প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মতবিনিময়
প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ০৬ আগস্ট ২০২৩ ১৬:২৩ পিএম
আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৩ ১৭:৩৬ পিএম
বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার গণভবন থেকে তোলা। ছবি : ফোকাস বাংলা
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের নিয়ে বিশেষ বর্ধিত সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। এতে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পেয়েছেন। তাদের পদচারণায় নিজ সরকারি বাসভবন গণভবন ধন্য হয়েছে– এমন আখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আর দীর্ঘ দিন পর নেত্রীকে কাছে পেয়ে আপ্লুত নেতাকর্মীরা। দলের সভাপতির নির্দেশনা আগামীর রাজনীতির জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন তারা।
গাজীপুর সদর উপজেলা থেকে এসেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম খান। সভার এক ফাঁকে প্রতিদিনের বাংলাদেশের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। জহিরুল বলেন, ‘তৃণমূলের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার প্রশ্নে আপসহীন। তার নেতৃত্বে সমগ্র বাংলার মানুষ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ।’
দলীয় সূত্রে জানা জায়, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এই বর্ধিত সভার আয়োজন করেছে আওয়ামী লীগ। বিশেষকরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের কাছে দলের সভাপতির বার্তা পৌঁছে দেওয়া। এ লক্ষ্যে রবিবার সকাল ১০টায় গণভবনে আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা শুরু হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সভায় যোগ দিতে সকাল থেকে বিভিন্ন জেলা-উপজেলার আওয়ামী লীগ নেতা এবং দল সমর্থিত জনপ্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে প্রবেশ করেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেছেন, আপনাদের পদচারণায় আজ গণভবন প্রাঙ্গণ ধন্য। অনেকদিন পর আপনাদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ হলো। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। মানসিক শক্তিই আওয়ামী লীগের শক্তি। আওয়ামী লীগের কোনো প্রভু নেই। আমাদের কোনো প্রভু নেই। জনগণই আমাদের প্রভু। জনগণের কাছেই আমরা দায়বদ্ধ। জনগণের ভোটের অধিকার সুরক্ষিত করতে আওয়ামী লীগই সংগ্রাম করেছে। জনগণই ভোটের মালিক, আওয়ামী লীগকে ভোট দিলেই উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা নিয়ে চলতে পারবে এদেশের মানুষ।
তার বার্তা নেতাকর্মীদের কাছে পরিষ্কার, বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এগিয়ে নিতে আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার আহ্বান। তারা মনে করছেন, তাদের এখন দায়িত্ব হলো উন্নয়নের এই বার্তা প্রত্যেক মানুষের মাঝে পৌঁছে দিতে হবে। শেখ হাসিনাকে তারা আবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য হাবিবুর রহমান সিরাজ বলেন, ‘এখানে তৃণমূল নেতাকর্মীরা এসেছেন। জাতীয় নির্বাচনের আগে এ রকম সভা আর হবে না। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বিভিন্ন সাংগঠনিক জেলার নেতাদের বক্তব্য শুনেছেন। সেগুলো তিনি নোট ডাউন করে রেখেছেন। আগামী নির্বাচন নিয়ে ফখরুল সাহেবরা (বিএনপি মহাসচিব) ষড়যন্ত্র করছেন, সাংগঠনিকভাবে সেই ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে জনগণকে তার পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করার ব্যাপারে দলীয় নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন নেত্রী।’
খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদ বলেন, ‘নেত্রীকে বলেছি, আপনার হাতে আবার দেশের প্রধানমন্ত্রিত্ব তুলে দিতে চাই। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি।’
গাজীপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম খান বলেন, ‘গত ১৪ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার মানুষের জন্য যা করেছে, তা স্বাধীনতার পরে আর কেউ করতে পারেনি। বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন। তারা ক্ষমতায় এলে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি হবে। বাংলাদেশের জনগণ শান্তি ও উন্নয়নের পক্ষে।’
তিনি বলেন, ‘আজকের সভাটি আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আমরা মাঠ পর্যায়ে ঐক্যবদ্ধ আছি। যিনি নৌকা প্রতীক পাবেন তার সঙ্গে কাজ করে বিজয়ী করব। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। আমাদের চলার পথ মসৃণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।’