প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৩ ০০:০৭ এএম
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের তুলনায় সাইবার নিরাপত্তা আইন আরও ভয়ঙ্কর ও বিপদজনক হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রহুল কবির রিজভী।
সোমবার (৭ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের নাম বাদ দিয়ে বিষয়বস্তুতে বড় পরিবর্তন এনে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’ নামে নতুন একটি আইন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নতুন এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
পরে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, প্রস্তাবিত নতুন আইনে সাজা যেমন কমানো হয়েছে, তেমনি অনেকগুলো অজামিনযোগ্য ধারাকে জামিনযোগ্য করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা আইনে সাইবার নিরাপত্তার জন্য যেসব ধারাগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ছিল, সেই ধারা প্রস্তাবিত আইনে অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে। তবে অনেকগুলো ধারা, যেমন মানহানির ধারায় আগে শাস্তি ছিল কারাদণ্ড। প্রস্তাবিত আইনে সেটি পরিবর্তন করে করা হয়েছে জরিমানা।
এ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলে তাদের হাত দিয়ে ভালো কিছু হবে বলে আমি মনে করি না। দেশি-বিদেশি চাপে তারা আইওয়াস হিসেবে এটি করেছে। আমাদের আশঙ্কা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের তুলনায় সাইবার নিরাপত্তা আইন আরও ভয়াবহ ও বিপদজনক হবে।’
এর আগে রুহুল কবির রিজভী লিখিত বক্তব্যে গণতন্ত্র এখন মৃত দাবি করে বলেন, সেজন্যই বিরোধী দলের যেকোনো কর্মসূচিকে বরদাস্ত করছে না অবৈধ সরকার। মিছিলের শব্দ শুনলেই গুলি চালানো হচ্ছে নির্বিচারে, সাপ পেটানোর মতো লাঠিপেটা করা হয় নেতাকর্মীদের। প্রায় প্রতিদিনই পুলিশের ছোঁড়া গুলিতে বিরোধী নেতাকর্মীদের হাত, পা, পিঠ, পাকস্থলীই বিদ্ধ হচ্ছে না, তাদের মহামূল্যবান অঙ্গ চোখ হারিয়ে চিরদিনের জন্য অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে, চেনা পৃথিবী হয়ে যায় তাদের কাছে অচেনা। আজীবন পরিবারের নিকট বোঝা হয়ে দিন কাটাতে হয়, এ বেদনা সহ্য করার মতো নয়। তাদেরকে সহমর্মিতা জানানোর ভাষা খুঁজে পাওয়া যায় না।’
আন্দোলন যাতে তীব্র হতে না-পারে তার জন্য আওয়ামী লীগ সরকার দমনপীড়ণে নতুন মাত্রা যোগ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি আজ আদালতে যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ইসাহাক সরকারসহ ২৭ জন নেতাকর্মীকে দু’বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আমরা আগেই বলেছি, সরকারের নির্দেশে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি অবিলম্বে এই সাজার আদেশ প্রত্যাহারের আহ্বান জানান।
রিজভী দাবি করেন, গত ২৮ ও ২৯ জুলাই মহাসমাবেশ এবং অবস্থান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আহত হয়েছেন প্রায় ৮২০ জন, গ্রেপ্তার হয়েছেন প্রায় ৫০০ জন।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলিম, নির্বাহী কমিটির সদস্য আকরামুল হাসান মিন্টু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।