প্রবা প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৫ অক্টোবর ২০২২ ১৭:২১ পিএম
আপডেট : ০৫ অক্টোবর ২০২২ ১৭:৩৪ পিএম
রুহুল কবির রিজভী। ফাইল ফটো
ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সুলতানা কামালের সাক্ষাৎকারের নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল মানবাধিকারকর্মী নন, তার সঙ্গে যারা আছেন তারা সবাই আওয়ামী অধিকার রক্ষার কর্মী।
নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে বুধবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে তিনি এসব কথা বলেন।
মানবাধিকারকর্মী আইনজীবী সুলতানা কামাল সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বিএনপি কর্তৃক মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাজানো ঘটনাগুলো ইতোমধ্যেই তাদের ভাবমূর্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। দলটির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেছেন, মানবাধিকার বিষয়ে বিএনপির মিথ্যার ইতিহাস রয়েছে।
সুলতানা কামালের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘সুলতানা কামাল মানবাধিকারকর্মী নন, তিনি আওয়ামী অধিকার রক্ষার কর্মী। তিনি বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে নন। তিনি আওয়ামী লীগের স্বার্থেই কথা বলেছেন।’
রিজভী বলেন, ‘সুলতানা কামাল চান গুমের সংস্কৃতি চালু থাক। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ চালু থাক। অন্য দেশের সংস্কৃতি এখানে চালু থাক। সেজন্যই মানুষ হত্যাকারী দুর্বিনীত শাসককে মদদ দিচ্ছেন। আমি তার সাক্ষাৎকারের তীব্র নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। ওদিকে ভোলা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ ও যশোরে আমাদের নেতাকর্মীদের গুলি করে মারা হচ্ছে। বিএনপি আন্দোলন করছে মানুষের জন্য।’
বিক্ষোভ সমাবেশে দলের সমর্থকদের উজ্জীবিত করার জন্যও বক্তব্য দেন রিজভী। সমর্থকদের দাবি আদায়ে রাজপথে থাকার আহ্বান জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘আপনারা মার খাবেন কিন্তু পিছু হটবেন না। যেখানেই মার খাবেন সেখানেই বসে পড়বেন। তারপর শুরু হবে নতুন কঠোর কর্মসূচি। দাবি আদায়ের জন্য আপনাদের রাজপথেই থাকতে হবে।’
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের অভিযোগ, বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে সকালে আয়োজিত তাদের সমাবেশ করতে দেয়নি পুলিশ। সকাল সাড়ে ১০টার এ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহল কবির রিজভী থাকার কথা ছিল।
শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া বলেন, ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আমরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু নেতাকর্মীদের প্রেস ক্লাবের সামনে জড়ো হতে বাধা দেয় পুলিশ।’
তিনি বলেন, ‘তারা বিভিন্নভাবে ভীতি প্রদর্শন করে ও আমাদের কর্মসূচির ব্যানার কেড়ে নেয়। একপর্যায়ে নেতাকর্মীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে আমরা নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচি পালন করছি। এখানেও পুলিশ বাধা দিয়েছে। আমাদের মাইক কেড়ে নিয়েছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ওসি নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘মেট্রোপলিটন সিটিতে সভাসমাবেশ করতে হলে আগে অনুমতি নিতে হয়। এরকম অনুমতি তাদের ছিল না। তাদের অনুমতি নিয়ে আসতে বলা হয়েছে।’
রিজভী এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘আজ শিক্ষকদের সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি। আমি এর নিন্দা ও ধিক্কার জানাই। সরকার মনে করছে বিএনপি নেতাকর্মীদের মেরে কবরে পাঠালেই আমরা থেমে যাব। কিন্তু না। সারাদেশে আমাদের নেতাকর্মীরা আরও বেশি উজ্জীবিত।’
অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়ার সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, মীর সরফত আলী সপু, কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম, আমিনুল ইসলাম, মৎস্যজীবী দলের মো. আবদুর রহিম, ওলামা দলের অধ্যক্ষ নজরুল ইসলামসহ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের নেতারা। এ সময় বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শতাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
প্রবা/রাই/টিকে/টিই