দীপক দেব
প্রকাশ : ০৯ জুলাই ২০২৩ ১১:০৬ এএম
আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৩ ১২:১৪ পিএম
প্রতীকী ছবি
বহিষ্কার ও পাল্টা বহিষ্কারের মধ্যে ভাঙনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে গণতন্ত্রী পার্টি। ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থী ঘোষণাকে কেন্দ্র করে পার্টির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দুই পক্ষের মধ্যে চলমান বিরোধ সামনে আসে। তারপর বহিষ্কার ও পাল্টা বহিষ্কারের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণার ঘটনা ঘটে।
শনিবার ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের সেমিনার হলে স্থগিত হওয়া প্রতিনিধি সম্মেলনের মধ্য দিয়ে সাধারণ সম্পাদকের পক্ষ নতুন কমিটি ঘোষণা করে। এই জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে ডা. শাহাদাত হোসেনকে সভাপতি ও প্রকৌশলী কামরুল আহসান খান পারভেজকে সাধারণ সম্পাদক করে ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। এই সম্মেলনকে অবৈধ ঘোষণা করেছে সভাপতির পক্ষ। তাদের দাবি, পার্টির পক্ষ থেকে আগামী ১২ জুলাই সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন ঘোষণা করা হয়েছে। এজন্য ডা. শাহাদাত কয়েকজন দলছুট নেতাকে নিয়ে তড়িঘড়ি এই সম্মেলনের আয়োজন করেছেন, যার কোনো ভিত্তি নেই।
গত ২৬ জুন নিয়মবহির্ভূতভাবে পার্টির সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় এমন অখ্যাত ব্যক্তিকে ঢাকা-১৭ আসনের উপনির্বাচনে দলীয় প্রার্থী করায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নসহ চক্রান্তের অভিযোগে গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ব্যারিস্টার আরশ আলীকে সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতিমণ্ডলীর দুই সদস্য অধ্যাপক ডা. শহিদুল্লাহ শিকদার ও অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলনকে পার্টির প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার কথা জানানো হয়। এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে ১ জুলাই পার্টির সভাপতি জরুরি বৈঠক ডেকে প্রায় একই অভিযোগে পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী কামরুল আহসান খান পারভেজকে পাল্টা বহিষ্কার করেন।
এরই মধ্যে গত শনিবার জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলন ডেকে নতুন কমিটি ঘোষণা করে সাধারণ সম্পাদক পক্ষ। এদিন সংগঠনের নামে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৮ জুলাই ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের সেমিনার হলরুমে গণতন্ত্রী পার্টির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রকৌশলী কামরুল আহসান খান পারভেজের সভাপতিত্বে স্থগিত জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে ডা. শাহাদাত হোসেনকে সভাপতি, প্রকৌশলী কামরুল আহসান খান পারভেজকে সাধারণ সম্পাদক, মাহমুদুর রহমান বাবু, বাবুল দে, কানন আরা, এমএ গনি, আনিসুর রহমান কচি, অশোক ধর, হামিদুল হক দোদুল, যুগল সরকার, শহীদুল ইসলাম বাবলু, প্রদ্যুত রায়, এসএম বাবর, কেজি মহিউদ্দিন বাদল, ডা. মানস কুমার গোস্বামীসহ ১৬ সদস্যবিশিষ্ট সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং ইলিয়াস কবির রানা, আব্দুর রাজ্জাক, মিনহাজ সেলিমকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জাহেদ আজাদ আমিন, সমীর চক্রবর্তী, রফিক উদ্দিন চৌধুরী স্বপন, খন্দকার মঞ্জুরুল কবির মিল্লাত, এসএম মামুন, ইব্রাহিম জুয়েল, হাফিজুর রহমান মিন্টু, ড. নাজমুল করিম, নজরুল ইসলাম, অপু দেবনাথ, ইদ্রিস আলী মোল্লা, আতাউর রহমান বাবুল, আব্দুল মালেক, বাপ্পি, জয়নাল আবেদীন বাবলুসহ ১৭ সদস্যবিশিষ্ট সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, আকতার হোসেন চৌধুরী, আল মামুন রয়েল, নোমান চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, জেসমিন প্রেমা, অবনি অনিমেষ, উত্তম কুমার রায়সহ ১০১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি করা হয়।
সম্মেলনে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় মূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধসহ কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
এদিকে এই সম্মেলন আহ্বানের সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে গণতন্ত্রী পার্টির সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট ভূপেন্দ্র ভৌমিক দোলন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, এই সম্মেলন সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। গণতন্ত্রী পার্টির সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন আগামী ১২ জুলাই রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে ২০২২ সালের ৩ ডিসেম্বর সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, কমিটিতে যাদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে তাদের অধিকাংশ তথাকথিত এই সম্মেলনের সঙ্গে কোনোভাবে ছিলেন না।
সদ্য ঘোষিত কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন প্রতিদিনের বাংলাদেশকে বলেন, তারা (সভাপতি পক্ষের নেতারা) এই প্রতিনিধি সম্মেলন নিয়ে প্রশ্ন তুলবেনই। দলের মধ্যে চক্রান্তের অভিযোগে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে, এজন্যই তারা এই প্রতিনিধি সম্মেলনকে অবৈধ বলছেন। ২০২২ সালের ৩ ডিসেম্বরের সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় আজকের প্রতিনিধি সম্মেলন নিয়মতান্ত্রিকভাবেই অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।