প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৩:৪৭ পিএম
আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩ ১৫:৩২ পিএম
জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। প্রবা ফটো
ভিন্নমতকে সহ্য করতে না পারা আওয়ামী লীগের জন্মগত রোগ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
তিনি বলেন, এটা আওয়ামী লীগের নতুন রোগ নয়। এটা আওয়ামী লীগের জন্মগত রোগ। তারা এই রোগে আক্রান্ত। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে না, সমালোচনায় বিশ্বাস করে না, অন্যের অস্তিত্বে বিশ্বাস করে না তাদের আচরণের চেয়ে ভালো আশা করা যায় না
শনিবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
বরখাস্ত হওয়া ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহম্মদ ভূঁইয়া যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসে আশ্রয় চাওয়ার প্রসঙ্গে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, আজকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আশ্রয় চেয়েছে, অনেকে তো দেশ থেকে পালিয়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে। সুতরাং এটার নিন্দা করে লাভ নেই। সরকারের পতন ঘটাতে হবে গণতান্ত্রিক একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করার জন্য। সেই লড়াইয়ে আমরা আছি।
তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অগ্রগতির জন্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই জিয়াউর রহমান ছিলেন সৃজনশীল। উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার জন্য তিনি নানাবিধ উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি প্রথম বাংলাদেশে মহিলা মন্ত্রণালয় গঠন করেন। জাতীয় মহিলা সংস্থাও তিনি গঠন করেন। নারীদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে তাদের দক্ষ করে গড়ে তোলেন। তারা যেন মেধা দিয়ে আত্মনির্ভরশীল থাকতে পারে সে ব্যাপারে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেই উদ্যোগের অংশবিশেষ আজকে দেখবেন পোশাক শিল্পে ৮০ শতাংশ নারী কাজ করে। এমনকি অফিস-আদালতে একজন দক্ষ সেক্রেটারিয়াল জব করার জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছিলেন।
জিয়াউর রহমান দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতেন উল্লেখ করে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের জনসংখ্যার অর্ধেক নারী- সে যদি চুলার পাশে থাকে, তাহলে দেশের উন্নতি করা সম্ভব নয়। প্রত্যেকের জন্য মর্যাদার সঙ্গে কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি করা ছিল তার মূল কাজ। নানা প্রতিবন্ধকতার মাঝেও দেশের জনসংখ্যার ৮৭ শতাংশ মুসলমানদের দেশে সাহসিকতার সঙ্গে তিনিই প্রথম নারীদের সামরিক বাহিনী ও পুলিশ-আনসারে নিয়োগ দেন। তার আমলেই প্রথম নারী পাইলট হয়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, জিয়াউর রহমান একজন নির্লোভ মানুষ ছিলেন। সামরিক বাহিনীর লোক হয়েও বিনা আন্দোলনে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। বহুদলীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বকে নিশ্চিত রাখতে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন। দেশাত্মবোধের উৎসাহ নিয়ে জাতিকে দেশপ্রেমিক সব জনগোষ্ঠীকে একই ছাতার নিচে ঐক্যবদ্ধ করেছেন একটি আদর্শগত লক্ষ্য অর্জনের জন্য। অর্থনৈতিকসহ এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে তিনি শুভ সূচনা করেননি।