প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫:৩৪ পিএম
আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৭:১৬ পিএম
জাতীয় প্রেস ক্লাবে সোমবার সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জোটটি আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করে। প্রবা ফটো
সমমনা ১৫টি রাজনৈতিক দল নিয়ে ‘প্রগতিশীল ইসলামী’ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক জোট আত্মপ্রকাশ করেছে। বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই জোটের আত্মপ্রকাশের জানান দেওয়া হয়। আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে জোটের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
জোটের সঙ্গীরা হলো- ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টি, নেজামী ইসলাম বাংলাদেশ, বাংলাদেশ গণআজাদী লীগ, বাংলাদেশ তরিকত ফ্রন্ট, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক লীগ, বাংলাদেশ জনমত পার্টি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জনতা দল (বিএনজিপি), ইসলামিক লিবারেল পার্টি, বাংলাদেশ গণতন্ত্র মানবিক পার্টি, জনতার কথা বলে, বাংলাদেশ স্বাধীন পার্টি, সাধারণ ঐক্য আন্দোলন, বাংলাদেশ ইসলামীক গণতান্ত্রিক লীগ ও বাংলাদেশ ইসলামিক ডেমোক্রেটিক ফোরাম।
এই সমমনা দলগুলোর জোটের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন ইসলামিক গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক এমপি এম এ আউয়াল। সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন ইসলামিক গণতান্ত্রিক পার্টির মহাসচিব মো. নূরুল ইসলাম খান। এ ছাড়া শরীক দলের চেয়ারম্যানরা, জোটের কো-চেয়ারম্যান ও মহাসচিবরা সমন্বয় কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন।
জোটের ঘোষণা দেন সাবেক এমপি ও ইসলামি গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান এমএ আউয়াল। তিনি বলেন, ‘একটি গণবিরোধী শক্তি রাজনৈতিক দ্বন্দ্বমুখী পরিস্থিতির সৃষ্টি করে ফায়দা লুটতে চায়। জননেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে যখন বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে, তখনই দেশ-বিদেশে চক্রান্ত চলছে। বাংলাদেশকে আবার পেছনে টেনে নেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে কোনোভাবেই মুক্তিযুদ্ধের পরাজিত শক্তিকে ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না।’
এজন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী ইসলামী ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান আউয়াল। একইসঙ্গে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রগতিশীল ইসলামী জোট ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বলেও ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে প্রগতিশীল ইসলামী জোটের ১০ দফা দাবি ঘোষণা দেওয়া হয়। এসব দাবি বাস্তবায়নে সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর – এই তিনমাস ধারাবাহিকভাবে প্রগতিশীল ইসলামী জোট বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে বলে জানানো হয়।
এতে লিখিত বক্তব্য দেন ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির মহাসচিব সাবেক কৌঁসুলি (পিপি) মো. নূরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বপক্ষের শক্তি রাষ্ট্রকে নেতৃত্ব দেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাংবিধানিক শাসনক্ষমতা ও উন্নয়নের দিগন্ত বিস্তার প্রসার আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে। এই লড়াই ও সংগ্রামকে আরও তাৎপর্যমণ্ডিত করতে আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার প্রত্যয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট প্রগতিশীল ইসলামী জোট আত্মপ্রকাশ করছে।’
সংবাদ সম্মেলনমঞ্চে শরীকদলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আলহাজ হাফেজ মাওলানা হারিছুল হক, মো. আতাউল্লাহ খান, মুফতি মাহাদী হাসান বুলবুল, প্রফেসর কাজী মহিউদ্দিন সৌরভ, খন্দকার এনামুল নাছির, সুলতান জিসান উদ্দিন প্রধান, ফয়েজ আহমেদ চৌধুরী, মাওলানা আতাউর রহমান আতিকি, মো. নাঈম হাসান, ডা. মোহাম্মদ সম্রাট জুয়েল, মো. আখতার হোসেন, হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ, মো. আনোয়ার হোসেন, অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, এ মাসের শুরুতেই লিবারেল ইসালামিক নামে একটি রাজনৈতিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সমমনা ছয়টি রাজনৈতিক দলের এই জোটে আছে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, আশিক্কীনে আউলিয়া ঐক্য পরিষদ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জনদল (বিজেডি), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ ভাসানী) ও কৃষক শ্রমিক পার্টি।