প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫:১৬ পিএম
আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৬:০১ পিএম
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক স্মরণসভায় কথা বলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রবা ফটো
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সেলফি নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতারা যে উচ্ছ্বাস দেখিয়েছেন, তার সমালোচনা করে সেই ছবি গলায় বেঁধে ঝুলিয়ে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এত দেউলিয়া, এত নিঃস্ব হয়ে গেছে, বাইডেনের সঙ্গে একটা সেলফি তুলে এখন ঢোল পেটাচ্ছে – হ্যাঁ আমরা জিতে গেছি।’
রবিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সাবেক অর্থমন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই জাতির দুর্ভাগ্য কোথায় জানেন? বেসিক জায়গায় আমরা কেউ যাই না। আমরা সেলফির মতো ইস্যুতে যাই। ওবায়দুল কাদের সাহেব নাকি বলেছেন ফখরুল এখন কী বলবেন। আমি বলি আমার পরামর্শটা নেবেন। এই ছবিটা বাঁধিয়ে গলায় ঝুলিয়ে ঘুরে বেড়ান। ওটা আপনাদের যথেষ্ট সাহায্য করবে। বোঝানোর চেষ্টা করেন জনগণকে, বাইডেন এখন আমার সঙ্গে আছে। অথচ আপনার এই প্রধানমন্ত্রী কয়েকদিন আগে কী বললেন? তিনি বলেছিলেন, সেন্টমার্টিন দ্বীপ দিচ্ছে না বলে আমেরিকা নাকি তাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়। উনি নিজে বলেছেন না? তাহলে এখন কী বুঝব আমরা? আপনি সেন্টমার্টিন দ্বীপটা দিয়ে দিয়েছেন?’
প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘কয়দিন আগে আবার উনি আরেকটা কথা বলেছেন, এই এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে আমেরিকা বেস (ঘাঁটি) করবে এবং গোটা এলাকাতে সে প্রভুত্ব করবে, দেশগুলো দখল করবে, আক্রমণ করবে- এভাবে কথা বলেছেন।’
তিনি বলেন, ‘এটা আমেরিকা, আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশ নয়। তার যে চিন্তাভাবনা গ্লোবাল স্ট্রাটেজি সব কিছু সে তার মতো করে। তাতে করে র্যাবের ওপর থেকে স্যাংশন উঠে যায়নি সেলফির জন্য। ভিসানীতির পরিবর্তন হয়নি। তার জন্য নতুন ডেমোক্রেসি কনভেনশন ডেকে বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। সুতরাং ভেবেচিন্তে কথা বলবেন। কথাগুলো আপনারা বলেন, কিন্তু ভেবে চিন্তে বলেন না।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘জেতাবে তো বাংলাদেশের মানুষ। ভোটের মাধ্যমে সেই ভোটটা ঠিকমতো হওয়ার ব্যবস্থা করেন। তা না হলে কোনো বাইডেনই আপনাদের রক্ষা করতে পারবে না। সেলফি রক্ষা করতে পারবে না।’
তিনি বলেন, ‘ভারতে গিয়ে যে ধরনের কথাবার্তা বলছেন, যেখানে যান যত ছবি দেখাতে চান কিন্তু যদি জনগণ ভোট দিতে পারে না। জনগণ আপনাদের ক্ষমা করবে না। আপনারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবেন না। খুব পরিষ্কার কথা।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘বাইরের বা আমেরিকা, তারা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি খুব পরিষ্কার করে বলেছে তারা বাংলাদেশে সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে চায়। তারা বলেছে এখানে সব দলের অংশগ্রহণ একটা ভালো নির্বাচন দেখতে চায়, যেটা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এটা শুধু আমেরিকা নয় সমস্ত গণতান্ত্রিক বিশ্ব তা-ই বলছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা জনগণের মতামত সবচেয়ে গুরুত্ব দেই। সেই জনগণ পরিষ্কার করে জানিয়ে দিয়েছে যথেষ্ট হয়েছে। অনেক লুট করেছ। অনেক নির্যাতন করেছ, নিপীড়ন করেছ। অনেক ধ্বংস করেছ। মানুষকে হত্যা করেছ। খালেদা জিয়াকে বিনাদোষে আটক রেখে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে নির্বাসিত করে রেখেছে। সুতরাং অনেক হয়ে গেছে, দয়া করে এখন বিদায় হও। দেশের সমস্ত রাজনৈতিক দল এক হয়েছে। তারা বলেছে সংসদ বিলুপ্ত করুন, নিরপেক্ষ নির্দলীয় সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে একটা নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচন করে জনগণের ক্ষমতা জনগণের হাতে দিন।’
সরকারের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে এত ভয় কেন? তত্ত্বাবধায়ক সরকারে নির্বাচন করতে এত ভয় কেন? আমরাও তো দিয়েছি। ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) তো দিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ আপনারা জানেন যদি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হয় দশটা আসনে পাবেন না। পরিষ্কার করে বলছি, এদেশের মানুষ আপনাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না।’
প্রয়াত এম সাইফুর রহমানের ছেলে নাসির রহমানের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন জীবন, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু প্রমুখ বক্তব্য দেন।