বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৭:৩২ পিএম
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে অভিনন্দন জানাতে ফুল নিয়ে এসেছিলেন সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়নের অনুসারীরা সেই ফুল ছিঁড়ে ফেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে নেতাকর্মীদের হেনস্তা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ শাখার নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার নিরব ও বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি মেহেদী হাসান নিবিরের নেতৃত্বে শয়নের একদল অনুসারী তাদের হাতে থেকে ফুল নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নেতাকর্মীরা রোকেয়া হলের সামনে ফুল নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। তখন শাহরিয়ার নিরব ও বিজয় মেহেদী হাসান নিবিরের নেতৃত্বে শয়নের বেশ কয়েকজন অনুসারীরা জিজ্ঞেস করেন ফুল কার জন্য। ফুল ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে দেওয়া হবে জানালে ঢাবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বলেন- ফুল দিতে হলে পার্টি অফিসে যান কিংবা বাসায় যান। এই বলে হাতে থাকা ফুলের তোড়া ফেলে দেন তারা।
সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি দুর্জয় পাল বলেন, আমাদের কমিটি হয়েছে ৩১ জুলাই। আগস্ট মাস থাকায় শুভেচ্ছা বিনিময় করতে দেরি হয়। পরে গতকাল আমরা তিনটি ফুলের তোড়া নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাই। তখন দেখি ঢাবি শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে আমাদের পরিচয় জানতে চায় যে কোত্থেকে আসছি আরা। আমরা আমাদের পরিচয় দিলে হাত থেকে ফুল নিয়ে ফেলে দেয় এবং বলে দ্রুত এখান থেকে চলে যান। অবস্থা খারাপ দেখে আমরা সেখান থেকে চলে আসি। পরে শহীদ মিনার এলাকায় ভাইকে (সাদ্দাম) দেখতে পেয়ে নতুনভাবে ফুল কিনে শুভেচ্ছা বিনিময় করি। ভাই (সাদ্দাম) বিষয়টি দেখবেন বলেও জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার নিরব ও বিজয় একাত্তর হল ছাত্রলীগের সহসভাপতি মেহেদী হাসান নিবিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা দু'জনই অভিযোগ অস্বীকার করেন।
মেহেদী হাসান নিবির বলেন, আমি অসুস্থ। মেডিকেলে যাচ্ছিলাম রিকশা করে, তখন তাদের সঙ্গে কথা হয়, পরিচয় জেনেছিলাম। পরবর্তীতে আমি মেডিকেল থেকে ফিরে এসে দেখি ছেঁড়া ফুল পড়ে আছে। আমি ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট না। সামনে কমিটি হলে যেন আমি বঞ্চিত হই তার জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
শাহরিয়ার নিরব বলেন, আমি দু'দিন ধরে ক্যাম্পাসে নেই। সে জায়গায় ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না।
জানতে চাইলে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন জানান, তিনি এ সম্পর্কে কিছু জানেন না। বিষয়টি খোঁজ নিবেন তিনি।
ঘটনার বিষয়ে ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে বেশ কয়েকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।