনে নির্বাচনী ফলাফলের নিয়ামক শক্তি সংখ্যালঘুরা। তাই কী দেবেন আর কী নেবেন, তার হিসাব-নিকাশ নির্বাচনের আগেই পরিষ্কার করতে হবে। তা না হলে নির্বাচনের মাঠে নামা আমাদের দিয়ে সম্ভব হবে না।
শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ঐক্য পরিষদের ঢাকা মহানগর উত্তরের বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পরিষদের ঢাকা মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অতুল চন্দ্র মণ্ডলের সভাপতিত্বে এটি সঞ্চালনা করেন মহানগর উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হৃদয় গুপ্ত। বক্তব্য দেন ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শ্যামল কুমার রায়, অধ্যক্ষ হরিচাঁদ মণ্ডল সুমন, অ্যাডভোকেট কিশোর রঞ্জন মণ্ডল, রবীন্দ্রনাথ বসু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক বাপ্পাদিত্য বসু, মহানগর উত্তরের নেতা পরিমল কুরি, প্রভাষ মণ্ডল, অবিনাশ সমাজপতি, সুধীর বিশ্বাস প্রমুখ।
রানা দাশগুপ্ত অভিযোগ করেন, সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, দেশের ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ ততই বাড়ছে। কারণ নির্বাচনের আগে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মে পরিণত হয়েছে। অথচ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তায় সংখ্যালঘু সুরক্ষা বিশেষ আইন প্রণয়নসহ সরকারের কোনো নির্বাচনী অঙ্গীকারই এখনও পূরণ হয়নি।
রাণা দাশগুপ্ত আরও বলেন, আমরা ভারতেরও দালাল নই, আওয়ামী লীগেরও দালাল নই, কোনো রাজনৈতিক শক্তির দালাল নই। আমরা বাংলাদেশের দালাল। মুজিবনগর সরকারের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার’- এই আদর্শকে ধারণ করে এদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরাই সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়ে বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, রাষ্ট্র হয়ে গেছে বৈষম্যমূলক আর সাম্প্রদায়িক।
তিনি বলেন, বাহাত্তরের সংবিধান হারিয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ, বঙ্গবন্ধুর আদর্শই আজ এই রাষ্ট্রে পরাজিত। রাষ্ট্রধর্ম প্রবর্তনের মাধ্যমে আমাদের আজ সংখ্যালঘুতে পরিণত করা হয়েছে। বাংলাদেশকে হিন্দুশূন্য করার রাজনৈতিক নীলনকশা চলছে। এই দেশ থেকে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী যদি হারিয়ে যায় তাহলে বাংলাদেশ পরিণত হবে আফগানিস্তানে।
সম্পাদনা: ওমর ফারুক