প্রবা প্রতিবেদক
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০২৩ ১৬:০৬ পিএম
আপডেট : ১৯ জুন ২০২৩ ১৬:৫৭ পিএম
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সোমবার সমাবেশ করে গণতন্ত্র মঞ্চ। প্রবা ফটো
বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আসন্ন ঈদুল আজহার পর গণ-আন্দোলন গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছে গণতন্ত্র মঞ্চ। জোটের নেতারা বলছেন, এজন্য গণ-আন্দোলনের সব রূপ প্রয়োগ করা হবে। আর এটির মাধ্যমে আগামী ৩ মাসের মধ্যে সরকারের পতন অনিবার্য দেখছেন তারা।
সোমবার (১৯ জুন) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব জানান জোটের নেতার। বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতে সংকট, দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতির প্রতিবাদ জানাতে এ কর্মসূচি পালন করে গণতন্ত্র মঞ্চ।
এতে বক্তব্য দেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণতন্ত্র মঞ্চের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজু প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক হাসনাত কাইয়ূম।
আ স ম আব্দুর রব বলেন, ‘এ সকারকে ক্ষমতা ছাড়তে হবে। গণ-আন্দোলনের যত রূপ আছে, সব প্রয়োগ করা হবে। এ লড়াই গরিব মানুষকে বাঁচানোর লড়াই। এ লড়াই স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বাঁচানোর লড়াই। এ লড়াই মানবাধিকারের লড়াই। এ লড়াই জিততে হবে।’
মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘ক্ষমতা ছাড়ার কথা সরকার বাহানা খুঁজে। তারা সংবিধান দেখায়। তারা ক্ষমতা ছেড়ে দেবে বললে আমরা পথ দেখিয়ে দেব, কীভাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ছেড়ে দিয়ে মুক্তির পথে চলতে হয়।’
সাইফুল হক বলেন, ‘সরকারের অবস্থা এখন বিরাট বটবৃক্ষের মতো। কোনো শিকড় নেই। বড় একটা ধাক্কা দিলে ভেঙে পড়তে পারে। এখনও বলছি, সোজা পথে হাঁটেন। নিরাপদ পথে সরে গিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। সংকট সমাধানের পথে কী করবেন, তা বলুন। না হয় ঈদের পরে গণজাগরণ, গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের জনগণ আপনাদের বিদায় করে ছাড়বে।’
জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘সরকার বিদ্যুৎ সংকট সমাধানের নামে দেশের টাকা লুটপাট করেছে। কুইক রেন্টালের নামে লাখ-লাখ টাকা ক্যাপাসিটি চার্জ দিচ্ছে। এসবের দায়ভার জনগণের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। দুর্নীতি ঢাকতে সরকার লুটের ভাগ দিচ্ছে।’
সমাবেশ থেকে জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন হাসনাত কাইয়ুম। তিনি বলেন, সরকারের পদত্যাগসহ গণতন্ত্র মঞ্চের ১৪ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী আগামী ১৯ থেকে ২১ জুলাই ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে রোড মার্চ পালন করা হবে।
সমাবেশ শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘেরাও করতে সচিবালয় অভিমুখে যাত্রা করলে নূর হোসেন স্কয়ারে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। ব্যারিকেড ভেঙে এগোতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে গণতন্ত্র মঞ্চের কর্মীদের ধস্তাধস্তি হয়।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পুলিশের নিউমার্কেট জোনের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) শাহেন শাহ বলেন, ‘সচিবালয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এখানে হুট করেই কেউ মিছিল নিয়ে আসতে পারে না। এটির সামনে কেউ সমাবেশ করতে পারে না। আমরা ধৈর্যের সঙ্গে তাদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেছি। আমাদের কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন।’