আওয়ামী লীগকে গয়েশ্বর
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৩ ১৮:০৩ পিএম
আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৩ ১৮:১০ পিএম
ভোট চুরির জন্য সারা বিশ্ব আওয়ামী লীগকে ধিক্কার জানাচ্ছে দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, জনগণের ক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ে যাওয়ার আগে মানে মানে ক্ষমতা থেকে কেটে পড়ুন, না হলে জনগণ আপনাদের ছাড়বে না।
শুক্রবার (২৫ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে খালেদা জিয়ার মুক্তি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন ও সরকার পতনের একদফা দাবিতে কালো পতাকা মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কালো পতাকা মিছিলের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সালাম। ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক লিটন মাহমুদ ও আনম সাইফুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, মোহাম্মদ শাহজাহান, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।
বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী মিছিলে অংশ নেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকারের মধ্যে ধারণা সৃষ্টি হয়েছে ক্ষমতা ছাড়লে তাদের মারধর করা হবে, বাড়িঘরে হামলা হবে। ভয়ের কারণ নেই। বিএনপি গণমানুষের দল। আওয়ামী লীগের মতো দানবের দল নয়। আমাদের বিবেক বুদ্ধি আছে। তবে যে অন্যায় অত্যাচার করছেন তার জন্য দেশের ১৮ কোটি মানুষ আপনাদের ক্ষমা করবে কিনা জানি না।
তিনি বলেন, আমরা ভাগ চাই না। ভোটের অধিকার চাই। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে জনগণ আপনাদের ভোট দিবে না, এ বিশ্বাস আপনাদের মনে এলো কী করে? কারণ আপনারা দেশের টাকা লুট করেছেন। দেশের তরুণ সমাজ আজ বেকার। দশ লাখ কোটি টাকা লুট করেছেন। তা লুট না করে যদি দেশে শিল্প কারখানা করতেন তাহলে উল্টো বিদেশিরা আমাদের দেশে কাজ করতে আসত।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ আজ অর্ধাহারে, অনাহারে। আরেকদিকে অধিকার হারা। পুলিশ টিয়ার সেল ও গুলি করে আপনাদের ক্ষমতা রক্ষা করতে পারবে না। পুলিশের দায়িত্ব জনগণের জানমালের নিরাপত্তা দেওয়া। অথচ পুলিশ আজ লুটেরাদের পাহারা দিচ্ছে। চোর ডাকাতদের পাহারা দিচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, আমরা এখন আর মৃত্যুকে ভয় পাই না। মরনের শপথ নিয়ে মাঠে নেমেছি। জেলে নিয়ে গুলি করে বিএনপিকে দমন করা যাবে না। আইয়ুব-ইয়াহুয়াও নিরস্ত্র জনগণের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বন্দুক তাক করে লাভ নেই। আমার ওপরও বন্দুক তাক করেছিলেন। ভোট চুরির জন্য আজ সারাবিশ্ব আপনাদের ধিক্কার জানাচ্ছে। জনগণের ক্ষোভ চূড়ান্ত পর্যায়ের যাওয়ার আগে মানে মানে ক্ষমতা থেকে কেটে পড়ুন, নতুবা জনগণ আপনাদের ছাড়বে না।
বিকাল সাড়ে চারটায় নয়াপল্টন থেকে কালো পতাকা মিছিলটি শুরু হয়ে মতিঝিল, ইত্তেফাক, টিকাটুলী হয়ে দয়াগঞ্জ মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।