প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২২ ২০:৫২ পিএম
আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২২ ২১:১৮ পিএম
নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করতে বিএনপির সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছেছে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) ও মুসলিম লীগ।
সোমবার (১০ অক্টোবর) বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে জাগপার সঙ্গে বৈঠক শেষে একথা জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই অবৈধ অনির্বাচিত সরকারের অপসারণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে যে যুগপৎ আন্দোলন গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সে অনুযায়ী ইতোমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে প্রথম দফা কথা বলেছি। এখন যেটি নিয়ে কথা বলছি, তা হচ্ছে আমাদের গণ-আন্দোলনের দফাগুলোকে নির্ধারণের বিষয়।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আলোচনার মূল বিষয় ছিল আন্দোলনের দাবিগুলো নির্ধারণ করা। কমন দাবিগুলো হলো—গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি, রাজনৈতিক কারণে যারা বন্দি আছেন, তাদের মুক্তি। রাজনৈতিক কারণে প্রায় ৩৫ লাখ মানুষের মামলা আছে তা প্রত্যাহার। সরকারের পদত্যাগ, সংসদ বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক অথবা দলনিরপেক্ষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর। তত্ত্বাবধায়ক সরকার নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নতুন নির্বাচন হবে, সেখানে জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করবে। এ ছাড়া আরও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলে আমরা একমত হয়েছি। গণ-আন্দোলনের এ দাবিগুলো নিয়ে আমরা সামনের দিকে অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষ করে ঐক্যবদ্ধ যুগপৎ আন্দোলন শুরু করব।’
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর বলেন, ‘আমরা দীর্ঘক্ষণ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমাদের ২০-দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে সরকারবিরোধী একটা সর্বব্যাপী আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য কী পন্থা উদ্ভাবন করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। আজকের বৈঠকে কীভাবে কী কী বক্তব্য নিয়ে আমরা মাঠে নামব—সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ এ সংগ্রামে আমরা জয়যুক্ত হব।’
সংলাপে বিএনপির পক্ষ থেকে অংশ নেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
অন্যদিকে জাগপা সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান, জাগপা সাধারণ সম্পাদক এসএম শাহাদাত, রকিব উদ্দিন চৌধুরী মুন্না, ডা. আওলাদ হোসেন শিল্পী, আমিনুল ইসলাম বকুল, মুন্সী মফজলুর রহমান, মোহাম্মদ হোসেন মোবারক, মীর আমির হোসেন আমুসহ ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়।
এরপর মুসলিম লীগের সঙ্গে বৈঠক করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মুসলিম লীগের মহাসচিব অ্যাডভোকেট শেখ জুলফিকার বুলবুল চৌধুরীর নেতৃত্বে সংগঠনটির প্রতিনিধি দলে ছিলেন অ্যাডভোকেট আখতার জাহান রুকু, আজিজুল রহমান লিটন, সরওয়ার-ই-আলম খান, ব্যারিস্টার নাসিম খান, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মিনহাজ উদ্দিন, মোশাররফ হোসেন তারা ও মনোয়ার হোসেন।
সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে বিএনপি মহাসচিব মুন্সীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জে দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে নিহত দুই যুবদল কর্মীর পরিবারকে দলের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেন।
অনুষ্ঠানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
জ্বালানি তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে দলীয় কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে গত ২১ সেপ্টেম্বর পুলিশের গুলিতে নিহত হন জেলার যুবদল কর্মী শহীদুল ইসলাম শাওন এবং এর আগে ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিল চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত হয় নারায়ণগঞ্জের যুবদল কর্মী শাওন প্রধান।
অনুষ্ঠানে মুন্সীগঞ্জ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরাফত আলী সপু, যুবদল সভাপতি সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, মোনায়েম মুন্না, মামুন হাসান, কামরুজ্জামান দুলাল, শফিকুল ইসলাম মিল্টন, ইসহাক সরকার, আজিজুর রহমান আজিজসহ দুই জেলার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রবা/আরএম/ এমআই