প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১১ অক্টোবর ২০২২ ১৯:৩৯ পিএম
আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২২ ১১:১২ এএম
মঙ্গলবার রাজধানীতে সিপিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক ও বামজোটের সমন্বয়ক রুহিন হোসেন প্রিন্স। ছবি : প্রবা
নির্বাচনব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও নির্দলীয় তদারকি সরকারের দাবিতে ২২ অক্টোবর শনিবার ঢাকাসহ সারা দেশে গণপদযাত্রা করবে বাম গণতান্ত্রিক জোট।
এ ছাড়া আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপি-দুর্নীতিবাজদের অযোগ্য ঘোষণা, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনব্যবস্থা চালুসহ ১০ দফা দাবি আদায়ে অক্টোবর-নভেম্বরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংগঠন ও ব্যক্তির সঙ্গে মতবিনিময় করবে তারা। পাশাপাশি নভেম্বরজুড়ে বিভাগীয় শহরসহ বিভিন্ন জেলায় জনসভা-সমাবেশ ও বিক্ষোভ কর্মসূচির সিদ্ধান্তও নিয়েছেন এ জোটের নেতারা।
মঙ্গলবার (১১ অক্টোবর) রাজধানীর পল্টনে সিপিবি কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন সিপিবি সাধারণ সম্পাদক ও বাম জোটের সমন্বয়ক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
তিনি জানান, ১৫ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টায় মৈত্রী মিলনায়তনে ‘সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিসহ নির্বাচনব্যবস্থার আমূল সংস্কার-সুষ্ঠু নির্বাচন ও নির্দলীয় তদারকি সরকার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভার আয়োজন করবে বামজোট।
সংবাদ সম্মেলনে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে গায়ের জোরে ক্ষমতায় থাকা সরকার একের পর এক গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটাধিকার আজ নির্বাসিত। দলীয় সরকারের অধীনে ভোটের প্রতি জনগণের বিন্দুমাত্র আস্থা নেই।’
তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হলে সরকারের পদত্যাগ ও সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্দলীয় তদারকি সরকারের অধীনে নির্বাচন ও এ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করতে হবে। এ লক্ষ্যে সব বাম প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর ঐকবদ্ধ হয়ে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার সংগ্রাম একান্ত প্রয়োজন।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, কমিউনিস্ট লীগের আবদুস সাত্তার, বাসদ (মার্কসবাদী) সমন্বয়ক মাসুদ রানা, সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের নির্বাহী সভাপতি আবদুল আলী, সিপিবির সহকারী সাধারণ সম্পাদক মিহির ঘোষ, বাসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতনসহ জোটের নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে বামজোট নেতারা ১০ দফা দাবি জানান। এগুলো হলো—দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নয়; নির্বাচনকালীন দলনিরপেক্ষ তদারিক সরকারের অধীনে কালো টাকা, পেশিশক্তি, সাম্প্রদায়িকতা, আঞ্চলিকতামুক্ত পরিবেশে নির্বাচন; নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিয়ে সরকারের পদত্যাগ; নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও ঋণখেলাপি-ব্যাংক ডাকাত, অর্থ পাচারকারী, কালো টাকার মালিক, দুর্নীতিবাজদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা; না-ভোটের বিধান ও প্রতিনিধি প্রত্যাহারসহ নির্বাচনব্যবস্থার আমূল সংস্কার; সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বমূলক নির্বাচনব্যবস্থা চালু।
অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—সব অগণতান্ত্রিক সংশোধন ও কালাকানুন বাতিল, রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়ন, গুম-খুন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে পুলিশ-মাস্তানদের হস্তক্ষেপ বন্ধ, চাল-আটাসহ ৯টি অত্যাবশ্য়কীয় পণ্যের বেসরকারি বাণিজ্য বন্ধ, রেশনিং চালু, দুর্নীতি, লুটপাট বন্ধ, মজুরি কমিশন গঠনসহ ন্যূনতম মজুরি ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ, সাম্প্রদায়িক রাজনীতি ও রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধ, শিক্ষা-স্বাস্থ্য নিয়ে ব্যবসা বন্ধ, জাতীয় সম্পদের ওপর জনগণের শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত করা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিদেশিদের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সব চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক জনসম্মুখে প্রকাশ এবং দেশের স্বার্থবিরোধী সব অসম চুক্তি বাতিল।
প্রবা/এইচকে/জেও