বগুড়া ব্যুরো
প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২২ ২০:২৮ পিএম
আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২২ ২০:৫৬ পিএম
বগুড়া জেলা বিএনপির কার্যালয়। ছবি : প্রবা
বগুড়ায় জেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে হার্ড লাইনে যাচ্ছে বিএনপি। ওই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত পৌরসভায় মেয়র, কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্য পদে থাকা দলীয় নেতাদের ভোট দিতে নিষেধ করা হয়েছে। গত শুক্রবার (৭ অক্টোবর) জেলা বিএনপির জরুরি সভা থেকে ওই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
দলীয় সূত্র জানায়, ওই সভায় আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় জেলা পরিষদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করার কথা জানিয়ে বলা হয়, নির্দেশনা অমান্য করে কেউ ভোট দিতে গেলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সভায় আগামী ২৭ অথবা ৩১ অক্টোবর জেলা বিএনপির সম্মেলন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও স্থানীয় পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোট না দেওয়ার জন্য আমাদের দল থেকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে নজরদারিও করা হচ্ছে। আশা করি তারা ওই নির্দেশনা মেনে চলবেন।’
বগুড়া জেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটার তালিকায় উপজেলা, পৌরসভা এবং ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচিত ১ হাজার ৬২৫ জনপ্রতিনিধির নাম রয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন মারা গেছেন। ভোটারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ৪১৭ জন ইউনিয়ন পরিষদের জনপ্রতিনিধি। পৌরসভার রয়েছে ১৭২ জন এবং বাকি ৩৬ জন উপজেলা পরিষদের।
দলীয় সূত্রগুলো জানায়, উপজেলা পরিষদে এবার বিএনপিদলীয় কোনো জনপ্রতিনিধি নেই। আর পৌরসভায় রয়েছে হাতেগোনা কয়েকজন। তবে ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে চেয়ারম্যান, সদস্য এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে দলের বিপুল সংখ্যক নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের ভোট পেলে জয় নিশ্চিত এমন ধারণা থেকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সদস্য এবং সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা বিএনপির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে টানার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ অক্টোবর জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মকবুল হোসেন এবং অপর দুই সদস্য প্রার্থীর প্রচারে নিশিন্দারা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এবং ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম সরকারকে দেখা যায়।
এর আগে গত ২৬ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ সমর্থিত দুই সদস্য প্রার্থীর প্রতীক বিতরণের দিন তাদের সঙ্গে বিএনপি নেতা সহিদুল ইসলাম ছাড়াও একই দলের অপর তিন নেতা সদরের এরুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান আতিক, লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার আপেল মাহমদ এবং সাবগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফরিদ উদ্দিন সরকারকে ফটোসেশনে অংশ নিতে দেখা যায়। ছবিটি পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে জেলা বিএনপির নেতারা ক্ষুব্ধ হন। পরে ওই চার নেতাকে গত ৬ অক্টোবর শোকজ করা হয়। তাদেরকে দিন দিনের মধ্যে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে। তবে জবাব সন্তোষজনক না হলে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ওই চারজনের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলী আজগর তালুকদার হেনা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছেন, দলীয়ভাবে জেলা পরিষদ নির্বাচন বর্জন করা হয়েছে। কিন্তু তারপরও যারা ওই নির্বাচনে প্রচার বা ভোট প্রদান কিংবা অন্য কোনোভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, ‘এরই মধ্যে চারজনকে শোকজ করার মধ্য দিয়ে দলের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে একটি কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে। যদি এরপরও কেউ জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রচার কিংবা ভোট প্রদান কার্যক্রমে অংশ নেয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও স্থানীয় পৌরসভার মেয়র রেজাউল করিম বাদশা প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা ২৯ অক্টোবর সম্মেলন করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওইদিন রংপুরে বিভাগীয় সমাবেশ থাকায় ২৭ অথবা ৩১ তারিখে সম্মেলন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই দুই দিনের মধ্যে কেন্দ্র থেকে যে দিন নির্ধারণ করা হবে, সেই দিনই সম্মেলন করা হবে।’