প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২০:৫৮ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ২১:০৭ পিএম
গণতন্ত্র মঞ্চের গণমিছিল। প্রবা ফটো
বর্তমান
সরকারের গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে বলে মন্তব্য করেছেন গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ
নেতা আ স ম আবদুর রব। শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণমিছিলের
আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।
সরকারের
পদত্যাগ, খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও সংবিধান সংস্কার করে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র
প্রতিষ্ঠার এক দফা দাবিতে এ গণসমাবেশ করে গণতন্ত্র মঞ্চ।
সমাবেশে
সভাপতির বক্তব্যে জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘তালবাহানা করে লাভ নেই। এই সরকারকে
চলে যেতে হবে। এই সরকার ভুয়া। তারা ভুয়া তথ্য প্রচার করার চেষ্টা করে। বিদেশিদের কূটনৈতিক
সম্পর্ক শেষ করে দিয়েছে। এই সরকারের গ্রহণযোগ্যতা তলানিতে ঠেকেছে।’
মার্কিন
দূতাবাসে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে আশ্রয় দেওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে
হয়তো তারা আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু দেশের ১৮ কোটি মানুষকে কীভাবে আশ্রয় দিবেন? আমরা কোথাও
আশ্রয় নিতে চাই না। আমরা আমাদের ঘরবাড়িতে থাকতে চাই। আমরা আমাদের নিরাপত্তা নিজেরাই
আদায় করে ছাড়ব।’
তিনি
আরও বলেন, ‘অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য
আপনাকে (শেখ হাসিনা) বিদায় নিতে হবে। এটা ছাড়া আমরা কোনো নির্বাচনে যাব না। এই সরকার
থাকলে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। এই লড়াই বাঁচার লড়াই, ভাত-কাপড়ের লড়াই, ১৮ কোটি
মানুষের লড়াই, গণতন্ত্রের লড়াই৷ ছাত্র, যুবক, কৃষক, সংস্কৃতি কর্মীসহ সবাইকে মাঠে নামতে
হবে। এই লড়াই শুধু বিএনপি বা গণতন্ত্র মঞ্চের নয়, এটা বাংলাদেশের পুরো জাতির অস্তিত্বের লড়াই।’
গণসমাবেশে
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, বাংলাদেশের অবস্থা এখন এমন যে, সরকারি
কর্মচারী-কর্মকর্তারাও নিরাপত্তা বোধ করছেন না। একজন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমেরিকার
দূতাবাসে গিয়ে নিরাপত্তা চাচ্ছে। তারেক রহমানের নামে মামলা, জুবাইদা রহমানের নামে মামলা,
আমাদের অনেকের নামে মিথ্যা মামলা সাজানো হচ্ছে।
বিপ্লবী
ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘বিরোধী দলকে মোকাবিলা করার ক্ষমতা
এই সরকারের নেই। ড. ইউনূসকে এখন প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। রাজনৈতিকভাবে দেশের মানুষ আওয়ামী
লীগকে পরাজিত করেছে। এই সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’
গণসংহতি
আন্দোলনের সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘এই ফ্যাসিবাদী সরকারকে অবিলম্বে নিরপেক্ষ নির্বাচনের
মাধ্যমে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। বেগম খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দি নেতাদের মুক্তি
দিতে হবে। এই সরকার বলে বিরোধী দল নির্বাচনে না এলেও নির্বাচন হবে। তার মানে এই সরকার
আবারও পাতানো নির্বাচন করতে চায়। কিন্তু এদেশে আর কোনো ২০১৮ সালের মতো নির্বাচন হবে
না।’
ভাসানী
অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘বর্তমান সরকার এক তরফা নির্বাচন
করতে চায়। ক্ষমতার এত লোভ পূর্বে আগে কখনও দেখা যায়নি। আপনারা (সরকার) যতই চেষ্টা করেন,
বাংলার মানুষ এক তরফা নির্বাচন মেনে নেবে না। আমরা জীবন দিয়ে হলেও এক তরফা নির্বাচন
প্রতিহত করব।’